ব্রেকিং

x

অটোগ্যাসের একক বাজার নিয়ে শঙ্কা

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ | 29 বার

অটোগ্যাসের একক বাজার নিয়ে শঙ্কা
ফাইল ছবি

পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে সারা দেশে শুরু হয়েছে অটোগ্যাস বা এলপিজির ব্যবহার। দেশের বেসরকারি খাত এককভাবে অটোগ্যাস বিক্রি করছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বা তেল বিপণনের সরকারি কোনও কোম্পানি সেভাবে অটোগ্যাসের সম্প্রসারণে যুক্ত হয়নি। বিপিসি বলছে, তারা সবেমাত্র অটোগ্যাসে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পরিকল্পনা করছে। এই পরিস্থিতিতে এককভাবে পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে অটোগ্যাস ব্যবহারে জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রপেন এবং বিউটেনের মিশ্রনে তৈরি করা হয় তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। গৃহস্থালির জ্বালানি হিসেবে অনেক দিন থেকেই দেশে যার ব্যবহার হচ্ছে। গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজিকে বলা হয় অটোগ্যাস। এই গ্যাস সারা বিশ্বেই অকটেন এবং পেট্রোল চালিত গাড়ির বিকল্প জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয়।

দেশের পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে এখন ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, সিএনজি এবং অটোগ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, সিএনজি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে। এই জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণও সরকারই করে থাকে। কিন্তু কেবল অটোগ্যাস বিক্রি করে বেসরকারি খাত। এই জ্বালানির দামও তারা নিয়ন্ত্রণ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এলপিজি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জনভোগান্তির নানা চিত্র প্রায়ই উঠে আসে। এর মধ্যে হরহামেশা দাম বৃদ্ধির সঙ্গে অতিরিক্ত দরে এলপিজি বিপণনের অভিযোগ রয়েছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। সরকার বারবারই বলে আসছে, দেশের মোট ব্যবহৃত এলপিজির মাত্র দুই শতাংশ বিক্রি করে বিপিসি। ফলে বিপিসির পক্ষে দুই শতাংশ এলপিজি বিক্রি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আশঙ্কা হচ্ছে অটোগ্যাস নিয়েও। অটোগ্যাসে সরকারি অংশগ্রহণ যদি নামমাত্র মূল্যে হয় সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে পরিবহনের জ্বালানির দর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও সরকারের হাতের বাইরে চলে যাবে।

দেশে এখন প্রতি লিটার অটোগ্যাস ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উদ্যোগ নিলে এই অটোগ্যাসের দাম আরও কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এর বিপরীতে সিএনজি বিক্রি হয় প্রতি ঘনমিটার ৪৪ টাকায়। আর অকটেনের দাম লিটার প্রতি ৮৯ টাকা। অকটেনের তুলনায় অটোগ্যাসের দাম কম। আবার এক ঘনমিটার সিএনজির চেয়ে এক লিটার অটোগ্যাসে দ্বিগুণ পথ চলা সম্ভব। ফলে এই হিসেবে অটোগ্যাস জনপ্রিয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করছেন, ভবিষ্যত বাংলাদেশে সিএনজি এবং অকটেনের বিকল্প হয়ে উঠবে অটোগ্যাস। অন্য হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া অন্য এলাকায় তেমন সিএসজি স্টেশন নেই। সাশ্রয়ী হওয়ায় দেশের বড় একটি অংশে অটোগ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, অটোগ্যাসের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। এখনই বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত। না হলে ভবিষ্যতে গৃহস্থালির এলপিজির মতোই অটোগ্যাস নিয়ে ভুগতে হবে।

সূত্রগুলো বলছে, দেশের যেসব কোম্পানি এলপিজি বিপণন করে, তারাই অটোগ্যাসও বিক্রি করে। এজন্য পেট্রোল পাম্পের মধ্যে অথবা আলাদা করে অটোগ্যাস স্টেশনও করছে অনেকে। আর সরকারও অটোগ্যাসের অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাছবিচার করছে না। ফলে চাইলেই এখন সহজে অটোগ্যাস বিক্রির অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘এতে জ্বালানি নিরাপত্তা অবশ্যই বিঘ্নিত হবে। এমনিতেই এলপিজির দামে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেষ্টা করছে। কিন্তু এর মধ্যে দাম বাড়িয়ে বসে আছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। একইভাবে অটোগ্যাসও নিয়ন্ত্রণ করছে তারাই। ফলে সরকারি কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই কোনও নীতিমালা। এটি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা দরকার। এখন অল্প কয়েকটি স্টেশন হলেও ভবিষ্যতে বাড়বে। তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

এদিকে বিপিসির চেয়ারম্যান সামছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার অর্থাৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয় সারা বাংলাদেশে বসুন্ধরা, ওমেরা, এনার্জিপ্যাক, বেক্সিমকোসহ মোট ছয়টি কোম্পানিকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অটোগ্যাস ইন্সস্টলেশনের অনুমতি দিয়েছে। তারা বিস্ফোরক পরিদফতরের অনুমতি নিয়ে যেসব ফিলিং স্টেশনে অটোগ্যাস ইন্সটলেশনের সুবিধা আছে সেখানে স্থাপন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ওই ফিলিং স্টেশনকে অটোগ্যাস কোম্পানি একটি রয়েলিটি দেবে।’

বিপিসি এলপিজি বাজারজাত করছে, কিন্তু অটোগ্যাস কেন করছে না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নীতিনির্ধারকদের বিষয়। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই আমরা অনুমতি দিয়েছি। অন্যদিকে অটোগ্যাস আনার মতো অবকাঠামো আমাদের এখনও হয়নি। মাতারবাড়ি ও মহেশখালীতে আমরা এলপিজি আমদানি করে এনে সেখানে স্টোরেজের ব্যবস্থা করছি। এছাড়া লতিফপুরে ১০ একরের মতো জায়গা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এগুলো পর্যাপ্ত নয়। যেহেতু উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি চলছে, তাই সরকার হয়তো বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এই অনুমতি দিয়েছে।’

জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে জ্বালানি বলতে অনেক কিছু বোঝায়। পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট হিসেবে অটোগ্যাস আমাদের মধ্যেই পড়ে। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা তো করছি। বেসরকারি উদ্যোগে এলপিজি তো বোতলীকরণ হচ্ছে। আমরাও করছি। অটোগ্যাস নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা আছে। তবে আমাদের আসতে অনেকদিন সময় লাগবে।’

Development by: webnewsdesign.com