ব্রেকিং

x

অন্ধকারে জ্বালানি খাত

বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ১:১৪ অপরাহ্ণ |

অন্ধকারে জ্বালানি খাত
ফাইল ছবি

দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয়। রান্নার গ্যাস অর্থাৎ বোতলজাত এলপিজির চাহিদাও মেটানো হয় আমদানি করে। কয়েক বছর ধরে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকহারে আমদানি করা হচ্ছে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)।

কয়লাও আমদানি হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য। এভাবে পুরো জ্বালানি খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে। অথচ দেশে বড়পুকুরিয়া ছাড়া কয়লা খনিগুলো অলস পড়ে আছে। সেই কয়লা তোলার কোনো গরজ নেই।

সাগর ও স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধানেও নেই কার্যকর তৎপরতা। দেশীয় কয়লা ও গ্যাসসম্পদ রেখে এখন আমদানিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো দেশীয় এই কয়লা আর কাজে আসবে না। কারণ কয়লার ব্যবহার বিশ্বব্যাপী নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশ্নেষকরা বলছেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক সাফল্য দেখালেও গ্যাস, কয়লাসহ জ্বালানি খাত এখনও অন্ধকারে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালেই সাগরের গ্যাস তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে কার্যকর উদ্যোগও নিয়েছিলেন। শুরু হয়েছিল অনুসন্ধান কাজ। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ঘাতকের বুলেটে সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ওই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের আমলে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো ফল পাওয়া যায়নি। একমাত্র সফলতা সাগরতীরে অর্থাৎ অগভীর অংশে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র। এখান থেকেও গ্যাস তোলা শেষ হয়ে গেছে ২০১৩ সালে। আন্তর্জাতিক আদালতে ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর সর্বমোট এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চলের মালিক হয় বাংলাদেশ।

বিশাল এই সমুদ্র এলাকার সম্পদ আহরণে এখনও তেমন অগ্রগতি নেই। যদিও মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরের গ্যাস তুলে তা রপ্তানি করছে। ভারতও তাদের প্রান্তে গ্যাস আবিস্কার করেছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে সাগরে ব্লক করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিদেশি কোম্পানি কমবেশি সাড়াও দিয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত তেল বা গ্যাস আবিস্কারের ঘোষণা আসেনি।

উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুমোদনের পর চলতি বছরের শেষ দিকে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করার কথা ছিল পেট্রোবাংলার। করোনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতনের ফলে কোনো বড় কোম্পানির এ কাজে এগিয়ে আসা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সূত্র বলছে, করোনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সাগরে গ্যাস পাওয়া গেলে সেখানে যে উৎপাদন খরচ পড়বে, তার চেয়ে কম দামে বাংলাদেশ গ্যাস আমদানি করতে পারবে। ফলে বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে কোনো খ্যাতনামা কোম্পানি অনুসন্ধানে রাজি হবে বলে মনে হয় না।

বর্তমানে সাগরে মাত্র চারটি ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি ঢিমেতালে কাজ করছে। অন্য ২২টি ব্লক অলস পড়ে রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্যে জানা যায়, ভারতের ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড অগভীর সমুদ্রের ব্লক এসএস-০৪ এবং এসএস-০৯-এ মোট ৫ হাজার ৮১ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ ও ডাটা পর্যালোচনার কাজ করেছে।

ব্লক এসএস-০৪ ও ১টি অনুসন্ধান কূপ (কাঞ্চন-১) খনন কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে কূপের খননকাজ শুরু হতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খননকাজও শুরু করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া আগামী বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসএস-০৪ আরও একটি অনুসন্ধান কূপ এবং ব্লক এসএস-০৯-এ ১টি অনুসন্ধান কূপ খননের কথা ছিল। এজন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জিওটেকনিক্যাল সার্ভের সরঞ্জাম আমদানির কাজ শুরু হয়। করোনার কারণে ক্রু আসতে না পারায় ভেসেল মুভ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।

দেশে গ্যাসের ঘাটতি নতুন কোনো বিষয় নয়। শিল্প, বাণিজ্য, আবাসিকসহ সব খাতেই এই জ্বালানির জন্য হাহাকার রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে চার গুণ বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো কোনো কার্যক্রম কখনোই ছিল না। স্থলভাগেও অনুসন্ধান কাজ চলছে ঢিমেতালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে গভীর সাগরের গ্যাস গভীরেই থেকে যাচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস ব্লক :বঙ্গোপসাগরের অগভীর ও গভীর অংশকে মোট ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে অগভীর অংশে ব্লক ১১টি, গভীর সমুদ্রে ১৫টি। অগভীর সমুদ্রের ৯ নম্বর ব্লকে ১৯৯৬ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করে কেয়ার্নস এনার্জি, যা দেশের একমাত্র সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে গ্যাসক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় সাগরতীরে গ্যাসের সন্ধান মিললেও তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য বিবেচিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল-গ্যাস কোম্পানি কনোকোফিলিপস ২০০৮ সালে গভীর সমুদ্রের ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ নম্বর ব্লক ইজারা নিয়েছিল। দুই বছর অনুসন্ধান করার পর গ্যাসের দাম নিয়ে মতভেদের কারণে ২০১৪ সালে ব্লক দুটি ছেড়ে দেয় তারা।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ডাকা অন্য আরেক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১ এই তিন ব্লকের জন্য যৌথভাবে দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছিল কনোকো ও স্টেট অয়েল।

পরবর্তী সময়ে কনোকো সরে যাওয়ায় ব্লকগুলো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোর জন্য ভিন্ন একটি দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। এই দরপ্রক্রিয়ায় একমাত্র প্রস্তাবদাতা হিসেবে এসএস ১১ নম্বর ব্লক সান্তোস ও ক্রিস এনার্জি এবং এসএস ৪ ও এসএস ৯ নম্বর ব্লক ভারতীয় দুটি কোম্পানি ওএনজিসি বিদেশ (ওভিএল) ও অয়েল ইন্ডিয়া (ওআইএল) ইজারা নিয়েছে।

বাকি ব্লকগুলো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আগ্রহপত্র চায় পেট্রোবাংলা। সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো দাইয়ু ও নরওয়ের স্টেট অয়েল এতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে প্রস্তাব চাওয়া হলে ১২ নম্বর ব্লকের জন্য শুধু দাইয়ু প্রস্তাব দাখিল করে। দীর্ঘ আলোচনার পর গত বছরের ডিসেম্বরে ডিএস ১২ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দাইয়ু করপোরেশনের সঙ্গে উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সই করে পেট্রোবাংলা। দাইয়ু এই ব্লকের পাশেই মিয়ানমারের একটি ব্লকে গ্যাস তুলছে। করোনায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কমে যাওয়ার অজুহাতে সম্প্রতি সান্তোস ও দাইয়ু এই গ্যাস ব্লক ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্লু ইকোনমি সেল :সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তির পর বিশাল সমুদ্রসম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান, গবেষণা ও উত্তোলন তদারকির জন্য গত বছর ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়। এ সেলের জনবল নিয়োগ এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় কর্মকর্তাসহ বর্তমানে মোট জনবল ১০ জন। কয়েকটি বৈঠক ছাড়া এ শাখার তেমন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

মিয়ানমার গ্যাস তুলছে :২০১২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার দ্রুত তাদের গ্যাস ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ২০১৬ সালে থালিন-১ নামক ব্লকে গ্যাসপ্রাপ্তির ঘোষণা দেয় মিয়ানমার। থালিন-১-এ সাড়ে চার ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। এখান থেকে গ্যাস তুলে মিয়ানমার রপ্তানি করছে।

পিছিয়ে নেই ভারতও :বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় অংশের কৃষ্ণা-গোদাভারী বেসিন এলাকায় প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে বলে আশা করছে ভারত। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি, গুজরাট এস্টেট পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বেসরকারি গ্রুপ রিলায়েন্স ওই এলাকায় জোরালো অনুসন্ধান কাজ করছে।

প্রসঙ্গ কয়লা :বাংলাদেশে আবিস্কৃৃত পাঁচটি কয়লাক্ষেত্রে প্রায় ৭৯৬ কোটি টন মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে বড়পুকুরিয়ায় ৩৯, থফুলবাড়ীতে ৫৭, দিঘিপাড়ায় ৮৬, খালাসপীরে ৬৮ এবং জামালগঞ্জে ৫৪৫ কোটি টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, যদিও তা এখন বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানার পায়রায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হয়েছে। আমদানি করা কয়লা দিয়ে এটা চালানো হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানার রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়ীতে জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানার এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। নির্মাণাধীন তিন হাজার ৮০০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দৈনিক প্রয়োজন হবে ৩৮ হাজার টন কয়লা। বার্ষিক চাহিদার পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টন।

এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ৭০০ মেগাওয়াট, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি-সিপিজিসিবিএল ও জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে মাতারবাড়ীতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট, তেনেগা মালয়েশিয়া ও পিডিবি মহেশখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) ও নোরিনকো চায়না পটুয়াখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে সরকার বেশ কয়েকটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র মাস্টার প্ল্যান থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞ মত :কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কোনো উন্নয়ন নীতি নেই। এক সময় বলা হলো- গ্যাস রপ্তানি করা হবে। পুরো এক দশক গ্যাস রপ্তানির চেষ্টা হলো। এ সময়ে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে নজর দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিদেশি কোম্পানির কাছে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়া হলো। মাগুরছড়া, টেংরাটিলার মতো দুর্ঘটনা ঘটল। পরবর্তী সময়ে স্থলভাগে ছোটোখাটো কিছু উন্নয়ন কূপ হলেও অনুসন্ধানে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করতেই দশক পেরিয়ে যাচ্ছে। যেসব কোম্পানি অল্প হলেও কাজ শুরু করেছিল তারাও চলে যাচ্ছে।

আমাদের জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এলপিজি আর এলএনজি আমদানিকে উৎসাহিত করছে সরকার। সমুদ্রে যদি কোনো কোম্পানি গ্যাস পায় তা স্থলভাগে এনে বিক্রি করতে যে খরচ হবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তার চেয়ে কম দামে এলএনজি মিলবে। বিক্রির নিশ্চয়তা না থাকলে কেউ সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করবে না।

ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি খাত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। এখন কয়লাও আমদানি হচ্ছে। বাপেক্স অল্প কিছু কাজ করছে তাতেও বাধা আসছে। বাপেক্সের ভোলাক্ষেত্র অযৌক্তিকভাবে বিদেশি কোম্পানির কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বক্তব্য :প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সমকালকে বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমে যাওয়ায় বিদেশি কোম্পানিগুলো বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কাজ করতে চাইছে না। তারা গ্যাসের দাম বাড়াতে বলছে।

একটা চুক্তি হয়ে গেলে তা পাল্টানো যায় না। নতুন মডেল পিএসসিতে (উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি) গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জুনের মধ্যেই টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সব পরিকল্পনা ওলটপালট হয়ে গেছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানির সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। দাম কম থাকায় বিকল্প হিসেবে এলএনজি আমদানি হচ্ছে।

প্রয়োজন অনুসারে এই আমদানি যাতে বাড়ানো যায় সেই উদ্যোগও রয়েছে। -সমকাল

Development by: webnewsdesign.com