ব্রেকিং

x

অসহায় বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত সংগ্রহের চেয়ে বিতরণে সুদহার কম

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | 113 বার

অসহায় বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত সংগ্রহের চেয়ে বিতরণে সুদহার কম

সাতটি ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের চেয়ে বিতরণে সুদহার বেশি। ব্যাংকগুলোর স্প্রেড হার (আমানত ও বিতরণের মাঝের অংশ) মাইনাস। তবুও টিকে থাকছে এসব ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে এ চিত্র দেখা যায়।

webnewsdesign.com

আমানতের চেয়ে ঋণ বিতরণের সুদহার বেশি ব্যাংকগুলো হলো- রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লি. (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি স্প্রেড নির্ধারণেও নির্দেশনা মানছে না অন্য আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। মাসের পর মাস এসব ব্যাংক নির্দেশনা না মানলেও চলছে বহাল তবিয়তে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ, বিতরণ করছে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ, স্প্রেড মাইনাস দশমিক ৯১ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক আমানত ৭ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহ করে প্রায় একই হারে বিতরণ করছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে, বিতরণ করছে ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ হারে; স্প্রেড হার মাইনাস দশমিক ৩২ শতাংশ।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বেসিক ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ হারে, বিতরণ করছে ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে; স্প্রেড হার মাইনাস ১ দশমিক ৮৪। ডিবিবিএল সংগ্রহ করছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে আমানত নিয়ে বিতরণ করছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ হারে; স্প্রেড হার মাইনাস দশমিক ১ শতাংশ। বাংলাদেশে কর্মরত পাকিস্তানি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহ করে বিতরণ করে দশমিক ৩১ শতাংশ হারে; স্প্রেড হার মাইনাস ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, করোনা মহামারীর কারণে অনেকগুলো ব্যাংক নতুন করে ঋণ বিতরণ করছে না। তারা আগের ঋণ রিকভারি করার কাজে মনোযোগ দিচ্ছে। এসব ব্যাংক আমানত সংগ্রহ বা বিতরণ- উভয় ক্ষেত্রে বিতরণে সুদ হার কম দেখালেও লাভ-লোকশান কিছুই হচ্ছে না। ফলে আমানত সংগ্রহে বা ঋণ বিতরণে সুদ হার কম বা বেশি দেখালেও কোনো লাভ-ক্ষতি নেই।

 

স্প্রেড নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, কিছু ব্যাংক নিজস্ব কৌশলে আমানত সংগ্রহের কারণে যেমন কম সুদ হারে সংগ্রহ করছে, কোনো ব্যাংক আবার কিছু বেশি সুদ হারে আমানত সংগ্রহ করছে। এ কারণে স্প্রেড হারে তারতম্য ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

স্প্রেড নির্ধারণেও ব্যাংকিং খাতে অরাজকতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্প্রেড হার নির্ধারণে বার বার নির্দেশ দেওয়া হলেও মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যখন পাঁচ শতাংশের নিচে স্প্রেড হার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন এসব ব্যাংক ৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ স্প্রেড রেখেছে। সম্প্রতি আমানত ৬ শতাংশ আর বিতরণ বিতরণ ৯ শতাংশের মধ্যে এবং স্প্রেড হার যৌক্তিক হারে কমিয়ে আনতে বললেও তা মানছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী অন্তত আটটি ব্যাংক অতিরিক্ত স্প্রেড নিচ্ছে।

 

ব্যাংক ও তাদের স্প্রেড হার যথাক্রমে- কম্যুনিটি ব্যাংকের ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ; সীমান্ত ব্যাংক ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ; ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ; ব্র্যাক ব্যাংক ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ; দ্য হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ; উরি ব্যাংকের ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ; সিটি ব্যাংক-এনএ ৭ দশমিক ১২ শতাংশ; স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড চাটার্ড ব্যাংকের স্প্রেড হার ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

Development by: webnewsdesign.com