ব্রেকিং

x

ইতি অদিতি / মাধুরী দেবনাথ

বুধবার, ২৯ মে ২০১৯ | ১২:২৯ অপরাহ্ণ | 529 বার

ইতি অদিতি / মাধুরী দেবনাথ

ডান পাশের মোড়ে শব্দ হলো,ঝট করে সেদিকে ঘুরে দাঁড়াল তন্ময়। একটা গাড়ি এসে থামল রাস্তার পাশে। দরজাটা খুলে গেল। একজোড়া পা নামার পর সম্পূর্ণ মানুষ টা যখন নেমে এলো, কিছুক্ষণের জন্য স্তব্দ হয়ে গেল সে। কেউ কোনও কথা বলছে না,কিন্তু হাসছে,দুজনই। তাদের চোখ হাসছে,মন ও হাসছে। আরও কিছুক্ষণ পর গভীরভাবে কেবল নিঃশ্বাস ছাড়ল দুজন। তারপর আবার চুপচাপ।
মুগ্ধ চোখে অদিতির দিকে তাকিয়ে রইল তন্ময়। সদ্য আঠারো পেরিয়ে উনিশ, নতুন কচি পাতার মত মসৃণ, বাঁকানো ভ্রূর নিচে চঞ্চল দুটো চোখ আর বাতাসে কেঁপে কেঁপে ওঠা অবিন্যস্ত চুল-পৌরাণিক কোনও দেবী,অনন্তকাল দেখলেও অতৃপ্ত রয়ে যায় মন।
পা ফেলে নয়,যেন ডানায় দোল লাগিয়ে এগিয়ে এলো অদিতি। মুগ্ধ করা হাসিতে ভরা মুখখানা,এখনো দোলনচাঁপার গন্ধে ভেসে গেল বাতাস, হঠাৎ একগুচ্ছ চুলের স্পর্শ-বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল তন্ময়ের,দুলে উঠল সমস্ত অস্তিত্ব। বাতাসে ফিসফিস করে কে যেন বলছে,এই তো,এই তো এখানেই শ্যামল ছায়া। এই তো,এখানেই মিশে আছে ভালোবাসার শ্বাস। এখানেই হৃদয়ের সব চাওয়া-পাওয়া।
টুংটাং করে উচ্ছল অদিতি বলে উঠল,’কখন এসেছ?’
এই তো।’ঘোর কাটানো গলায় তন্ময় বলল,’খুব বেশি আগে না,পনের-বিশ মিনিট আগে।’
ঘড়ির দিকে তাকাল অদিতি,’স্যরি,দেরি করে ফেললাম। যা জ্যাম ছিল। তাছাড়া কোনও সিএনজিও পাওয়া যাচ্ছিল না।’
আরে!সমস্যা না। তন্ময় চোখ দুটো নাচিয়ে বলল,’আজ কিন্তু রাতের আগে বাসায় ফেরা হবে না।’
‘রাত মানে কয়েক ঘন্টা!’ঠোঁটের কোণে এক টুকরো দুষ্টু হাসি রেখে অদিতির,’এতক্ষণ আমরা কি করব?’
চুপচাপ বসতে পারি কিংবা হাঁটতে পারি আমরা ক্লান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত। ‘
ভালোবাসার হাঁটায় কোন ও ক্লান্তি নেই, তাড়া নেই।’গভীর চোখে তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে অদিতি বলল,’বরং তৃপ্তি আছে। পথ পেরুনোর তৃপ্তি, পথের মানুষ দেখার তৃপ্তি।’
আমরা অবশ্য কোনও নদীর ধারে বসে নদীর পানিও দেখতে পারি।’
পানিতে নিজের ছায়া দেখা যায়। সেই ছায়ার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখা যায়। ঘুম ভাঙার পর ঘুমানো পর্যন্ত মানুষ নিজেকে দেখে কম, অন্যকে দেখতে দেখতে নিজেকে ভুলে যায়।’
জানো অদিতি, আমার কাছে সবাই এত ভালোবাসা পেতে চেয়েছে কিন্তু আমার ওটা দিতে ইচ্ছে করেনি কাউকেই। ওটা তো চাওয়ার ব্যাপার না, অনুভবের। অনুভূতিই বলে দেবে-ওই মানুষ টাকে আমি ভালোবাসি কিংবা মানুষটা আমাকে ভালোবাসে।’
আলতো করে অদিতি তন্ময়ের চিবুকটা ছুঁয়ে বলল,’একদম ঠিক কথা। মন বলে দেবে-কোথায় আমার মন বসেছে,হৃদয় ভাববে- কোন হৃদয়ে আমার আবাস। ভালোবাসাবাসি হলে পৃথিবীর সব কিছুকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে,ইচ্ছে করে ভালোবাসায় ডুবে যেতে।’
‘আচ্ছা,আমরা দাঁড়িয়ে আছি কেন?’
‘প্রশ্নটা তো আমারও।’
চল হাঁটি বলল অদিতি।

সিলেট শহরের আশে পাশে এখনো অনেক জায়গা খালি, অনেক জায়গায় পানি আর সবুজ-গ্রামের মত। আবেশে চোখ বুজে ফেলে অদিতি। সবুজ গ্রাম,পাশ দিয়ে বয়ে চলা টলটলে সুরমা নদী। বাবা একদিন সবুজ ঘাসের কাছে নিয়ে গিয়ে বলছিলেন,’খালি পা হও তো?’
অদিতির বয়স তখন ছয়। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,’কেন বাবা?
বাবা নিজের জুতো খুলতে খুলতে বলছিলেন,খালি পায়ে আজ আমরা ঘাসের ওপর হাঁটব।
খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটলে কী হয়, বাবা?
তা তো জানি না, মা।
বাবা হাঁটছেন,মেয়েও হাঁটছে। অনেকক্ষণ হাঁটার পর বাবা বললেন, মনটা কেমন যেন এখন শান্ত লাগছে।
বাবা একদিন এরকম সবুজ ঘাসের ওপর চোখ বুজেছিলেন। সেই চোখ কোনদিনও খোলেননি। মানুষ জন বিলাপ করে কাঁদছিল,মা অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন বারবার। কত মানুষ সেই দিন বাড়িতে এসেছিল।
দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ছাড়ে অদিতি। খালি পায়ে হাঁটলে মন শান্ত হয়! বাবার মুখটা ভেসে উঠছে বারবার।
নিস্তব্ধতা ভাঙলো তন্ময়,’এভাবে কি চুপ থাকার কথা ছিল?’
চোখ দুটো মুছে কিছুটা বাষ্পরুদ্ধ গলায় অদিতি বলল,’না,ছিল না।’
দু হাত দিয়ে অদিতির মুখটা চেপে ধরে অস্থির হয়ে বলল তন্ময়,’কী হয়েছে,তোমার?’
‘কিছু না।’বলে হাসার চেষ্টা করল অদিতি,কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার,টপটপ করে পড়ছে।
চল তোমায় পৌঁছে দিয়ে আসি।’শরীর খারাপ লাগছে তোমার, তুমি লুকাতে চাচ্ছো তো তাই!
আচ্ছা, তাহলে চল উঠি এবার।

জানালার গ্রিলে একটা চড়ুই এসে বসল হঠাৎ। ঘুম ঘুম চোখে পাখিটার দিকে তাকাল অদিতি। বিকেলে ঘুমিয়ে ছিল সে,একটু আগে ঘুম ভেঙেছে, কিন্তু বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। পাশের ফ্ল্যাটে বেজে চলছে,”মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর…নমো নমো” খুব পছন্দের গান এটা অদিতির। চড়ুইটা কয়েকবার দাপাদাপি করল,তারপর চলে গেল।
দরজায় শব্দ হচ্ছে। কপাল কুঁচকে কান পাতল অদিতি। হ্যাঁ,দরজায় শব্দ হচ্ছে। কিন্তু দরজায় তো শব্দ হওয়ার কথা না, কলিংবেল আছে।
উঠে বসল অদিতি। দ্রুত নেমে দরজা খুলতেই কিছুটা চমকে উঠল সে। অদিতির দিকে প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিয়ে লোকটা বলল,’এটা আপনার।’
আমার!’হাত না বাড়িয়ে অদিতি বলল,’কে পাঠিয়েছে?’
একজন অল্পবয়সী লোক।
‘তন্ময় পাঠিয়েছে?’
তা তো জানি না,ম্যাম।’
‘উনি আছেন নিচে?’
না,চলে গেছেন।’
অদিতি একটু চুপ হয়ে থেকে কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিতে বলল,’আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন তো?’
দারোয়ান হেসে বলল,’আপনি অদিতি ম্যাম তো?’
হ্যাঁ।’
আপনার নাম বলেই এটা আমায় দিয়েছেন।’
প্যাকেট টা হাতে নিল অদিতি। বেশ পাতলা। দারোয়ান চলে যাচ্ছিল।’একটু দাঁড়ান।’লোকটাকে থামিয়ে ভিতরে গেল অদিতি। একশ টাকার একটা নোট এনে লোকটার দিকে বাড়িয়ে দিতেই আপত্তি জানাল লোকটি।অদিতি মুখটা হাসি হাসি করে বলল,’ছোটবেলা বাবা একটা কথা বলতেন,’কেউ যদি তোমাকে কোন ও উপহার দেয় তাকেও তুমি কিছু উপহার দাও। আপনাকে মোড়ের দোকান টায় সবসময় চা খেতে দেখি,এ টাকাটা দিয়ে চা খেয়ে নেবেন।
দারোয়ান চলে গেল। প্যাকেট টা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ,চেপে ধরল বুকের সাথে। তন্ময় ছাড়া এটা আর কারও পাঠানোর কথা না।
মোবাইলটা হাতে নিল অদিতি। তন্ময়কে ফোন করতে নিয়েই রেখে দিল সেটা। র‍্যাপিং খুলে ফেলল প্যাকেট টার। টুপ করে এক টুকরো কাগজ পড়ে গেল মেঝেতে। ভাঁজ করা কাগজটা তুলে খুলে ফেলল সে দ্রুত। একটা চিরকুট। তন্ময় লিখছে…..প্রিয় অ,প্যাকেটের ভেতর খুলে দেখো। পছন্দ হোক অথবা না হোক,ওটা পরবে।কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়াবে না। আয়না দেখার আগে আমি তোমাকে দেখতে চাই। আমার আগে আয়না দেখবে সেটা কি কখনও হয়?
ঠিক ২ঘন্টা পর তোমায় আমি ফোন করব। তন্ময়।’
প্যাকেট টা খুলে ফেলল অদিতি। হালকা নীল রঙের একটা শাড়ি। শাড়িটা হাতে নিয়ে নাক আর মুখ গুঁজে দিল সেটার ভিতর। অদ্ভুত একটা ঘ্রাণ,বুক শিহরিত একটা মায়া। হঠাৎ করে শক্ত হয়ে গেল ও কখনও শাড়ি পরা হয়নি,কীভাবে পরতে হয় সেটাও জানে না সে। চেষ্টা করলে সমস্যা তো নেই। শাড়িটার দিকে তাকাল সে। আবেশে চোখ দুটো বুজে ফেলে শাড়িটির ভিতর আবার নাক ডুবিয়ে দিল সে। তন্ময় ফোন দিলে তবেই শাড়ি পরবে সে। তন্ময়কে রাগাতে খুব ভালোবাসে অদিতি। তন্ময় রেগে গেলে ওর মুখ কান লালবর্ণের হয়ে যায়।

তন্ময় ফোন দিলো কয়বার রিং হলো কিন্তু অদিতি ফোন উঠালো না।
পরদিন নিজেই ফোন দিল তন্ময়কে। কাল রাতে আমি তোমার ফোন ধরিনি,এর জন্য তোমার যতটা না খারাপ লেগেছে,তার চেয়েও বেশি খারাপ লেগেছে আমার তন্ময়। আমি তো জানি প্রতীক্ষার প্রহর কত দীর্ঘ!’
কিন্তু তুমি তো আমার ফোন টা একবার রিসিভ করতে পারতে!’মন খারাপ করে বলল তন্ময়।
আমার ইচ্ছে করে নি।’আমার মন খারাপ ছিল!
চোখ দুটো আস্তে আস্তে ভিজে উঠছে অদিতির।চোখের পাতা দুটো থিরথির করে কাঁপছে। তন্ময় দূরাগত গলায় বলল,’তুমি কি বলবে কী হয়েছিল তোমার?’
কিছু তো একটা হয়েছিল, তন্ময়। কিন্তু আমি বলতে পারব না কি হয়েছিল।’
আচ্ছা, তুমি আমায় কতটা বিশ্বাস করো,তন্ময়?’
যতটুকু করলে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া যায়।’মা প্রায়ই একটা কথা বলেন, সম্পর্কের প্রথম শর্তই হচ্ছে বিশ্বাস।’
আমি জানি,তন্ময়। কে কবে অবিশ্বস্ত হয়ে ভালোবাসতে পেরেছে! ভালোবাসতে গেলে আগে নিজেকে বিশ্বস্ত করতে হয়, ভালোবাসলে আগে নিজেকে করতে হয় বিশ্বাসী! ‘
তন্ময় একটা ঘন নিশ্বাস ফেলে বলল,আমি তো এসব বুঝি না, অদিতি। আগে কখনও এসবে জড়াইনি তো!’
ভালোবাসায় জড়ানোর আগে ভালোবাসাময় অনেক কিছুই জানা যায় না। মানুষ ভালোবেসে অভিজ্ঞ হয়,মানুষ ভালোবেসে আরো ভালোবাসতে শেখে- মানুষ ফুল ভালবাসতে শেখে, গাছ ভালবাসতে শেখে,আকাশ-বাতাস সব ভালোবাসতে শেখে।’
খুব সত্যি কথা, অদিতি!’ তন্ময় উৎফুল্ল হয়ে বলল,আমার এখন গান ভালো লাগে,উপন্যাস ভালো লাগে,আমাদের বাসার সামনে যে কাক ডাকে তাও ভালো লাগে।
পাগল!বলে উঠে অদিতি।
ভালোবেসে কেউ কি সুস্থ থাকে বলো?মানুষ তখন পাগল হয়ে যায়,অন্যরকম পাগল।’
ভালো কথা-শাড়িটা তোমার পছন্দ হয়েছে?’
খুব, খু-উ-ব পছন্দ হয়েছে আমার। কোথা থেকে কিনেছ শাড়িটা?’
আমি তো কিনি নি।’
কে কিনেছে।’কিছুটা চমকে উঠে অদিতি।
মা কিনেছে।’তন্ময় গলাটা ভারী করে বলল,আমি কি শাড়ি চিনি!’
‘মানুষ চেনো তো?’অদিতিও গলা ভারী করে বলল।
কিছুক্ষণ ভেবে তন্ময় বলল,সেটাও চিনি না। সম্ভবত মানুষ চেনা সবচেয়ে কঠিন কাজ।’
‘খুবই কঠিন,তন্ময়।’

তন্ময়ের ফোনটা বেজে উঠল। হাতে নিয়েই হেসে ফেলল সে। অদিতি ওপাশ থেকে একটু রাগি গলায় বলল,কোথায় ছিলে এতক্ষণ? ‘
ফোন করেছিলে?’
অনেকবার।’
মায়ের সাথে কথা বলছিলাম,শুনতে পাই নি। কিছুটা উদ্বিগ্নের স্বরে বলল তন্ময়,’কোনও সমস্যা,অদিতি?’
হ্যাঁ,একটা সমস্যা হয়ে গেছে।
কী,সমস্যা!চমকে উঠে তন্ময়।
ভালো লাগছে না একা একা।
এটাই তোমার সমস্যা!
একা একা ভালো লাগছে না,এটা একটা সমস্যা না!
হ্যাঁ,এখন মনে হচ্ছে সমস্যা। তন্ময় হাসতে হাসতে বলল,কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের উপায় কি বলো?’
হয় আমার কাছে তোমার চলে আসা, না হয় তোমার কাছে আমার চলে যাওয়া। অদিতি হাসতে হাসতে বলল,’একটা কাজ করি চল।’
কী? ছোট্ট করে বলল তন্ময়।
দূরে কোথাও চলে যাই,অনেকদূর। অদিতি খুব শান্ত গলায় বলল,মানুষের এত কোলাহল ভালো লাগে না আমার তন্ময়।
সত্যি যাবে!’
তুমি নিয়ে গেলে যাব,চোখ বুজে যাব।’
এখন কয়টা বাজে?’
দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অদিতি বলল,দেড়টা।
তুমি রেডি থেকো,তিনটায় আমি আসব। তন্ময় একটু ইতস্তত ভঙ্গিতে বলল,তুমি কি আজ শাড়িটা পরবে?’মা সব সময় শাড়ি পরে। এত চমৎকার করে! আমার কেন যেন মনে হয়,শাড়ি পরলেই একটা মেয়েকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ মনে হয়।’
আজ অদিতিকে খুব পরিপাটী বাঙালি লাগছে।হাতে নীল রঙের চুড়ি কপালে একটা নীল টিপ।অদিতির পাশে পুরো পৃথিবী টাকে নীলবর্ণা মনে হচ্ছে। আজ অদিতি নামের পুরো স্বার্থকতা বহন করছে মনে হচ্ছে পৃথিবী!
তন্ময় উদাস হয়ে দেখছে অদিতিকে।
ঘোর কাটিয়ে বলে তন্ময়,’অদিতি,মানুষের আসল সৌন্দর্য কোথায় বলতে পারবে?
হৃদয়ে,হৃদয়ের ঔদার্যে।’
আর প্রশান্তি?’
ত্যাগে!’
তন্ময়ের হাত দুটো নিজের হাতের ভেতর এনে অনেকক্ষণ চেপে ধরে রাখল অদিতি।
বুকের ভিতরটা আজ কেমন যেন করছে অদিতির। কিছুতেই কিছু ভালো লাগছে না তার। ঘরের চারপাশ টা ভালো করে দেখল সে। এত সুন্দর করে সাজানো ঘরটা। সবকিছু আছে শুধু বাবা নেই। মায়ের শরীরটাও কিছুদিন ধরে ভালো যাচ্ছে না। বিয়ের কথা চলছে অদিতির। বড় মামা সম্বন্ধ টা এনেছেন।

বউয়ের সাজে বসে আছে অদিতি। অদিতির বিয়ে আজ। বরপক্ষ এখনো আসেনি। তন্ময় শুয়ে আছে। ছটফট করছে কাউকে বলতে পারছে না।
দুজনের পথ আজ দুদিকে চলে যাচ্ছে।
অদিতির কিছুই করার নেই। প্রকৃতির কাছে অসহায় তন্ময়ও। চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই তার। একটা চাকুরী হলে হয়ত আজ অদিতি তার ই হত।
অদিতিকে নিয়ে বরপক্ষ হয়তো একটু পর চলে যাবে। ভালো লাগছে না পুরো পৃথিবী টাকে আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন লাগছে রাত টাকেও দীর্ঘ মনে হচ্ছে তন্ময়ের।
একবছর পর…অদিতির বিবাহবার্ষিকীতে

তন্ময়ের ৩১তম বিসিএস এর চূড়ান্ত রেজাল্ট দিয়েছে। পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে তন্ময়। পরিবারে খুশির বন্যা বইছে। শুধু খুশি হতে পারছে না তন্ময়। কি যেন শুণ্যতা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তাকে!
পরপর ৩৩ ও ৩৪ তম তে সমবায় ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয় তন্ময়। পররাষ্ট্র তে যোগ দিয়েছে সে। মা চেয়েছিলেন এইবার তন্ময়ের জীবন কে স্থির করাতে। তন্ময় চায় নি সেটা। অদিতির ভালোবাসা তাকে এতটাই আচ্ছন্ন করেছে যে বাকী জীবনটা অদিতির ভালোবাসা বুকে নিয়েই কাটিয়ে দেবার চিন্তা করছে সে। এটা শুধু একটা গল্পই না একজন মানুষের সত্যিকারের জীবনগাঁথাও….

লেখক: বি,এস,এস(অনার্স), এম,এস,এস(অর্থনীতি)
এমসি কলেজ,সিলেট।

Development by: webnewsdesign.com