ব্রেকিং

x

উইন্ডিজ সফরে শেষ পরীক্ষা অধিনায়ক মুমিনুলের

শনিবার, ২৮ মে ২০২২ | ৭:৩৮ অপরাহ্ণ |

উইন্ডিজ সফরে শেষ পরীক্ষা অধিনায়ক মুমিনুলের
সংগৃহীত ছবি

একটা সময় মুমিনুলের টেস্ট ব্যাটিং গড় ছিল পঞ্চাশের ওপরে। বিশ্ব ক্রিকেটেই তখন খুব প্রশংসিত হচ্ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের সিনিয়ররা বাঁহাতি এ ব্যাটারকে বাহ্বা দিয়ে বলতেন, গড় যেন পঞ্চাশের নিচে না নামে। সেই প্রশংসা ৩০ বছর বয়সী এ ব্যাটারের ভালো খেলার প্রেরণা ছিল। যে কোনো পরিস্থিতিতে রান করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারতেন। ২০১৫ সালে কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহেকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। ছোটখাটো গড়নের হওয়ায় কোচের ধারণা ছিল, বাউন্সার বল খেলতে পারবেন না মুমিনুল। যে কারণে টেস্ট দল থেকে কোচ বাদ দিতে চেয়েছিলেন তাকে। তিনিই কিনা ইনিংসের পর ইনিংসে রান করে চান্দিকার হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন।

মুমিনুল থেকে কোচের আদুরে ‘মিনি’ হয়ে উঠেছিলেন। সেই মুমিনুলের সঙ্গে এই মুমিনুলের যেন কোনো মিল নেই। দিনের পর দিন রান করছেন না। গতকাল পুরস্কার বিতরণ শেষে অধিনায়কসহ দলের সঙ্গে মিটিংও করেন বোর্ড সভাপতি। সেটা যেভাবেই হোক, মুমিনুলের নিজেকেই রানের ছন্দে ফিরতে হবে। সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে হলে ভালো। অন্যথায় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বেন তিনি।

শেষ ১৫ ইনিংস মিলিয়ে ১২৪, আর নিচের সাত ইনিংসে ২৪ রান তার। অধিনায়ক না হলে এতদিনে হয়তো দলের বাইরে চলে যেতে হতো তাকে। মুমিনুলের ছন্দে না থাকা ভাবাচ্ছে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান বিসিবি সভাপতি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে ব্যাড প্যাচে ঢোকেন মুমিনুল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরের অভিষেক সিরিজে করেন ১৪ রান (৬, ০, ১, ৭)। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে দল হিসেবে খেলে জিতেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৮৮ রানের ঝলমলে আত্মবিশ্বাসী ইনিংস খেলেন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে আবারও ব্যর্থতার চোরাবালিতে ডুবতে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই অঙ্কের রানে যেতে পারেননি। শেষ ১৫ ইনিংসের চারবার শূন্য রানে আউট হন। ০, ২, ৬, ৫, ২, ৯, ০ তার শেষ সাত ইনিংসের রান।

তাই ব্যাটার মুমিনুলকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বিসিবি সভাপতির, ‘ওর নেতৃত্ব নিয়ে যে আমরা খুব বেশি চিন্তিত, তা না। সমস্যাটা হচ্ছে ওর ব্যাটিং নিয়ে, রান পাচ্ছে না। এটা তো চিন্তার ব্যাপারই। অধিনায়ক যখন পারফর্ম করে না, তখন তার ওপর কী রকমের চাপ পড়ে চিন্তা করেন। মানসিক চাপটা কী। আমরা এখন এটাই আশা করতে পারি, ও তাড়াতাড়ি রানে আসবে। আমি ওর সঙ্গে আজকে একটু বসেছিলাম। কাল-পরশু ওর সঙ্গে বসব লম্বা আলোচনায়। দেখি ও কী মনে করে। আলোচনা করে আমরা সমস্যা বের করে সমাধান করার চেষ্টা করব।’

বিকল্প টেস্ট অধিনায়ক বর্তমান দলে না থাকায় মুমিনুলের ওপর আস্থা রাখতে হচ্ছে। নেতৃত্বের চাপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তার ব্যাটিংয়ে। মাথায় রাজ্যের চাপ থাকায় ম্যাচে পরিকল্পনামতো নেতৃত্বও দিতে পারছেন না। কাউন্সিলিং করে হলেও মুমিনুলকে এই জায়গা থেকে বের করে আনা জরুরি। বিসিবি সভাপতি পাপন নিজেই সেটা করার চেষ্টায় আছেন।

Development by: webnewsdesign.com