ব্রেকিং

x

এবার গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নীলিমা মাল্টিপারপাস

সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ | ৫:৫৫ অপরাহ্ণ |

এবার গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নীলিমা মাল্টিপারপাস
সংগৃহীত ছবি

গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে নীলিমা বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী খালপাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়টি বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। প্রতিষ্ঠানটির সামনে ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করছেন গ্রাহকরা।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে স্থানীয় নুরু মিয়ার ছেলে মো. মোমিন নীলিমা নামে মাল্টিপারপাস সমিতি চালু করে। অসহায়, দিনমজুর ও হতদরিদ্রদের প্রায় হাজার খানেক গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করে তারা আত্মগোপনে রয়েছে।

আশপাশের খেটে খাওয়া মানুষ ও মধ্যবিত্তদের উচ্চহারে মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ জমা করার জন্য জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তারা স্থানীয় হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের কথায় বিশ্বাস করে প্রতিষ্ঠানটিতে অর্থ জমা রাখেন। শুরু থেকে গ্রাহকদের আমানত ও মুনাফার টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। গত কয়েক মাসে যে সকল গ্রাহকের এফডিআর/ ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে তাদের সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালে টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

সকালে গ্রাহকরা অফিসে এসে দেখে অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। মুঠোফোনে কল দিলে সকল নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে সকলেই বুঝে যায় প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আমানত নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকরা ভিড় জমাতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির সামনে। এক পর্যায়ে লোকজন কদমতলী রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশ এসে তাদের এখান থেকে উঠিয়ে দিলে, তারা প্রতিষ্ঠানটির সামনে ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

সালমা ইসলাম নামে এক গ্রাহক জানিয়েছেন, আমার তিন লাখ টাকার একটা এফডিআর ছিল, আজকে আমানত ও মুনাফার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সকালেই জানতে পারি তারা পালিয়েছে। এমন অনেক গ্রাহক আছে যারা টাকা জমা দিয়েছেন। এছাড়া এলাকার স্থানীয় অনেক গরীব পরিবারের সঞ্চয়ের টাকাও আছে তাদের কাছে। আমি দ্রুত এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। আমাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চাই।

রমিজা নামের এক বৃদ্ধা বলেন, আমি ইটভাঙ্গার কাজ করে খেয়ে না খেয়ে টাকা জমিয়েছি মেয়ের বিয়ের জন্য। এই প্রতারক চক্র আমার সবটাকা লুটে নিয়ে পালিয়েছে। প্রতারকে আটক করা হোক।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। প্রচলিতে আইনে সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জনগনেরও সচেতন হতে হবে। এমন ভুইফোঁড় সমিতিতে টাকা জমানো উচিতই না।

Development by: webnewsdesign.com