ব্রেকিং

x

করোনার ভ্যাকসিনের সঙ্গে ঋণও দেওয়ার ঘোষণা চীনের

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০ | ৫:২১ অপরাহ্ণ | 44 বার

করোনার ভ্যাকসিনের সঙ্গে ঋণও দেওয়ার ঘোষণা চীনের
ফাইল ছবি

নিজেদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সঙ্গে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে একশ’ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। এই ঋণ দিয়ে এসব দেশ বেইজিংয়ের ভ্যাকসিন কিনতে পারবে। গত বুধবার লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই ঘোষণা দিয়েছেন। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বেইজিংয়ের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস বিশ্বের সবাই পাবে। এই ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবারের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার চীনের জাতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ সিনোফার্ম জানায়, তাদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা ২০২০ সালের শেষ নাগাদ প্রস্তুত হয়ে যাবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের খবরে বলা হয়, চীনের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে আর নির্ধারিত সময়ের আগে এই বছরের শেষ নাগাদ বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিনোফার্ম জানায়, এপ্রিলে তাদের ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়। উভয় ধাপেই মারাত্মক কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে জানিয়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান লিউ জিংজেন বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভ্যাকসিন নিয়ে বেইজিং থেকে ইতিবাচক খবর আসার মধ্যেই লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর জন্য ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে চীন। এজন্য বেইজিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ বলেন, ‘আমরা চীন, চীনের সরকার এবং প্রেসিডেন্টের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ- আপনাদের মনে আছে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল আমার- আমরা তার কাছে মেডিক্যাল সরঞ্জাম সহায়তা চেয়েছিলাম, পরে চীন থেকে বহু সহায়তার ফ্লাইট এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবসময়ই যথেষ্ট সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ ছিল আর এখন এই প্রস্তাব।’

বুধবারের ভার্চুয়াল বৈঠকের নেতৃত্ব দেন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো আবরার্ড এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠকে আর্জেন্টিনা, বার্বাডোস, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, পানামা, পেরু, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন।

ওই বৈঠক সামনে রেখে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবান বলেন, ‘সমুদ্রের বিভাজন থাকার পরেও লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে চীন এই মহামারির সময়ে এই সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং সবার জনগণের স্বার্থে প্রায়োগিক ও কার্যকর সহায়তা পরিচালনা করছে।’

গত মে মাসের শেষদিকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় লাতিন আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে গত সপ্তাহে সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চেয়ে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে বেশি। যদিও মাথাপিছু হিসেবে এসব দেশে মৃতের সংখ্যা অনেক কম করে দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হয়েছে। ভাইরাসটি মোকাবিলায় চীনের প্রাথমিক ভূমিকা নিয়ে বারবারই বেইজিংকে আক্রমণ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

Development by: webnewsdesign.com