ব্রেকিং

x

করোনায় নিত্যপণ্য কেনার হিড়িক, আতঙ্কিত না হতে আহ্বান

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২০ | ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | 186 বার

করোনায় নিত্যপণ্য কেনার হিড়িক, আতঙ্কিত না হতে আহ্বান
ছবি- অর্থকাল

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া দেশের সব স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাণিজ্য মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের অফিসে না এসে ঘরে বসেই কাজ করতে নির্দেশনা দিচ্ছে।

এদিকে শপিং মল কিংবা দোকানপাট কখন যে বন্ধ হয়ে যায়, সে আশঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্য বেশি পরিমাণে কিনে বাসায় মজুত করতে শুরু করেছে জনগণ।

এতে রাজধানীর কাঁচাবাজারসহ সুপার শপগুলোতে কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে। এ সুযোগে চালের দামও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজার, ট্যানারি মোড় কাঁচাবাজার, রায়ের বাজার এবং এসব এলাকার বিভিন্ন সুপার শপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতা সামাল দিতে সুপার শপের কর্মচারিরা হিমশিম খাচ্ছেন। খুচরা বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। কেউ কেউ কিনছেন শিশু খাদ্য, ও শিশুদের ডায়াপার।

তবে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে সংরক্ষণের উদ্দেশে বাড়তি কেনাকাটা একেবারেই অহেতুক কাজ। বাজারে সব পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ভয়ের কোনও কারণ নেই।

সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, করোনার প্রভাবে স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে, বিমান রুট বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। অপরদিকে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এ আশঙ্কা থেকেই সাধারণ মানুষ সাধ্য অনুযায়ী পণ্য কিনছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরকম সংকটের কোনও শঙ্কা নেই। বাজারে পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। প্রয়োজনে এমন পরিস্থিতিতে টিসিবিকে কাজে লাগানো হবে। সেভাবে প্রস্তুতিও রয়েছে।

ধানমন্ডি জিগাতলার গাবতলা বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার পারভেজ বাড়ির কাজের ছেলেকে নিয়ে মঙ্গলবার সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারে প্রয়োজনীয় বাজার করতে আসেন।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস ইউরোপের অনেক শক্তিশালী দেশকে ঘায়েল করে ফেলেছে। সেসব দেশে ঘর থেকে বাইরে বের হলেই জরিমানা করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা-ই আগেভাগেই নিত্যপণ্য একটু বেশি করে কিনে রাখছি।’

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর পাইকারি বাজার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা জানান, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো রয়েছে। সংকটের কোনও সম্ভাবনা নেই। আপাতত পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ারও কোনও কারণ নেই। খুচরা বাজারের পণ্য সরবরাহ বা পণ্যের মূল্য পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহ পর্যবেক্ষণ করছে। এই মুহূর্তে বাজারে কোনও পণ্যের সংকট নাই। আগামী এপ্রিল মাস থেকেই রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সে জন্য টিসিবিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব পণ্য বাজারে ছাড়া হবে। আমরা ভোক্তাদের বিনীত অনুরোধ করছি, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করবেন না। এখনও পরিস্থিতি খুব ভালো অবস্থায় আছে। ভয়ের কারণ নেই। বাজারে কোনও পণ্য সংকট হবে না।

চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে মোট ১০ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে প্রথম দফায় আক্রান্ত তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে এক লাখ ৮৮ হাজার ১৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে সাত হাজার ৪৯৭ জনের। ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

অর্থকাল/সুজন শর্মা

Development by: webnewsdesign.com