ব্রেকিং

x

করোনা : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল চায় ডিসিসিআই

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | 123 বার

করোনা : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল চায় ডিসিসিআই
ছবি- অনলাইন

মহামারি করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তহবিল গঠনে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

ডিসিসিআই বলছে, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের অর্থনীতি, রফতানিমুখী শিল্প কলকারখানা, স্থানীয় বাজার নির্ভর উৎপাদন খাত, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পখাত, সেবা খাত, অতি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসা, ট্রেডিং নির্ভর ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান, অপ্রচলিত খাত যেমন ভাসমান অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকান-পাট উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর এমনকি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর যাতে করোনার প্রভাব না পড়ে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রফতানিমুখী শিল্প সুরক্ষায় শ্রমিকদের বেতনাদি পরিশোধের সুবিধার্থে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এসব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ডিসিসিআই।

ফরমাল (প্রচলিত) ও ইনফরমাল (অপ্রচলিত) খাতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ (এমএসএমই) অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে এই এমএসএমইদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির সব স্তরে এমএসএমইর অন্তর্ভুক্ত সব খাত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক এমএসএমই সীমিত বেচা-কেনা ও পুঁজি সংকটের কারণে খুব খারাপ সময় পার করছে। তাদের অনেকেই সময়মত শ্রমিক এবং কর্মচারীদের বেতনাদি পরিশোধ করতে পারছে না যা বেকারত্ব বৃদ্ধির আশংকা তৈরি করেছে। এ দুঃসময়ে ঢাকা চেম্বার সরকারকে স্থানীয় এমএসএমইর ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা ও এমএসএমই সুরক্ষায় স্বল্প এবং মধ্যমেয়াদি আর্থিক, অনার্থিক নীতি পরিকল্পনানির্ভর সহায়তা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই।

আর্থিকভাবে ক্ষতিতে পড়া এমএসএমই এবং অপ্রচলিত খাতের সুরক্ষায় বেতনাদি পরিশোধের সুযোগ করে দিতে ডিসিসিআই সরকারকে এক শতাংশ সুদে তিন বছর মেয়াদি একটি জরুরি তহবিল গঠন করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানায়। যেসব এমএসএমইর বার্ষিক টার্নওভার এক কোটি টাকা তাদের জন্য এক শতাংশ আর যে সব এমএসএমইর বার্ষিক টার্নওভার এক কোটি টাকার উপর তাদের জন্য দুই শতাংশ সুদ হারে উক্ত তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। সারা দেশে বিসিক শিল্প নগরীর অন্তর্ভুক্ত কারখানাসমূহ ও এ বিশেষ জরুরি তহবিলের আওতায় আসতে পারে। আর এ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এমএসএমইর জন্য এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা যেতে পারে।

এমএসএমইর ক্ষেত্রে অনাদায়ী দেনাসমূহ আদায় হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়বে কেননা সব ব্যবসায়ীরাই একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অনিশ্চিত সময়ে এমএসএমইর জন্য তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিসিসিআই এমএসএমইর জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদ আগামী এক বছরের জন্য মওকুফের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ডিসিসিআই এমএসএমইর অর্থায়ন সহজলভ্য করতে স্বল্প সুদে এবং সহজতর জামানত শর্তে বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন (এসএমই রিফিন্যান্সিং) তহবিলকে পূর্ব-অর্থায়ন (এসএমই প্রিফিন্যান্সিং) তহবিলে রূপান্তরের সুপারিশ করছে। পাশাপাশি কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত সীমিত দায়বদ্ধ কোম্পানিকে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্তকে আগামী ছয় মাসের জন্য শিথিল করতে দাবি করেছে ডিসিসিআই।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এমএসএমইর উপর করের বোঝা লাঘব করতে তাদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর জমাদান এ বছর স্থগিত রেখে তা আগামী তিন বছরে সমান তিনটি কিস্তিতে ভাগ করে রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোনোরকম জরিমানা ছাড়া প্রদানের সুযোগ দেয়ার জন্য ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।

বিসিক শিল্পনগরী বা ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত, সরকার তাদের ভাড়া ছয় মাসের জন্য মওকুফ করে এ পরামর্শ দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের অপ্রচলিত ব্যবসায়িক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ খাতের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকগণ তাদের পুঁজি ও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় পুঁজি ও চাকরি হারানো ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ডিসিসিআই সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।

যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের ইউরোপিয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হ্রাস পেয়েছে তাই ডিসিসিআই সরকারকে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিএসপি সুবিধা পুনঃবহাল ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার সুপারিশ জানিয়েছে। ডিসিসিআই মনে করছে সুপারিশগুলো কার্যকর হলে এমএসএমই খাত এই কঠিন সময়ের মধ্যেও টিকে থাকতে পারবে এবং ভবিষৎ অর্থনীতির শক্তিশালী ভীত রচনায় সহযোগী হবে।

Development by: webnewsdesign.com