ব্রেকিং

x

কর্মস্থলে ফিরতি পথে ঘাটে যাত্রী চাপে জট ও ভোগান্তি

শনিবার, ০৭ মে ২০২২ | ৭:০২ অপরাহ্ণ |

কর্মস্থলে ফিরতি পথে ঘাটে যাত্রী চাপে জট ও ভোগান্তি
সংগৃহীত ছবি

ঈদ আনন্দ শেষে এবার জীবনের বাস্তবতায় ফেরার সময়। প্রায় ন’দিন ছুটির ফাঁদে আটকে ছিলো দেশ। যার শেষ দিন শনিবার। পরের দিনেই ফিরে যেতে হবে কর্মস্থলে। তাই রাজধানীর কর্মস্থলে ফিরতে পথে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। এতে করে সড়ক-নৌ ও রেলপথে তৈরি হয়েছে চাপ।

সেই চাপের কারণে সড়কের কোথাও যানজট, লঞ্চে নেই তিল ধরণের ঠাঁই। ট্রেনে যাত্রী বোঝাই। তবে সব কিছু ছাপিয়ে দিনভর আলোচনায় উঠে আসছে ঘাটের জট। দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলা থেকে ঢাকাতে ফেরার প্রধান দুই ফেরি রুটেই তৈরি হয়েছে জট, বেড়েছে ভোগান্তি।

বাড়তি এই চাপে ঘাট এলাকায় রীতিমতো বড়সড় যানজট তৈরি হয়েছে। ফিরতি পথে ঘাটে ফেরি পারাপারে দেরি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। ভোর থেকেই কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল নামে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটে।

কর্মস্থলে ফেরা মানুষের বাড়তি চাপে ঘাট এলাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। জিরো পয়েন্ট থেকে জমিদার ব্রিজ পর্যন্ত কমপক্ষে আট কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। নদী পারের অপেক্ষায় আটকে আছে হাজারেরও বেশি যানবাহন।

সিরিয়ালে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মাহেন্দ্রা, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যান মহাসড়কের প্রায় আট কিলোমিটার দূর থেকে আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে ছোট গাড়িগুলোকে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ।

সময় যত বাড়তে থাকে ততই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে থেকে খাবার, বাথরুমসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে গরম বেশি ভোগাচ্ছে পথের যাত্রীদের।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ফেরি না থাকা ও ঘাট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে এই ভোগান্তি। একই অবস্থা বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌ পথেও। নদী পারাপারে অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা মানুষ।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, এ রুটে ছোট বড় ২১টি ফেরি চলছে। যাত্রী ও যানবাহন একযোগে ঢাকামুখী হওয়ায় সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। ধারণার চেয়ে অনেক বেশি যানবাহন একত্রে আসায় সিরিয়াল ছাড়া উপায় নেই।

রোববার অফিস খোলা তাই শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও মাওয়া ঘাটে ছিলো ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ। ঝুঁকি নিয়ে বেশিরভাগ যাত্রীরাই এসেছেন লঞ্চে করে। ফেরিতে তুলনামুলকভাবে যাত্রী চাপ কম। যাত্রীরা বলছেন, ফেরিতে এবার মোটর বাইকের সংখ্যা বেশি।

আছে বাস, মাইক্রোবাসসহ গণপরিবহন। যাত্রীদের দাঁড়ানোর জায়গাও মিলছে না ফেরিতে। তাই বাধ্য হয়েই যাত্রীরা আসছেন লঞ্চে। তবে, যাত্রী বেশি হবার পরও লঞ্চের ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগ নেই যাত্রীদের। মাওয়া থেকে মোট ৮৪ টি লঞ্চ চলাচল করছে।

লঞ্চ মালিকরা বলছেন, প্রচণ্ড রোদে যাত্রীরা ফেরিতে যাচ্ছেন না বলে লঞ্চে যাত্রী চাপ বেশি। এক পর্যায়ে বিআইডব্লিউটিসি বাধ্য হয়ে শিমুলিয়ার পরিবর্তে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে রাজধানীতে ফেরার অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়।

বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে জেটির মুখে আলাদা করে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত লঞ্চগুলো একশ’র বেশি ট্রিপ বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়ায় গেছে। চার ঘণ্টায় প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী লঞ্চ ও স্পিডবোটে পার হয়েছে।

ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে সড়কপথেও। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ঘাটে তীব্র জটের কারণে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের ঢাকায় আসতে সময় লাগছে দ্বিগুণের বেশি। বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে যানজট থাকায় উত্তরবঙ্গের যাত্রীদেরও ঢাকায় আসতে সময় লাগছে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা বেশি।

মূলত শুক্রবার রাত থেকে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ফলে প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফেরির নাগাল পেতে হচ্ছে যানবাহনকে। এতে করে ঢাকায় ফিরতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। এদিকে ঢাকায় ফিরতে কয়েকগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালও। সকাল আটটা পর্যন্ত ৭৩টি লঞ্চে এক লাখেরও বেশি যাত্রী ঢাকায় প্রবেশ করেছে। ফলে লঞ্চ ও যাত্রীদের চাপে টার্মিনালে যানজট ও লঞ্চজট দেখা গেছে।

ঈদের টানা ছুটি শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের পদচারণায় সদরঘাট যেন তার স্বরূপে ফিরে এসেছে। ভোর থেকেই হকারদের হাক ডাক, লঞ্চের হর্ন, রিকশা, সিএনজি চালকদের হাক ডাকে কর্মচঞ্চলতা ফিরে পেয়েছে।

টার্মিনালে লঞ্চজটের সৃষ্টির ফলে অনেক লঞ্চকে টার্মিনালে ভিড়তে ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কোন কোন লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়তে না পড়ে অন্য লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রীদের নামাতে দেখা গেছে। একই সময়ে অনেক লঞ্চ চলে আসায় বিপদ বাড়ে।

ফলে টার্মিনালের অতিরিক্ত চাপ কমাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের বার বার মাইকিং করে দ্রুত যাত্রী নামিয়ে টার্মিনাল ছাড়ার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। যাতে ঘাটে আসা অন্য লঞ্চগুলোও যাত্রীদের নিরাপদে নামাতে পারে।

এছাড়া ফিরতি মানুষের পাশাপাশি শনিবারও ঢাকা ছাড়তে সদরঘাটে এসেছেন অনেকে। যারা আগে ছুটি পাননি বা ঈদের আগে ভ্রমণের ঝুঁকি এড়াতে চেয়েছিলেন তারা এখন ঢাকা ছাড়ছে। বিশেষ করে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরসহ কয়েকটি রুটের লঞ্চে ভিড় দেখা গেছে।

Development by: webnewsdesign.com