ব্রেকিং

x

কালো রঙের ধানে কৃষক মানিকের চমক

মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ৪:০৭ অপরাহ্ণ |

কালো রঙের ধানে কৃষক মানিকের চমক
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে কালোর রঙ্গের সুগন্ধি ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। অধিক পুষ্টি সম্পন্ন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় এ ধানের আবাদ করেন কৃষক মানিক।

কৃষি বিভাগ এই ধানের বিষয়ে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাথে যোগাযোগ করে আগামীতে আরো সম্প্রসারণ করা কথা জানান।

সবুজের মাঝে কালো রঙের সুগন্ধি ধানের আবাদ শুরু করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের মানিক। পরীক্ষামূলকভাবে পৌনে দুই বিঘা জমিতে এই ধানের আবাদ শুরু করেন। ভারতের কৃষ্ণভোগ ধানের বীজ হলেও মানিক তার একজন কৃষকের নামে এ ধানের নাম রাখেন বাদল ধান।

নতুন জাতের এই ধানের নাম বাদল স্বীকৃতিও চান। অন্য আতব জাতের ধান বিঘা প্রতি ৭-৮ মণ হলেও এই সুগন্ধি ধান প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ অধিক পুষ্টি সম্পূর্ণ লম্বা জাতের ধান উৎপাদন হবে। এই ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। সুগন্ধি আতব চালের চাহিদা পূরণ আর কম খরচে বেশি দামের আশায় কালো রঙের বাদল ধানের আবাদ করেন তিনি। এ ধানের ধানের বীজ আগামীতে দিতেও পারবেন তিনি।

নতুন জাতের ধান উৎপাদনকারী কৃষক মানিক জানান, এ ধানটি লাগানোর পিছনে কারণে আছে। সেটি হচ্ছে অন্যান্যে ধানের বৈচিত্র্য আছে কিন্তু আতব ধানের চালে বৈচিত্র্য কম থাকায় এই কালো রঙের সুগন্ধি জাতের ধান চাষ শুরু করি। নতুন জাতের কালো রঙের বাদল জাতের ধানের বীজ নেয়ার কথা বলে রেখেছেন অন্য কৃষকরা।

তিনি আরো জানান, ধান চাষে কম মুনাফায় কৃষি বিভাগ ও ব্যাংকগুলো ঋণ দেন তাহলে আরো বেশি করে ধান চাষে এগিয়ে আসবে কৃষকরা। আর ঋণ না পাওয়ায় অনেকেই কৃষি কাজ থেকে বিমুখ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আর যার নামে ধানের নাম রাখে হয়েছে সেই বাদল জানান, ভারতীয় জাতের ধান হলেও সুগন্ধি জাতের কালো রঙের ধানের নাম বাদল হওয়ায় আনন্দিত আমি। আমার নামে ধানের নাম হবে এটা কখনোই ভাবিনি। এ ধানের নামের স্বীকৃতি দিলে ভালো হবে। আর সার-কীটনাশক পানি কম লাগায় এবং পোকা-মাকড় কম লাগায় আগামী বছর এ জাতের ধান লাগানোর আগ্রহ দেখান অনেক কৃষক।

কৃষক আজিজুল, বাসির ও হারুন জানান, আমাদের জমির পাশে কৃষক মানিক নতুন জাতের কালো রঙের ধান আবাদ করেছে সে ধানের নাম নাকি বাদল। তবে ধানের গায়ের রং কালো, লম্বা ও বড় আকারের ধান। এ ধানের ভালো ফলনও হবে। তাই আমরা আগামীতে এই ধানের আবাদ করবো। আর কম খরচে বেশি লাভও হবে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম জানান, মানিক নিজ উদ্যোগে এই নতুন জাতের কালো রঙের ধান আবাদ করেছে। ওই কৃষক নিজেই সে ধানের নাম বাদল রাখেন। এই ধানের বিষয়ে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা যদি এ ধান জেলার জন্য উপযোগী ও ভালো মনে করে তাহলে আগামীতে আরো সম্প্রসারণ করার কথা জানান এই কর্মকর্তা। আগামীতে এ ধানের বীজ অন্য কৃষকের মাঝে সম্প্রসারণ করা হবে।

এ জেলায় প্রতি বছর কোনো না কোনো নতুন জাতের ধানের বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে।-বাংলাদেশ জার্নাল

Development by: webnewsdesign.com