ব্রেকিং

x

পথে পথে ভোগান্তি

গণপরিবহন বন্ধে অচল দেশ

শনিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৪:৪৭ অপরাহ্ণ |

গণপরিবহন বন্ধে অচল দেশ
সংগৃহীত ছবি

সংসদ সচিবালয়ের নৈশপ্রহরীর চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় এসেছিলেন মনজুরুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বাড়ি ফিরতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন তিনি। গাবতলী পৌঁছে অচেনা দৃশ্যের মুখোমুখি হন। টার্মিনালে দূরপাল্লার সব বাস সারি সারি দাঁড়িয়ে, কিন্তু যাবে না। সড়কে কিছু মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার থাকলেও তাতে যাত্রী পরিবহনের জন্য ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি। দু-একটি পিকআপ এলেও সেখানে যাত্রী হিসেবে জায়গা করে নিতে শুরু হয় পাল্লাপাল্লি। মনজুরুল কয়েক দফা চেষ্টা করেও পিকআপে জায়গা করে নিতে পারেননি। এরপর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অনিশ্চয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

মনজুরুলের মতো অনেকের গতকাল গন্তব্যে ফেরার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ব্যাগ-বোঁচকা আর দুশ্চিন্তা নিয়ে টার্মিনালে অপেক্ষা করছিলেন তারা। গতকাল একই চিত্র ছিল ঢাকার সব এলাকায়। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনাসহ সারাদেশেও ছিল অভিন্ন দৃশ্য। বিভাগ, জেলা, উপজেলা সব পর্যায়েই পথে পথে দেখা যায় মানুষের ভোগান্তি।

সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর পর ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন মালিক ও শ্রমিকরা। অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশ। ঘর থেকে যারা বের হয়েছেন, তারা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। পথে পথে ছিল দুর্ভোগ। শিশু ও বয়স্কদের পড়তে হয় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। ভর্তি ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। কয়েক গুণ ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে তারা কেন্দ্রে পৌঁছেন।

গত বুধবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে। রাতেই তা কার্যকর হয়। এর ফলে ডিজেল ও কেরোসিন তেলের নতুন দর হয় প্রতি লিটার ৮০ টাকা; যা এতদিন ছিল ৬৫ টাকা।

ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ট্রাক, বাসসহ পরিবহনের জ্বালানি হিসেবেই ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ট্রাক ভাড়া বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে। দাম বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। চাপ পড়বে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।

‘কেন আমরা জিম্মি’: সুমি আক্তার বসবাস করেন ঢাকার আজিমপুরে। সেখানে একটি মেসে রান্নার কাজ করেন তিনি। মেস সদস্যদের কাছে ছুটি নিয়ে গতকাল বগুড়ার কাহালু থানার মালিঞ্চা বাজার এলাকার বাড়ির উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। বের হওয়ার পর ধর্মঘটের কথা জানতে পারেন। এরপর ৫০০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে গাবতলী যান। পরে কোনো বন্দোবস্ত করতে না পেরে গাবতলীর আন্ডারপাসের পাশে অসহায় বসে পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে তার সঙ্গে দেখা হয়। সাংবাদিক পরিচয়ে ছবি তুলতে গেলে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সুমি বলেন, ‘কেন আমরা জিম্মি? আমাদের দেখার কেউ নেই। দেড় বছর বাড়ি যাই না। ছুটি পাওয়ার পর এখন যেতে পারব কিনা তাও জানি না।’

রিকশা-অটোরিকশা ভাড়া কয়েক গুণ বেশি: যানবাহন ধর্মঘটের সুযোগে রিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন। সজীব ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে মহাখালী আসতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া গুনতে হয়েছে ৪০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই পথের ভাড়া সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। আফরিন নামে এক তরুণী তেজগাঁও থেকে যাবেন মগবাজারের দিলু রোডে। তার কাছে রিকশা ভাড়া দাবি করা হয় ১৫০ টাকা। অন্য সময়ে এ পথের ভাড়া সর্বোচ্চ ৮০ টাকা।

‘ধর্মঘটের কথা জানা ছিল না’: বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মহাখালী বাস টার্মিনালে অবস্থান করে দেখা যায়, কেউ রিকশায়, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ আবার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসছেন টার্মিনালে। তাদের বেশিরভাগের গন্তব্য জামালপুর, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ। এমন অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা হয়। তাদের বেশিরভাগই ধর্মঘটের কথা জানতেন না।

গুলশানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সাইদুর রহমান জানালেন, তার বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। জরুরি কাজ পড়েছে গ্রামের বাড়িতে, তাই তাকে যেতেই হবে।

সাইদুর বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মহাখালী বাস টার্মিনালে এসে জানতে পারেন বাস বন্ধ। এরপর ২০০ টাকা মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে যান কমলাপুর রেলস্টেশনে। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে আবার ফিরে আসেন মহাখালী। বিকেল ৪টা পর্যন্ত গ্রামে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি তার। এর পরও তিনি মহাখালীতে যানবাহনের অপেক্ষায় বসে আছেন।

ঢাকায় এসে ভোগান্তিতে দম্পতি: সস্ত্রীক ফুটপাতে বসে আছেন এক যুবক। কীভাবে যাবেন গ্রামের বাড়ি শেরপুরের গোপালপুরে- স্বামীকে প্রশ্ন করছেন স্ত্রী। স্বামীর জবাব, দেখা যাক কী হয়। যদি কিছু নাই-ই হয় রাস্তায় রাত কাটানো ছাড়া উপায় নেই। কারণ, হোটেলে ওঠার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের উল্টো পাশে ফুটপাতে বসে এক দম্পতি এসব কথা বলছিলেন। কথা বলে জানা গেল, যুবকের নাম নুর আলম। বয়স ২৮। স্বামী-স্ত্রী গার্মেন্টে চাকরির জন্য পাঁচ দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন। উঠেছিলেন তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায়। বৃহস্পতিবার একটি গার্মেন্টে গিয়েছিলেন চাকরির জন্য। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জানানো হয়েছে, এখন কর্মী লাগবে না। যে আত্মীয়ের বাসায় উঠেছিলেন, সেখানে বেশি দিন অবস্থান করার সুযোগ নেই। তাই বাড়ি ফিরতে হবে তাদের। তাই দুপুর দেড়টায় হেঁটে যান মহাখালী।

নুর আলম বলেন, ‘চাকরি হলো না। ঢাকায় থাকারও জায়গা নেই। হোটেলে ওঠার মতো টাকা-পয়সাও নেই। যেভাবেই হোক বাড়ি ফিরতেই হবে। যদি আগে থেকে জানতাম বাস বন্ধ থাকবে, তাহলে বৃহস্পতিবারই চলে যেতাম।’

মধুপুরের ভাড়া চায় দেড় হাজার টাকা: শামসুল আলম নামে এক বৃদ্ধ যাবেন টাঙ্গাইলের মধুপুরে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। বাস না পেয়ে তিনি মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মহাখালী টার্মিনালের বিপরীতে সড়কে অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন চালকরা, যাত্রী তোলার উদ্দেশে। প্রায় প্রত্যেক চালকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। কেউই দেড় হাজার টাকার কমে মধুপুরে যেতে রাজি হননি। অথচ বাসের ভাড়া ১২০ টাকা। পরে তিনি বনানীর দিকে হাঁটা শুরু করেন।

সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীর চিত্র: সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকা ঘুরে মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি চোখে পড়ে। শত শত মানুষ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রাস্তায়। দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে যাত্রাবাড়ী মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস এসে থামে। যাবে কুমিল্লার গৌরীপুরে। হুড়াহুড়ি লেগে যায় যাত্রীদের। দ্রুতই বাসটি ছেড়ে যায়। কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার বাহেরচর গ্রামের গৃহিণী পারুল বেগম মেয়েকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় এসেছিলেন। রাতে ওঠেন দয়াগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায়। পুরান ঢাকার কাজী নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজে মেয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল গতকাল সকালে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসেন মা-মেয়ে।

পারুল বলেন, ‘বাড়ি তো যেতেই হবে। কিন্তু যাব কীভাবে? হুট করে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেছে। আগে তো জানতাম না। রাস্তায় রিকশা-ভ্যানে ভেঙে ভেঙে বাড়ি যেতে হবে।’ ১০০ টাকা ভাড়ায় সাইনবোর্ড পর্যন্ত রিকশায় ওঠেন তারা। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লায় মোটরসাইকেল ভাড়া করেও যাচ্ছেন অনেকেই। কুমিল্লার ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা। এ ছাড়া কুমিল্লা পর্যন্ত হায়েস মাইক্রোবাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা।

ভোগান্তির পর দেখা সদরঘাটের: তৈরি পোশাক কারখানার কর্মী মোসাদ্দেক বলছিলেন, বাস চলাচল বন্ধ তাই সাভার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত আসতে তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। স্ত্রী, দুই শিশুসন্তান আর বাবাকে নিয়ে ভেবেছিলেন বাসে চড়ে সদরঘাটে আসবেন। সেটা না পেরে গেণ্ডা থেকে অটোরিকশায় ৩০০ টাকায় এসেছেন হেমায়েতপুরে। সেখান থেকে ২৫০ টাকায় গাবতলী। সেখান থেকে ৮০০ টাকায় পৌঁছান সদরঘাটে। ১৩৫০ টাকা খরচ হলেও বাস চললে এ পর্যন্ত পৌঁছাতে ৩০০ টাকার বেশি লাগত না।

মোসাদ্দেকের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গাড়ি না পাইয়া হাঁটছি। অটোরিকশা দেইখ্যা চালকগো বাপ কইছি। এর পরও ভাড়া কম নেয় নাই। এমন ভোগান্তিতে আর পড়েননি কখনও।’ জমি-সংক্রান্ত ঝামেলা মেটাতে অনেকটা বাধ্য হয়েই গ্রামে যেতে হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

জুবায়ের হোসেন দুপুর ১টায় শরীয়তপুরগামী লঞ্চ ‘এমভি মিরাজ’-এ চড়ে বসেছেন। লঞ্চের সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, মিরপুর-১০ নম্বরের বাসা থেকে টার্মিনালের উদ্দেশে বের হন তিনি। সব বাস বন্ধ হওয়ায় অটোরিকশায় চড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু চালক ভাড়া দাবি করেন ৭০০ টাকা। শেষ পর্যন্ত ৪০০ টাকা খরচ করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে এসেছেন। বাসে এলে তার ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হতো।

জুবায়ের বলেন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে অটোরিকশা রয়েছে। সারি সারি মোটরসাইকেলও রয়েছে। সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যাপসভিত্তিক মোটরসাইকেলে চড়লে সদরঘাট পৌঁছাতে হয়তো ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা লাগত। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকরাও সুযোগ পেয়ে অ্যাপস বন্ধ করে চুক্তিতে যাত্রীদের যেতে বাধ্য করছেন।

দুপুরে চাঁদপুর থেকে লঞ্চে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় আসেন ওসমান গনি। তার গন্তব্য গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায়। তিনি বলছিলেন, বোর্ডবাজারে ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এজন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। সদরঘাট থেকে হেঁটে বাহাদুর শাহ পার্ক বাস টার্মিনালে এসে কোনো বাসই পাচ্ছেন না। ঢাকায় নেমে জানলেন বাস ধর্মঘট চলছে।

বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাট কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সদরঘাট থেকে প্রতিদিন ২৩টি রুটে শতাধিক লঞ্চ ছেড়ে যায়। শুক্রবারও নিয়মিতই যাত্রীবাহী এসব জাহাজ চলাচল করেছে। বাস ধর্মঘটের কোনো প্রভাব পড়েনি।

লঞ্চের ভাড়া ১০০ ভাগ বাড়ানোর দাবি: ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভাড়া ১০০ ভাগ বাড়ানোর দাবি করেছেন লঞ্চ মালিকরা। এ দাবি পূরণে তারা আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাহাজ চালাতে তাদের খরচ বহু গুণ বেড়ে গেছে। এর পরও তারা সরকার নির্ধারিত আগের ভাড়াই নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে তারা নিজেদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে জ্বালানি তেলের দাম না কমলে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলবেন।

ট্রেনে ভিড়: রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে করোনাকাল থেকেই দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা নিষেধ। স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি বন্ধ। কিন্তু যাত্রী চাপে গতকাল এসব নিয়মকানুনের বালাই ছিল না।

দুপুরে ভর্তি পরীক্ষা এবং বিকেলে নিয়োগ পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল কমলাপুরে। তাদের অধিকাংশই টিকিট পাননি। তারা বাধা না মেনে দাঁড়িয়ে ট্রেনে চড়েন। কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বিকেলে যাত্রীর চাপ বাড়ে।

স্টেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে যাত্রী ভোগান্তি বিবেচনা করে দাঁড়িয়ে ট্রেন যাত্রায় বাধা দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ছাদে ট্রেন ভ্রমণের খবর মিলেছে। – সমকাল

Development by: webnewsdesign.com