ব্রেকিং

x

ঘূর্ণিঝড় অশনির উপকূলে আছড়ে পড়া নিয়ে সংশয়!

রবিবার, ০৮ মে ২০২২ | ৩:৫২ অপরাহ্ণ |

ঘূর্ণিঝড় অশনির উপকূলে আছড়ে পড়া নিয়ে সংশয়!
সংগৃহীত ছবি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলিয়েই আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখন পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে। যার নাম অশনি, এমন নাম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। নামে অশনি হলেও, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপ্রকৃতি নিয়ে রীতিমতো ধাঁধাঁয় রয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। জন্মের পর থেকেই ক্ষণে ক্ষণে গতিপথ বদলাচ্ছে অশনি। এটি আদৌ স্থলভাগ বা উপকূলে আছড়ে পড়বে কিনা, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।

ভারতের আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর থেকে গতিপথ পরিবর্তন করছে ঘূর্ণিঝড় অশনি। সমুদ্রে থেকে গতিপথ পরিবর্তন করার কারণে শক্তি বাড়ছে না ঘূর্ণিঝড়টির। উল্টো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে অশনি। আর এ কারণেই উপকূলে আছড়ে পড়ার কোন সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।

শুধু তাই নয় অশনি উপকূলের কাছে যেতে যেতেই সব শক্তি খুইয়ে সাগরেই বিলীন হয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে দারুণ সব রহস্য তৈরি করছে এই ঘূর্ণিঝড়। সাগরে বিলীন হবে, না আবারো নতুন রূপ নিবে তা এখনও পরিষ্কার নয় পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আবহাওয়া অফিসের কাছে। তবে বলছে মঙ্গলবারের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে, অশনির শেষ পরিণতি কি হচ্ছে।

গেলো চার মে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে যে লঘুচাপ তৈরি হয়েছিলো সেটাই রোববার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আপাতত এটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান সাগরে অবস্থান করছে। এই মুহূর্তে সিস্টেম বা ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিবেগ রয়েছে। সাগরে কোন লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবার গোটা প্রক্রিয়াকে ‘সিস্টেম’ হিসাবে বলা হয়।

অশনি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ছুঁয়ে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে। পরে রোববার সন্ধ্যায় পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ঘূর্ণিঝড়টি আরও প্রবল হবে। তখন এর গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় ৮৫ কিলোমিটার হতে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। সোমবার বিকেলে এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার হতে পারে।

মঙ্গলবার সকালে অশনি অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাবে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িষ্যা উপকূল বরাবর এর প্রভাব থাকবে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায়। এই সময়ে সর্বোচ্চ গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে, সেই সময় উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার গতি থাকবে অনেক কম। বড়জোর ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার হতে পারে।

উপকূলে এগিয়ে আসার পথে মঙ্গলবারই পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অশনি গতিপথ পরিবর্তন করবে। উত্তর-পশ্চিম গতিপথের বদলে এটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগোতে থাকবে। অর্থাৎ উত্তর অন্ধ্র-দক্ষিণ ওড়িষ্যা উপকূল ছেড়ে ক্রমশ উত্তর ওড়িষ্যা উপকূলের দিকে এগতে থাকবে। পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ছেড়ে ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে যাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে দিকে।

আর এমন গতিপথ বদলানোর ফলে শক্তি ক্ষয় হতে থাকবে ঘূর্ণিঝড়টির। ভারতের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বুধবারের পর অশনি ক্রমশ সাগরের গভীরে শক্তি ক্ষয় করতে পারে। অথবা শক্তি হারাতে হারাতে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে আসতে পারে। আবার সমুদ্রেই শক্তি সঞ্চয় করে নতুন গতিপথ তৈরি হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

আর যদি শেষ পর্যন্ত অশনি স্থলভাগে উঠে আসে, তাহলেও সেটি বুধবারের আগে হচ্ছে না বলেই নিশ্চিত আলিপুরের আবহাওয়া অফিস। অশনি উপকূলে না আসলেও এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বৃষ্টি হতে পারে। মূলত বুধ আর বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আর মঙ্গলবার থেকেই ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হতে পারে উপকূলে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর সবশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, অশনির মারাত্মক প্রভাব কোনও একটি উপকূলে নয় বরং বঙ্গোপসাগরের পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং অন্ধ্র প্রদেশ তিন উপকূলেই পড়বে। অথবা উপকূলের পাশ দিয়ে যেতে যেতে সাগরের খাঁড়িতে তাণ্ডব চালাবে।

উত্তর -উত্তর-পূর্বের দিকে যাবে এবং অন্ধ্র ও ওড়িশার তটভূমির পাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গোপসাগরীয় খাঁড়িতে ধ্বংসলীলা শানাবে৷ ১০ মে অবধি এই সাইক্লোন এগোতে থাকবে তারপর সমুদ্র উপকূলের উত্তর এবং উত্তর পূর্ব দিকে এগোবে। অশনি শেষ পর্যন্ত উপকূলে আছড়ে পড়বে কিনা, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারছে না আবহাওয়াবিদরা।

Development by: webnewsdesign.com