ব্রেকিং

x

চা-শ্রমিকরা ঐতিহ্যবাহী ফাগুয়া উৎসবে মাতুয়ারা।

বৃহস্পতিবার, ০১ এপ্রিল ২০২১ | ৭:৫৫ অপরাহ্ণ |

চা-শ্রমিকরা ঐতিহ্যবাহী ফাগুয়া উৎসবে মাতুয়ারা।
সংগৃহীত ছবি

চা বাগানের বৃহত্তম উৎসব ফাগুয়া। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন চা বাগানে একে অন্যের গায়ে রঙ দিয়ে চা শ্রমিকরা উদযাপন করছে ঐতিহ্যবাহী ফাগুয়া উৎসব।

যে উৎসবে ফাগ নিয়ে খেলা হয়, তাকে বলা হয়ে থাকে ফাগুয়া। এই উৎসবের আগের দিন সন্ধ্যায় হোলিকা দহনের অনুষঙ্গে কুঁড়েঘর পোড়ানো হয় অসমে। পরের দিন জনগোষ্ঠীর সবাই মেতে ওঠে রঙের খেলায়।

শত অভাব অনটনের মধ্যেও ফাগুয়া উৎসবের তিন দিন চা জনগােষ্ঠীর লােকজন পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে কাটানাের চেষ্টা করে। সব মিলিয়ে প্রায় প্রতিটি চা বাগানেই এক অন্যরকম আবহ বিরাজ করছে। উৎসবকে আরও আনন্দঘন করতে চা বাগানগুলােতে দুই দিনের ছুটি ঘােষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। উৎসব ভাতাও দেওয়া হয়েছে চা শ্রমিকদের।

গতকা সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একে অন্যের মুখে, বাঁ হাতে লাল, কালো, নীল বা হলুদ রঙ লাগিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলছে ফাগুয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান, ভাড়াউড়া চা বাগান, ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান, লাখাই চা বাগান, খাইছড়া চা বাগান, কালীঘাট চা বাগাম, খেজুরীছড়া চা বাগান, রাজঘাট চা বাগানসহ বিভিন্ন চা-বাগান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

চা-শ্রমিকদের এই রঙের উৎসবে বেগুনি, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা লাল- কী নেই? যেদিকে তাকানো যায় সে দিকেই রঙের ছড়াছড়ি। নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ সব বয়সীরা মেতে ওঠেছে ফাগুয়া উৎসবে। একে অপরের দিকে রং ছুড়ে মারছে, গান গাইছে, নাচছে। তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী এমনকি ৭০-৭৫ বছরের বৃদ্ধরাও আনন্দ মেতে উঠেন।

সংগ্রামী জীবন চা শ্রমিকদের। ঘরে, বাইরে শত অভাব অনটন। তবে বছরের কয়েকটা সময় তারা এসব ভুলে যান। পরিবার পরিজনকে নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। এ রকম উপলক্ষগুলাের একটি হােলি উৎসব। যা চা-বাগানে ফাগুয়া উৎসব নামেই বেশি পরিচিত। এ সময় ফাগুয়া উৎসবের হাওয়া বইছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানগুলােয়। এ রঙের খেলায় চা জনগােষ্ঠীর সবাই এখন মাতােয়ারা।

চা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছন্দ, তাল লয়হীন এসব চা শ্রমিকের কঠিনতম জীবনে ফাগুয়া উৎসব এসেছে মহান্দরে জোয়ার নিয়ে সেই জোয়ারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি চা বাগানের অনাচে কানাচে। শুধুই রং, শুধুই রঙের ছড়াছড়ি। ছোপ ছোপ রঙের দাগ লেগেই থাকে চা বাগানের অলিগলিতে, শ্রমিক লাইন, বাড়িঘরের আঙিনায়।

সবার হাতে কিংবা মুখে লাগানাে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রং। যাদের মুখে রং নেই, তাদের রং দিয়ে রাঙিয়ে তুলতেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ অন্যজনের। শিশু-কিশাের, তরুণ-তরুণী সবাই নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। এবং তার সঙ্গে চা বাগানগুলােতে শুরু হয়েছে লাঠি নাচ।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, চা জনগােষ্ঠীর বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে হােলি অন্যতম। সার্বজনীন ভাবে একে দোল উৎসব বা হােলি বলা হলেও চা বাগানে এটি ফাগুয়া উৎসব নামেই অধিক পরিচিত। চা শ্রমিকদের সংগ্রামী জীবনে প্রতি বছর ফাগুয়া উৎসব আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে। ফাগুয়া শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই স্বামীর বাড়ি থেকে মেয়েরা বাপের বাড়ি নাইওরে আসেন। চা বাগানের ঘরে ঘরে ভালাে রান্নাবান্না হয়। অনেক আনন্দ হয়। চা শ্রমিকেরা সারা বছর বিভিন্ন সমস্যায় ভুগলেও উৎসবের দিনগুলােতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু ভালাে থাকার চেষ্টা করেন।

Development by: webnewsdesign.com