ব্রেকিং

x

ঠিক মধ্যরাত/ মাধুরী দেবনাথ

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | 500 বার

ঠিক মধ্যরাত/ মাধুরী দেবনাথ

হঠাৎ চেঁচামেচির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল সজলের।পাশে নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে যুথী। জানলার সাদা কাচ ভেদ করে চাঁদের আলোটা ঠিক এসে মুখের উপর পড়ছে যুথীর। শ্যামবর্ণের অসম্ভব মায়াবী গড়নের মেয়ে যুথী। চাঁদের আলোয় ওর মুখটা সোনালি আভা ধারণ করছে। সজল পেশায় সাংবাদিক। সাথে স্ত্রী যুথী আর কেউ নেই। তাদের ফ্ল্যাটে মোট ৬ পরিবার থাকে।

বাসাদ সাহেব আইনজীবী। স্ত্রী আর ২ সন্তান। ছেলেটি অনার্স ২য় বর্ষে আর মেয়েটি ক্লাস সেভেনে।
সুজন সাহেব লেখক মানুষ। সারাদিন লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত। বিয়েথা করেন নি।
সর্ব উত্তরের দিকটাতে থাকেন মোবারক সাহেব। পেশায় ডাক্তার। স্ত্রী রোমানা একটি কলেজের অধ্যক্ষ। ২টা ছেলে তাদের। বড়টা এবার উচ্চমাধ্যমিক দিল।আর ছোটটি ক্লাস ফাইভে।
পূর্বের দিকটাতে থাকেন জেসমিন নাহার। ব্যাংকার। স্বামী নেই ২ মেয়ে উনার। বড়মেয়ে সংবাদ পাঠিকা আর ছোট মেয়েটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।
ফারহানা,নূরা,নওশীন,নীলু,আশা,মিনু,মুন্নী,মেহের থাকে পশ্চিমের কোন টাতে। এদের কেউ পড়ছে আর কেউ চাকুরী করছে।
সজল হালকা একটা ধাক্কা দিল যুথীকে।
কি হয়েছে?এই মধ্যরাতে কেন ধাক্কাচ্ছো? যুথী বলল।
কিসের যেন একটা চেঁচামেচি শুনা যাচ্ছে। শুনতে পাচ্ছো তুমি?
চলতো দেখে আসি।
হুম চল। দরজাটা বন্ধ করে সজল ও যুথী রুম থেকে বের হয়ে এলো।
বাইরে কি সুন্দর চাঁদের জোছনা!
সবাই ছাদের দিকে দৌড়াচ্ছে। সজল ও যুথী হাপাতে হাপাতে উপরে উঠলো।
বাসাদ সাহেবের নিথর দেহটা মেঝেতে পড়ে আছে। কে যেন বালিশ চাপা দিয়ে খুন করছে। পাশে নির্বাক হয়ে বসে আছেন উনার স্ত্রী আর ছেলেমেয়ে ২টা। মেয়েটা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। এত রাতে কে আসতে পারে তাদের ফ্ল্যাটে? সজল বুঝতে পারছে না। চোখ বুলিয়ে একবার দেখে নিল সবাই আছে কি না। সবাই আসছে কিন্তু সুজন সাহেবকে দেখা যাচ্ছে না। তবে কি উনি? না তা কেমন করে হবে! হয়ত অনেকরাত লিখালিখি করে ঘুমিয়েছেন উনি। তাই হয়ত ঘুম ভাঙে নি।
যুথীকে রেখে সজল সুজন সাহেবের রুমের দিকে ছুটলো। কয়েকবার টোকা দেবার পর দরজা খুললেন সুজন সাহেব।
কি ব্যাপার? এতরাতে সজল সাহেব আপনি?কোন সমস্যা?
আরে ভাই আমাদের ফ্ল্যাটে একজন জলজ্যান্ত মানুষ খুন হয়েছেন আর আপনি কি না ঘুমে….
কি বলেন?কখন?কে?
আতংকিত গলায় প্রশ্ন করলেন সুজন সাহেব।
বাসাদ সাহেব রাত ১টার দিকে খুন হয়েছেন।
চলেন তো।সুজন সাহেব ও সজল সাহেব আবার বাসাদ সাহেবের মৃতদেহের পাশে ফিরে আসলেন। উনার স্ত্রী কাঁদছেন না একেবারে না। সবার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছেন। মনে হয় উনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন।
মেয়েটি বারবার উনার কাছে এসে বলছে ও আম্মু! ও আম্মু আব্বু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।ও আম্মু আমাদের কি হবে?ও আম্মু তুমি কাঁদছ না কেন?
কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মিনারা রওশন সেই আগের মতই চোখের দৃষ্টি টাও ফেলছেন না।
২৫বছরের সংসার মিনারা ও বাসাদ সাহেবের।
হঠাৎ সুজন সাহেব বলে উঠলেন লাশের পাশে ওটা কি? দেখ তো কোন কিছু রেখে গেল কিনা খুনি?
সজল টুকরো টা হাতে নিল।
একটা কোড লিখা “দেখা হবে ১৩১”.আর কিছু না।
তাতে স্পষ্ট কিছু বোঝা যাচ্ছে না। মোবারক সাহেব পুলিশে ফোন দিয়েছেন। পুলিশ আসছে।
সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কাউকেই সন্দেহ করা যাচ্ছে না। লাশ নিয়ে থানায় যাচ্ছে সুজন সাহেব সাথে যাচ্ছেন।
সজল ও যুথী রুমে আসল। কে করতে পারে এমন একটা জঘন্য কাজ বলত?ঠান্ডা মাথায়। ভাবতে পারছি না। যুথীর মুখটা একদম নীল হয়ে গেল সজলের বুকে এসে মুখ লুকালো।
আমি ও ভাবতে পারছি না। কে করতে পারে এত বড় কাজ?
এই তোমার কপাল তো পুড়ে যাচ্ছে। এই রে জ্বর এসে গেছে। খুব বেশি ভয় পেয়েছ? আসো,শুয়ে পড়ো। তোমার মাথায় জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছি আমি। পুরো রাত যুথীর মাথায় জলপট্টি দিতে দিতে সজল কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছে টের পায় নি।
সকাল ৮টা বাজে। অফিসে যেতে হবে। যুথী তখনও ঘুমাচ্ছে।কপালে হাত দিল সজল। জ্বরটা এখন নাই। চোখ মেলে তাকালো যুথী।
তুমি অফিস যাবে না? কয়টা বাজে?
৮টা বেজে ১০মিনিট।
ওমা বল কি? তোমার নাস্তা করতে হবে তো। তুমি আমায় আগে ডাক নি কেন?হাত মুখ ধুয়ে নাও আমি নাস্তা বানিয়ে দিচ্ছি।
না,তুমি শুয়ে থাক। আজ একটু কিছু করতে হবে না। আমি বাইরে খেয়ে নিব। তুমি সারাদিন বিশ্রাম নাও। তোমার জন্য ডিম ভাজি আর ভাত রান্না করে যাচ্ছি খেয়ে নিবে কেমন! আজ আমরা বাইরে খাব। অফিস শেষে তোমায় ফোন দিব। তৈরি থাকবে কিন্তু। সজল শুধু ডিম ভাজিটাই করতে পারে। যদিও সংসারের সব কাজেই যুথীকে সাহায্য করে সে।

যুথী স্বামীর কথা মত বাধ্য মেয়ে হয়ে শুয়ে রইল।অন্যান্য দিন স্বামীকে খাইয়ে তৈরি করে দেয়।আজ শুয়ে শুয়ে স্বামীর তৈরি হওয়া দেখছে।দুপুর ২টায় সজল ফোন দিল। যুথী একটা নীল রঙের শাড়ি পরেছে।নীল রঙটা সজলের খুব প্রিয়। যুথীর বেশির ভাগ শাড়ি ই নীল রঙের। যুথী সাদামাটা থাকতেই বেশি পছন্দ করে। সজল ও যুথীকে সাজগোজ ছাড়াই বেশি ভালোবাসে। আজ সজল স্ত্রীর পছন্দের সব খাবারের অর্ডার দিয়েছে।যুথী রোষ্ট,শুটকী,ডাল,চিংড়ি ভর্তা আর পটলের দোলমা খুব পছন্দ করে। ঝালটা একটু পছন্দ ছিল।কিন্তু সজল খেতে পারে না বলে ঝাল খাওয়াটা বিসর্জন দিয়েছে যুথী। তোমার প্রিয় খাবারের অর্ডার দাও।তুমি তো বিরিয়ানি পছন্দ কর। যুথী বলল।
আরে না,আজ আমার বউ যা খাবে আমিও তাই খাব,ঝাল খাব। বুঝলে যুথী আমি ঝাল আর সুন্দরী মেয়েদের ভয় পাই। তাই তোমার মত কালিকে বেছে নিয়েছি জীবনসঙ্গী হিসেবে।হাহাহা যে আমায় খুব ভালোবাসবে খু-উ-ব।
আর ঝালটা সেই ছোটবেলা থেকেই ভয় পাই। তবে আজ ঝাল খাব। সজল আজ যুথীর পছন্দের সব খাবার খাচ্ছে। ভর্তার ঝালে সজলের ফর্সা মুখটা একদম লাল টকটকে হয়ে গেছে। যুথীর ভীষণ খারাপ লাগছে। মানুষ টা ওর জন্য ঝাল খাচ্ছে। খেতে পারছে না তারপর খাচ্ছে ভালোবাসা বলে।
বাসায় ফিরে ক্লান্ত শরীর বিছানায় গা এলিয়ে দিল সজল। কারেন্ট চলে গেছে। পাশেই হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে যুথী।
৪দিন পর….
আবার সেই শব্দ।
এই শুনছো?যুথীকে ধাক্কা দিল সজল। কি যেন আওয়াজ হচ্ছে সবাই দৌড়াচ্ছে। চল তো দেখে আসি।
আজ সবাই জেসমিন নাহারের রুমের দিকে দৌড়াচ্ছে। জেসমিন নাহারের প্রাণশুন্য দেহটা পড়ে আছে মেঝেতে। সেই আগের কায়দায় খুন করা হয়েছে তাকেও।বালিশ চাপা। পাশে সেই চিরকুট। সজল উঠে গিয়ে নিয়ে আসল সেই” দেখা হবে ১৩১”।
মেয়ে ২টার আহাজারি তে পুরো ফ্ল্যাট ঝিম ধরে আছে।
যুথী চোখ বুলালো পুরো রুমের দিকে সবাই এসেছে কি না?
সবাই আছে শুধু সুজন সাহেব ই নাই।
কি ব্যাপার উনিগত দিন ও ছিলেন না। তাহলে উনিই কি এসব কর্মকান্ডের মূল হোতা?
এই শুনছো? সুজন সাহেব কিন্তু নেই। ফিসফিসিয়ে বলল যুথী।
হুম তাতো দেখতেই পাচ্ছি।
কিছুক্ষন পর সুজন সাহেব এসে হাজির।
কি বীভৎস কান্ড! কি হচ্ছে এসব?
২টা খুন হয়ে গেল।গত খুনের হদিস এই পর্যন্ত মেলাতে পারে নি পুলিশ।
মোবারক সাহেব পুলিশকে ফোন দিয়েছেন। পুলিশ আসছে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বড় মেয়ে নীলাকে জিজ্ঞেস করছেন এস.পি রফিক কাউকে সন্দেহ হয় কি না?
না এই ফ্ল্যাটের সবার সাথে মায়ের ভাল সম্পর্ক। কার সাথে মায়ের কখনও লাগে নি। তবে বাসাদ আংকেল মারা যাওয়ার পর থেকে মাকে কিছুটা বিষণ্ণ লাগত।খেতে চাইতেন না,চুপ থাকতেন। কি যেন চিন্তা করতেন, জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতেন না। ডাক্তার দেখিয়েছি কাজ হয় নি। আজ তো চিরতরে ই চলে গেলেন।
আজ লাশের গাড়িতে করে মোবারক সাহেব যাচ্ছেন।
সজল ও যুথী রুমে আসল।রাত ২টা বাজে। কি অদ্ভুত ২টো খুন একই সময়ে একই ভাবে। সজল ভাবতে থাকে। যুথী আজ বেশি ভয় পায় নি। সজল ভাবছে আজও যুথীর জ্বর আসবে। না আজ যুথী সুস্থ আছে।
কি ভয় লাগছে বেশি?
লাগছে তবে ওই দিনের মত না। তুমি আছ তো। তবে এখন তোমাকে নিয়ে আমার বেশি ভয়। তুমি যেভাবে রাত-বিরাতে ঘরে ফেরো। এখন তোমাকে নিয়েই আমি সারাক্ষণ ভয়ে থাকি।
ধুর আমার কিছু হবে না।আমার জন্য তুমি আছ তো! ঘুমাও এইবার। সকালে উঠতে হবে।
খুনের বিচারের কোন অগ্রগতি নেই। প্রতিদিনই পুলিশ আসে। খুনি খুবই বুদ্ধিমান, কোন প্রমানই পাওয়া যাচ্ছে না। কোন ভাবেই ধরা যাচ্ছে না…
৬দিন পর….
যুথী ঘুমাচ্ছে রাতে ঠিক ১টা। সেই ভয়ানক আওয়াজ।
এই যুথী উঠো? এই যুথী এই….
কি হয়েছে?সেই শব্দ ভয়ার্ত গলায় বলল সজল।
চলত দেখে আসি।
সবাই আজ মোবারক সাহেবের রুমের দিকে ছুটছে।
মোবারক সাহেব মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন।উনার বড় ছেলে রাফির নিথর দেহটা পড়ে আছে মেঝেতে। রোমানা রহমানের বুকফাটা আর্তনাদে খাঁ খাঁ করছে পুরো রুম। সজল চোখ ঘুরিয়ে পুরো রুম দেখছে। আজ সুজন সাহেব ও আছেন সবাই আছে শুধু মুন্নী নামের মেয়েটি নেই। ঠিক একই ভাবে খুন। পাশে সেই চিরকুট। “দেখা হবে ১৩১”। পুলিশ আসছে। সবাইকে জিজ্ঞেস করছে। এই ফ্ল্যাটে তো কারো সাথে কার শত্রুতা নেই তাহলে কে করছে এমন জঘন্য কাজ?ভেবে পাচ্ছে না যুথী।
আজ যুথী পুনরায় ভয় পেয়েছে। সবার সামনেই সজলের একটা হাত জড়িয়ে ধরে আছে সে। সজল একটু ইতস্তত বোধ করছে। কিছু বলতে পারছে না। যুথী কিছুতেই ছাড়ছে না হাত।
আজও লাশের পাশে গাড়িতে করে সুজন সাহেব যাচ্ছেন।

১০দিন হয়ে গেল খুনের কোন রহস্যই উদঘাটন করা যাচ্ছে না।
রাত ১২:১০মিনিট যুথী ঘুমাচ্ছে। সজলের কপালে বিন্দু বিন্দু করে ঘাম জমছে। এই যুথী উঠো।
কি হইছে?
চল আজ তোমাকে আমাদের বিয়ের শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দিব। সেই মেজেন্টা রঙের শাড়ি তোমার মনে আছে? আজ নীল রঙ বাদ। তুমি আজ খুব সাজবে খুব। চোখে কাজল দিবে,ঠোঁটে হালকা রঙের লিপষ্টিক দিবে। আমি তোমায় নিজের হাতে সাজিয়ে দিব।কি হইছে তোমার?এই মধ্যরাতে আবোল-তাবোল বকছ?সজলের কপালে হাত দিল যুথী। না জ্বর নেই স্বাভাবিক ই আছে ও। খুব ভয় লাগছে যুথীর। কেন এমন করছে সজল?
কই দেরি করছ কেন? নিয়ে এস আলমারি থেকে বের করে সব।
দেখ সজল পাগলামি কর না। শরীর ঠিক আছে তো তোমার?
হাঁ, আমি ঠিক আছি।যাও সব নিয়ে এস। আজ আমি তোমায় শেষবারের মত আমার করে দেখতে চাই।
ভয়ে মুখটা কালো হয়ে গেল যুথীর। আজ তাহলে কার পালা সজলের নাকি ওর?
এইসব খুনের জন্য কি তাহলে সজল ই?
না,না তা হতে যাবে কেন?
সজল তো ওকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে। সজল কখনও এমন করতে পারে না। যুথী একে একে সব বের করে নিয়ে আসছে।চুড়ি,গয়না,কাজল,লিপষ্টিক,মেজেন্টা সেই শাড়ি,বিবাহবার্ষিকীতে সজলের দেওয়া হীরের আংটি। সজল খুব মনযোগ দিয়ে সাজাচ্ছে যুথীকে। তোমার কি হইছে বলবে? ভয়াল সুরে যুথী বলল।
সজল বলতে শুরু করল….
আমার মা খুব সুন্দরী মহিলা ছিলেন। আর বাবা ছিলেন কালো। মা খুব অহংকার করতেন সুন্দরী বলে। সেই ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি বাবাকে কথায় কথায় অপমান করতেন। বাবা মাকে খুব ভালোবাসতেন।মায়ের খুশির জন্য বাবা নিজ হাতে রান্না করতেন। মাকে যখন যা এনে দিতে হয় এনে দিতেন। কিন্তু মা বাবাকে ভালোবাসতে পারছিলেন না। বাবার প্রতি অত্যাচারের মাত্রা বাড়তেই থাকল। বাবার অসহায় মুখটা দেখলে খুব ই কষ্ট হত। কিন্তু আমি কি করব বোঝে উঠতে পারছিলাম না।

আমার জন্মের ৩বছর পর থেকে বাবা মা আলাদা থাকতে শুরু করেন। মা ঝাল খেতে পছন্দ করতেন তাই বাবা অফিস থেকে আসতে মার জন্য আচার, ভর্তা নিয়ে আসতেন। কিন্তু মায়ের মন পেতেন না।
হঠাৎ একদিন রাতে বাবা স্ট্রোক করলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ই বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমি বাবাকে খুব ভালোবাসতাম। বাবার সাথেই আমি সময় বেশি কাটাতাম। বাবার এই চলে যাওয়া আমি মানতে পারি নি মাকে ক্ষমা করতে পারি নি। সেই থেকে মেয়েদের প্রতি একটা অনিহা আমার। তোমার সাথে পরিচয় হল। তোমার সাথে কথা বলে বোঝতে পারলাম তুমি বেশ সহজ সরল তোমায় দিয়ে শুরু করি আমার মিশন। বিয়ে করলাম তোমাকে। আমি প্রথমেই তোমায় মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম। ১-মানে প্রথম লক্ষ্য তুমি। কিন্তু তোমাকে যেই বালিশ চাপা দিতে যাব সব ঠিকঠাক করে এনেছি তখন ছাদের এক কোনে বাসাদ সাহেব পায়চারী করছিলেন উনি দেখে ফেললেন তাই কায়দা করে উনাকে সরিয়ে দেই। আর তুমি বেঁচে যাও।
বাসাদ সাহেবকে যখন বালিশ চাপা দেই তখন উনার চিৎকার শুনে জেসমিন আপা দরজা খুলে এসে আমায় দেখতে পান। উনি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন শব্দ করতে পারছিলেন না। যদি কখনও ভালো হয়ে আমার কথা বলে দেন তাই উনাকে ঠিক এই ভাবেই সরিয়ে দেই। উনাকে সরানোর দিন মোবারক সাহেবের বড়ছেলে ছাদে ফোনে কথা বলছিল। আপার গলার শব্দ শুনে ও দৌড়ে আসে, এসে আমাকে দেখে ফেলে। আমার মুখোশ ছিল হয়ত চিনতে পারে নি। কিন্তু আমার ভয় ছিল যদি চিনে ফেলে তাই ওকে ঠিক এইভাবে সরিয়ে দেই। ৩ মানে ৩ জনের মৃত্যু। যুথীকে সাজানো প্রায় শেষ। আজ তোমার পালা আমার প্রানপ্রিয় স্ত্রী যুথী….রাত ঠিক ১টা। তোমাকে মেরে আমার বাবার হত্যার শোধ নেব। ১- মানে তোমাকেই আবার মরতে হল যুথী। সরি, যুথী আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি মেয়েদের ভালোবাসি না। ঠিক মধ্যরাত…যুথীর প্রাণহীন নিথর দেহটা পড়ে আছে মেঝেতে। পাশে সেই চিরকুট -“দেখা হবে ১৩১”। পাশেই সজল কাঁদছে

লেখক: বি,এস,এস(অনার্স), এম,এস,এস(অর্থনীতি), এমসি কলেজ,সিলেট।

Development by: webnewsdesign.com