ব্রেকিং

x

ঢাকার দুই মেয়রের ‘মন্ত্রী’ পদমর্যাদা কতদূর

মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ | ৬:৪৮ অপরাহ্ণ |

ঢাকার দুই মেয়রের ‘মন্ত্রী’ পদমর্যাদা কতদূর
সংগৃহীত ছবি

# দু’বছরেও মন্ত্রী পদমর্যাদা পাননি মেয়র তাপস ও আতিক
# মন্ত্রী পদমর্যাদা না থাকায় সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে পারছে না ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়ররা দায়িত্ব নেন ২০২০ সালের মে মাসে। এরই মধ্যে পার হয়েছে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের দু’বছর।

মেয়র হিসেবেই কাজ করছেন তারা। এখনো মেলেনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা। মেয়রদ্বয়ের দপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রীর পদমর্যাদা না পাওয়ায় প্রটোকলসহ সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন তারা। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়ররা মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাবেন কি না সেটা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সিদ্ধান্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মন্ত্রী পদমর্যাদায় ছিলেন। একই পদমর্যাদায় ছিলেন ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। তার মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হন মো. আতিকুল ইসলাম। তখন আতিকুল ইসলামও কিছুদিন মন্ত্রীর পদমর্যাদা পান। কিন্তু এখন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামের কোনো পদমর্যাদা নেই। মেয়র হিসেবেই কেটে গেছে দু’বছর। ভবিষ্যতে তারা পদমর্যাদা পাবেন কি না তা কেউ বলতে পারছেন না।

কখন কাকে কোন পদমর্যাদা দেওয়া হবে তা নির্ভর করে সরকারি নীতিনির্ধারক বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। তবে ঢাকার দুই মেয়রের মন্ত্রীর পদমর্যাদা না থাকায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রটোকল নিয়ে তাদের নানা সমস্যা পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

তারা জানান, ঢাকার মেয়ররা মন্ত্রী পদমর্যাদার হবেন, দীর্ঘ বছর ধরেই এ রেওয়াজ চলে আসছে। বিগত আমলের মেয়ররাও মন্ত্রিত্বের সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান মেয়ররা এখনো মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাননি। এতে বিভিন্ন সভা বা সেমিনারের প্রটোকল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সচিব দপ্তর সূত্র জানায়, এখনো শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম মেয়র হিসেবেই নিজেদের দাপ্তরিক কাজ এবং বিভিন্ন সভা বা সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। মন্ত্রী পদমর্যাদা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সংস্থাগুলোকে কিছু জানানো হয়নি। যদিও ঢাকার মেয়রদের বিশেষ মর্যাদা থাকলে সংস্থার কাজের গতি বাড়ে। বিশেষ করে অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে সহজ হয়। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পদমর্যাদার ক্রম অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিবের একধাপ ওপর সিটি করপোরেশনের মেয়ররা। অথচ ঢাকার অনেক সেবা সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা চেয়ারম্যান পদে সচিব বা সিনিয়র সচিবরা দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় ঢাকার দুই মেয়র সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কর্মবিভাজন (রুলস অব বিজনেস) অনুযায়ী মেয়রদের মন্ত্রী বা মর্যাদা দেওয়ার এখতিয়ার ও ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর। তবে আগের মেয়রদের যে পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল তা মেয়র পদকে দেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে। তাই ব্যক্তিটি কেমন, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আনিসুল হক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২২ জুন এক প্রজ্ঞাপনে এ দুই জনপ্রতিনিধিকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয় সরকার। তখন তারা মন্ত্রী পদমর্যাদার আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিলেন।

এর মধ্যে আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর ২০১৯ সালে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নয় মাস ডিএনসিসির মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন আতিকুল ইসলাম। তখন তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিলেন। এছাড়া অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরশনের প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও মন্ত্রী পদমর্যাদা পেয়েছিলেন।

গত ১৪ মে নগর ভবনে মেয়র হিসেবে দু’বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘মিট দি প্রেস’ অনুষ্ঠান করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে গত দু’বছরে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু তার ব্যবহৃত গাড়িতে মন্ত্রী পদমর্যাদার ফ্ল্যাগ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, গত ১৬ মে নিজ কার্যালয়ে একই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তার গাড়িতেও ফ্ল্যাগ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। প্রটোকলেও পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। নগর ভবন থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন আনসার সদস্যকে তার পেছনে যেতে দেখা যায়। তবে নিজেদের পদমর্যাদা নিয়ে তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা। তার পদমর্যাদা অতিরিক্ত সচিবের। তিনি বলেন, মেয়র আতিকুল ইসলাম মেয়র হিসেবেই কাজ করছেন। তার দিক-নির্দেশনা সবাই মন্ত্রীর নির্দেশনা হিসেবেই মানেন ও কাজ করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মেয়রদের মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে সিটি করপোরেশন আইন বা সরকারের স্থায়ী কোনো নীতিমালা নেই। তবে যখন দেওয়া হয়, তখন কিছু নীতিমালা ও শর্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির সচিবের দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, মেয়রদের কাজ হচ্ছে নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। এজন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে যে ক্ষমতা ও পদমর্যাদা রয়েছে সেটাই যথেষ্ট। মেয়রকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হলো কি না, তা নগরবাসীর কিছু যায় আসে না। তবে পদমর্যাদা দেওয়া হয় প্রধানত রাজনৈতিক বিবেচনায়। এটা এক ধরনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা।

শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম দুজনই ক্ষমতাশীল দল আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এখন এই দুজনের পদমর্যাদা নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তারা জানান, আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপসকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না কেন বা কোনোরকম পদমর্যাদা ঘোষিত হচ্ছে না কেন- এনিয়ে দলে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। এরই মধ্যে কেউ বলছেন, দেশে যখন করোনা ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন এই দুই মেয়র দায়িত্ব নেন। এভাবে করোনায় কেটে গেছে দু’বছর। তাই বিষয়টি অনেকটাই ধামাচাপা পড়ে রয়েছে। আবার কেউ বলছেন, ডিএসসিসি মেয়র পদে নির্বাচনে শেখ ফজলে নূর তাপসকে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে নাখোশ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হয়তো এ জন্য তাকে পদমর্যাদা দেওয়া হয়নি। তার সঙ্গে মেয়র আতিকুল ইসলামেরও কপাল পুড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন। কে এই মর্যাদা পাবেন বা পাবেন না তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করে। এখানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকে না।

Development by: webnewsdesign.com