ব্রেকিং

x

তারল্য সংকট ও সুদহার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈঠক করবে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | 191 বার

তারল্য সংকট ও সুদহার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈঠক করবে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে

ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান তারল্য সংকট, ঋণ ও আমানতের ঊর্ধ্বমুখী সুদহার নিয়ন্ত্রণে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠক করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ২১ জুলাই তফসিলভুক্ত ৫৯টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ বৈঠক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে তফসিলভুক্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরকে (এমডি) চিঠি দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা ও সংকট নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিতেই সভা। এতে দেশের ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান তারল্য সংকট, ঋণ ও আমানতের ঊর্ধ্বমুখী সুদহার নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণের লাগাম টানা, মার্জার-অ্যাকুইজিশন ও দেউলিয়া আইন প্রবর্তন, আইনি কাঠামো ও অর্থঋণ আদালতের সংস্কার বিষয়ে পর্যালোচনাসহ অন্তত এক ডজন বিষয়ে আলোচনা হবে। বিদায়ী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি পর্যালোচনা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতির কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে বেসরকারী ব্যাংকরে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তিন মাস অন্তর ব্যাংক নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ এপ্রিলের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংক নির্বাহীদের সর্বশেষ বৈঠক হয় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক, আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) জন্য গঠিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (বিয়াক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ এ (রুমি) আলী, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশী খাতের ৫৭টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেন। ওই বৈঠকে ব্যাংক এমডিরা স্বেচ্ছায় ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানান। এজন্য তাদের পক্ষ থেকে কিছু কর্মপন্থাও তুলে ধরা হয়। এছাড়া সে সময় খেলাপি ঋণ কমাতে আইন ও আইনি কাঠামো সংস্কার এবং যুগোপযোগী করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, অর্থঋণ আদালত আইন ও দেউলিয়া আইনের কিছু বিষয় সংস্কার দরকার। আমরা নিজেরাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ব্যাংকাররাও দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি কমিটি গঠন করেছে। অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকের দায় পরিশোধ না করে আদালতে চলে যাচ্ছেন। সেখান থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছেন। কোনো পক্ষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি বিবেচনায় রেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা চাই প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যেন হয়রানির শিকার না হন। তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ধরা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংকিং খাতে দেড় বছর ধরেই তারল্য সংকট চলছে। ঋণ প্রবৃদ্ধির তুলনায় আমানতের প্রবৃদ্ধি অনেক কম হওয়ায় এ সংকট দিন দিন আরো তীব্র হচ্ছে। তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। যদিও সরকার কয়েক দফায় ঘোষণা দিয়েছে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার। বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ ব্যাংক এখনো ১০ শতাংশের বেশি সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা বাস্তবায়ন হবে না বলেই মনে করছেন ব্যাংকাররা। যদিও গত সপ্তাহেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়ে ব্যাংক এমডিদের চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Development by: webnewsdesign.com