ব্রেকিং

x

দুই প্রেমিকাকে বিয়ে; রনির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০২২ | ৯:২১ অপরাহ্ণ |

দুই প্রেমিকাকে বিয়ে; রনির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ
সংগৃহীত ছবি

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নে এক সঙ্গে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করেছেন রোহিনী চন্দ্র বর্মন রনি (২৫) নামের এক যুবক। রোহিনীর বাড়ি ওই ইউনিয়নের লক্ষিদার গ্রামে। সে ওই গ্রামের যামিনী চন্দ্র রায়ের ছেলে। দুই কনের বাড়িও একই এলাকায়। তাদের বিয়েও হয়েছে তিন পরিবারের সম্মতিতে। খুশিও তারা। ইতিমধ্যেদুই প্রেমিকাকে বিয়ে করার পড় ঘরেও তুলেছেন রোহিনী । তবে এখনো তার কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ, চাকরি নেই তার। উপার্জনের কোনো পথও নেই। কিভাবে চলবে নতুন সংসার।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল ট্রেডে ডিপ্লোমা করেছেন রনি। পড়ালেখা এখনো বাকি। এক ভাই এক বোনসহ চারজনের সংসারে যোগ হয়েছে আরো দুই নতুন মুখ। নিজে এখনো উপার্জন করতে না পারায় চিন্তিত রনি। রোহিনী চন্দ্র বর্মন রনি বলেন, ‘তারা দুজনই আমাকে ভালোবাসে। তাই দুজনকেই বিয়ে করেছি। এই বিয়েতে আমরা খুশি। তবে চিন্তার বিষয়, আমি এখনো উপার্জন করতে পারি না। এখন চাকরি খুঁজতে হবে। ’

জানা গেছে, ইতি রানী একই ইউনিয়নের গাঠিশাপাড়া এলাকার গিরিশ চন্দ্রের মেয়ে এবং মমতা রানী একই ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীদ্বার এলাকার টনোকিশোর রায়ের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বলরামপুর ইউনিয়নের গাঠিয়াপাড়া এলাকার গিরিশ চন্দ্রের মেয়ে ইতি রানীর সঙ্গে রোহিনীর দীর্ঘ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল৷ পরে কয়েক মাসে আগে তারা দুজনে মন্দির গিয়ে গোপনে বিয়ে করেন এবং বিয়ের কথা তারা দুজনে গোপন রাখেন। এদিকে রোহিনী নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন লক্ষ্মীদ্বার এলাকার টোনোকিসর রায়ের মেয়ে মমতা রানী সঙ্গে।

প্রেমের সূত্রে মমতার সঙ্গে গত ১২ এপ্রিল রাতে দেখা করতে যান রোহিনী৷ পরে রোহিনীকে আটক করে রাখেন মমতার বাড়ির লোকজন এবং পরদিন (১৩ এপ্রিল) মমতার বাড়ির লোকজন রোহিনী ও মমতাকে বিয়ে দেন। এদিকে রোহিনীর বিয়ের খবর শুনে বুধবার সকালে রোহিনীর বাড়িতে অনশন শুরু করেন ইতি রাণী৷ পরে রাতে তিন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে পূণরায় আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি ও মমতার সাথে রোহিনীর একসঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন হয়। এবং দুই বউকে এক সঙ্গে ঘরে তুলেন রোহিনী৷

নির বাবা যামিনী কান্ত বর্মন বলেন, ‘ঘটনাক্রমে এমনটি হয়ে গেছে। এখন আমরা দুই মেয়েকেই মেনে নিয়েছি। তাদের নিজের মেয়ের মতো করে গ্রহণ করেছি। তারা সুখে থাকলে আমরাও সুখি। তবে ছেলেটির একটা চাকরি হলে ভালো হতো। ’ স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমাদের সমাজে সচরাচর এমন ঘটনা দেখা যায় না। দুই মেয়েই যেহেতু এক ছেলেকে চাচ্ছে, কেউ ছাড় দিচ্ছে না। তাই একসঙ্গেই তাদের বিয়ে দিয়েছে তাদের পরিবার। ’

Development by: webnewsdesign.com