ব্রেকিং

x

দুই বছর আগে নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহিন শরীফ আলী খুঁজে পেলেন তার বাবাকে

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫:১৪ অপরাহ্ণ | 49 বার

দুই বছর আগে নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহিন শরীফ আলী খুঁজে পেলেন তার বাবাকে
ফাইল ছবি

পরিবারের দাবী দীর্ঘ প্রায় দুই বছর যাবত বাড়ি থেকে নিখোঁজ শরীফ। পরিবার – পরিজনও খোঁজ না পেয়ে আশা ছেড়েই দিয়েছিলো একরকম কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া বন থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুন শরীফ আলীকে উদভ্রান্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গলের একদল তরুন।

ফেসবুকে ছেলেটির পরিচয় চেয়ে চালায় প্রচারণা, এর সূত্র ধরে পাওয়া যায় তাঁর পরিচয়। চুল কাটিয়ে, গোসল করিয়ে, পরিপাটি করে শনিবার তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জন্মদাতা পিতা হাসিমুখে গ্রহণ করেন পুত্রকে।

তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার পংদারীকেল গ্রামে। তার পিতা খোরশেদ আলী স্থানীয় একটি স্কুলের নৈশ প্রহরী।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে লাউয়াছড়া বন থেকে উদ্ধার করে চুল ও দাঁড়ি কাটিয়ে, গোছল করিয়ে নতুন পোশাক পড়িয়ে, পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে এনে রেখে খাবারের যোগান দেওয়াসহ পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা পাহারা দিয়ে রাখে তরুনরা এবং ছেলেটির ঠিকানা জানতে ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। পরে ফেসবুকের কল্যানে তার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে যোগাযোগ করে শ্রীমঙ্গলে আসেন পিতা।

শনিবার সকালে (২৬ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তরুনকে তার পিতা খোরশেদ আলীর কাছে তুলে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, অঙ্গীকার সামাজিক ও সাহিত্য পরিষদের সভাপতি শেখ সরোয়ার জাহান জুয়েল,শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন ‘আমরা স্বেচ্ছায় রক্ত দেই’ নামের সামাজিক সংগঠনের সভাপতি মো. ইমু ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান নাঈম।

অঙ্গীকার সামাজিক ও সাহিত্য পরিষদের সভাপতি শেখ সরোয়ার জাহান জুয়েল বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল ক্যাবল সিস্টেমের ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সারথী রায় ফেসবুকে লাউয়াছড়া বনে অজ্ঞাত পরিচয় একজন মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ লোককে সহযোগিতার জন্য একটি পোষ্ট দেন। সেটি শ্রীমঙ্গলের তরুন সমাজ কর্মীদের নজরে আসে। আমি তখনই স্বেচ্ছাসেবক নাঈম, আকাশসহ অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করি। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেই লোকটির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে যাতে তাকে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। আমরা মানসিক ভারসাম্যহীনতার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

আমরা শনিবার শরীফকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি ও তার চিকিৎসার জন্য নগদ কিছু অর্থ দেই এবং মানসিক চিকিৎসার ব্যাপারে পরিবারকে অবহিত করি, এমনকি মানসিক চিকিৎসার ব্যাপারে সমাজের যেকোন অমূলক কথা বা কারো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাত্তা না দিয়ে পুত্রকে সর্ম্পুণ সুস্থ্য করে তোলার জন্য পিতাকে প্রেরণা দেই। তিনিও এ ব্যাপারে নিজের ইতিবাচকতার কথা জানান এবং শ্রীমঙ্গলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Development by: webnewsdesign.com