ব্রেকিং

x

দেশে লকডাউনে সবজির দাম সহ নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ |

দেশে লকডাউনে সবজির দাম সহ নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী
ছবি: অর্থকাল

বাংলাদেশে সর্বাত্মক লকডাউনের কবলে পড়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হবার কারণে রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের বাজারে সবজি ও কাঁচামালের দাম রাতারাতি বেড়ে গেছে। তবে রমজানের ইফতারে বেশি চাহিদা রয়েছে এমন সবজি যেমন বেগুন, শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে অপেক্ষাকৃত বেশি।

একদিনের ব্যবধানে শশা আর বেগুনের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে একশ’ টাকার ওপরে উঠে গেছে। শসা, ঢেঁড়স, বরবটির কেজি একশ’ টাকার কাছাকাছি। এমন দাম বাড়ার কারণে নাকাল সাধারণ ক্রেতা।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, সবজির দাম এমনিতেই বাড়তির দিকে ছিল, রোজার মধ্যে লকডাউনের পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মাছ-মাংসের দামেও চলছে অস্থিরতা।

তবে সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে তেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুর। দোকানিরা জানিয়েছেন তেল, চিনি, মসলার বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে।

ওদিকে, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুন গঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউন ও রমজানের কারণে এক সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী ছিল নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কারণে চেক ক্লিয়ারিং এবং অর্থ লেনদেন সমস্যার কারণে বেশকিছু ভোগ্য পণ্যের দাম আবার বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ লেনদেন পণ্য ক্রয়ের পর চেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ১৩ এপ্রিল থেকে কয়েক দিন ধরে ব্যাংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে হয়নি। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিশ্রুত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পণ্যের সরবরাহও নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রতিশ্রুত চেক পাস না হওয়ায় নতুন করে পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় ভোগ্যপণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ কারণে ভোগ্যপণ্য বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রোজার আগেই ছোলা, খেজুরসহ বেশকিছু পণ্যের দাম কমতির দিকে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলমান বিধি-নিষেধের প্রথম দিন বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সকাল ৬টা থেকে। এতে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে ঢাকামুখী বিভিন্ন পণ্যবোঝাই কপয়েক শ’ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান।

পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়ে ঘাটে আটকে থাকা পণ্যবোঝাই ওই গাড়িগুলো বুধবার রাতের মধ্যে ফেরি পার করা হয়। বিধি-নিষেধের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় আকস্মিকভাবেই রাজধানীর বাজারে শাকসবজির কাঁচা বাজারে উত্তাপ বেড়ে যায়।

তবে আজ থেকে অতি জরুরি পণ্যবোঝাই ট্রাক পারাপারের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ফেরিতে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ সকল যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। – পার্সটুডে

Development by: webnewsdesign.com