ব্রেকিং

x

দেড় মাসের ভ্যাট দিতে চাচ্ছে না ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো

সোমবার, ০৬ জুন ২০২২ | ২:৫৩ অপরাহ্ণ |

দেড় মাসের ভ্যাট দিতে চাচ্ছে না ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো
সংগৃহীত ছবি

সয়াবিন ও পাম অয়েল পরিশোধনকারী কোনো কোনো কোম্পানি গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের প্রথম ১৩ দিনের উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট পরিশোধ করছে না। ভ্যাট কমিশনারেট অফিস থেকে চিঠি দিয়ে বারবার তাগাদা দিলেও কোম্পানিগুলো তাতে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো এই দেড় মাসের ভ্যাট মওকুফ চেয়ে কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে আবেদন করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৪ মার্চ অস্থির বাজারে স্বস্তি ফেরাতে পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েলের উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) অব্যাহতি ঘোষণা করেছে সরকার। আমদানিনির্ভর এই দুই ধরনের তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ধরনের ভ্যাট নেবে না সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর কয়েকটি কোম্পানি গত ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের প্রথম ১৩ দিনের ভ্যাটও পরিশোধ করছে না। কোম্পানিগুলো ওই সময়ের ভ্যাটও মওকুফ চাচ্ছে। এই দেড় মাসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ভ্যাট হবে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, কোম্পানিগুলো কোনোভাবেই এ ভ্যাট মওকুফ পেতে পারে না। কারণ ওই সময়ের ভ্যাট যোগ করেই কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করেছে। ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের কাছ থেকে এ ভ্যাট তারা সংগ্রহ করে নিয়েছে। ভোক্তাদের থেকে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব সংগ্রহ করার পর কোম্পানিকে তা মওকুফ করার কোনো সুযোগ নেই।

দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ টনই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। আমদানি হয় প্রধানত সয়াবিন ও পাম অয়েল। প্রতি মাসে গড়ে দেড় লাখ টন করে পরিশোধন করে কোম্পানিগুলো। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কোম্পানিসহ দেশের পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশের বাজারে সরবরাহ করে। এই পরিশোধন ব্যবস্থাকে স্থানীয় উৎপাদন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের মধ্যে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরও সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমেনি। বরং প্রতি লিটারে দাম ৩৮ থেকে ৪৪ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৮ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে এই দামে বিক্রিও হচ্ছে।

Development by: webnewsdesign.com