ব্রেকিং

x

ভুটানের সঙ্গে পিটিএ রোববার

দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকার বাণিজ্যে প্রথম যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ১২:২১ অপরাহ্ণ | 34 বার

দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকার বাণিজ্যে প্রথম যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। প্রথম অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএতে (প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট) যুক্ত হচ্ছে দেশ। রোববার বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটানের সঙ্গে এ চুক্তি হবে। ফলে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বেশকিছু পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্তভাবে আমদানি-রপ্তানি হবে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পিটিএ হচ্ছে এমন চুক্তি, যার অধীনে দুটো দেশের মধ্যে নির্ধারিত পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ আশা করছে, ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে আসবে। তখন এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য বিশ্ববাজারে যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায়, তা থাকবে না। কিন্তু যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ পিটিএ করবে, সেখানে এ সুবিধা বহাল থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভুটানের সঙ্গে পিটিএ ঐতিহাসিক ঘটনা। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জগতে বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও অনেক দেশের সঙ্গে পিটিএ বা এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) করা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে নেপাল, জাপান, ইন্দোনেশিয়াসহ ১১টি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান। এ কারণে চুক্তির দিন হিসেবে ৬ ডিসেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেই থেকে গত ৫০ বছর ধরে দু’দেশের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। এ চুক্তি দু’দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্কে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে প্রাথমিকভাবে রাজস্ব সংগ্রহ কমে আসতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হবে দেশ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাককে অগ্রাধিকারে রেখেই অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণে আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। তবে সামান্য শুল্ক হারানোর ভয়ে বসে থাকা ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে ঠিকমতো টিকে থাকতে পিটিএ বা এ ধরনের চুক্তি দরকার। এর ফলে রপ্তানি বাড়বে। দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যৎ বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চামড়া, পাদুকা, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, পাট ও পাটপণ্য নিয়ে আলাদাভাবে কাজ চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের আগস্ট মাসে ভুটানের থিম্পুতে পিটিএ নিয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত জুনে দুই দেশ চুক্তির খসড়া অনুমোদন করে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ ভুটানের বাজারে ১০০টি পণ্যে শুল্ক্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে। আর ভুটান বাংলাদেশের বাজারে তাদের ৩৪ পণ্যে একই সুবিধা পাবে।

দুই দেশের বাণিজ্য:

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে এক কোটি ২৮ লাখ ডলার বাণিজ্য হয়। ধীরে ধীরে তা বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এরমধ্যে বাংলাদেশ ভুটানে রপ্তানি করে ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য। আর ভুটান থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের পণ্য। প্রধানত পাথর আমদানি হয় ভুটান থেকে।

রোববারের অনুষ্ঠান:

দুই দেশের মধ্যে পিটিএ ও সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রোববার। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং অংশ নেবেন। দুই দেশের সম্পর্কের ৫০ বছরকে কেন্দ্র করে একটি লোগো উন্মোচন করবেন দুই সরকারপ্রধান। আর পিটিএতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ভুটানের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রী লিয়েনপো লোকনাথ শর্মা।

বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন সূচনা বক্তব্য দেবেন আর সমাপনী বক্তব্য দেবেন ভুটানের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত সচিব কর্ম শেরিং। ঢাকাস্থ ভুটানের রাষ্ট্রদূত ও ভুটানে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে চুক্তির দলিল হস্তান্তর করা হবে।

Development by: webnewsdesign.com