ব্রেকিং

x

নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিয়েছেন ৫৭ লক্ষাধিক মানুষ

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২ | ৭:২৭ অপরাহ্ণ |

নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিয়েছেন ৫৭ লক্ষাধিক মানুষ
ফাইল ছবি

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাগ্রহীতাদের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে মোট নিবন্ধনের সংখ্যাকেও। এখন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিয়েছেন ৫৭ লাখের অধিক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ওমিক্রন ভেরিয়েন্টেসহ করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় দ্রুততার সাথে মানুষকে টিকার আওতায় আনতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের টিকা বিষয়ক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

এতে দেখা গেছে, নতুন বছরের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে টিকা নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৮ জন। এদিকে, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টিকা কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত দেশে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৮ কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। অর্থাৎ, মোট নিবন্ধনের চেয়েও ৫৭ লাখ ৮০ হাজার ৬১০ জন বেশি টিকা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে মোট নিবন্ধনকারীদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ৮ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭০ জন ও পাসপোর্টের মাধ্যমে ১২ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৫ জন এবং জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে ৯ লাখ ১৯ হাজার ৬৬৩ জন নিবন্ধন করেছেন।

এদিকে, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে টিকাগ্রহীতার সংখ্যা বেড়ে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ২৬ হাজার ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৮ কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৮৩৪ জন। এছাড়া বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৬৫ জন।

রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (১৭ জানুয়ারি) আরও ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৫২২ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ১১ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৯ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ১৮৩ জন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় প্রথম ডোজ নেওয়া ১১ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৬ জন এবং নারী ৬ লাখ ১২ হাজার ৪৬৩ জন। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া ২ লাখ ৯১ হাজার ১৮৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৭৬ জন এবং নারী ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটা সময় আমরা স্পট নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা দিয়েছি। এখন স্পট নিবন্ধন ছাড়াও দেওয়া হচ্ছে। যেখানে নিবন্ধনের সুযোগ নেই, তারাও টিকা পাবে।

তিনি বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এই অবস্থায় দ্রুততম সময়ে টিকার আওতায় আনতে এটা ছাড়া আমার কাছে আর কোনো উপায় নেই। কারণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজন ব্যক্তির যদি কোনো কার্ড না থাকে, তাহলে আমি কীভাবে তার নিবন্ধন করব? কিন্তু তাকে তো টিকা দিতে হবে।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রথমদিকে শুধু এ টিকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে চীনের সিনোফার্ম, ফাইজারের বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা যুক্ত হয়।

Development by: webnewsdesign.com