ব্রেকিং

x

নূর কামরুন নাহার//দম্পতি

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ১:২৫ অপরাহ্ণ | 1256 বার

নূর কামরুন নাহার//দম্পতি

ওরা হেঁটে গেলো। এভাবে কেউ হেঁটে যায়! কোনো দম্পতি!

আমার জ্বলে গেলো। আমার জ্বলে যেতো কারণ ঐ মহিলার পাশে পাশে যে লোকটা হেঁটে গেলো তার সাথে আমার বিশেষ সম্পর্ক।
এটা সরকারী কোয়ার্টার এলাকা। শহরের খুব অভিজাত এলাকায় এই কোয়ার্টার। এখানে যারা থাকে সবাই হাই অফিসিয়াল। অনেক বড় বড় কোয়ার্টার এগুলো। এসব কোয়ার্টার এলাকায় নাকি পরকীয়া, বাড়িতে-বাড়িতে প্রেম খুব স্বাভাবিক ঘটনা। একসাথে অনেকদিন থাকতে থাকতে নাকি একটা আবেগ আর মায়া এমনিতেই জন্ম নেয়। তাই যদি হয়ে থাকে তবে ঐ লোকের সাথে আমার সম্পর্কও স্বাভাবিক আর লোকটা ঐ মহিলার সাথে হেঁটে গেলে আমার জ্বলে যাবে এটাও স্বাভাবিকের বাইরের ঘটনা না।
বউটা এসেছে মাসখানেক। তারপর থেকেই দেখছি ওদের এই হেঁটে যাওয়া । সবদিন আমার দেখতে হয় না। কারণ আমিও সবদিন থাকি না। থাকলেও দেখি না। দেখার প্রয়োজন হয় না। ওরা হেঁটে গেলেই বুঝতে পারি। বউটার পায়ের হাইহিলের খটখট আওয়াজ শোনা যায়। তারপর কোনোদিন ওদের কথার গুঞ্জরণ কোনোদিন হি হি হা হা। হেঁটে যাওয়া ছাড়াও এখন দোতালা থেকেই প্রায়ই শব্দ শোনা। হি হি হা হা কখনো বউটার একার হাসি। কখনো ওদের সমস্বরের।
লোকটার নাম রঞ্জু,আমার নাম মনিরা। বউটা মানে যে মহিলাটার সাথে রঞ্জু হেঁটে গেলো ওর নাম আশা। ওরা দোতালায় থাকে। আমরা একতলায়। দোতালার কোয়ার্টারটা রঞ্জুর নামে। আর একতলারটা আমার নামে। আমাদের এই কোয়ার্টারটা বাউন্ডারির একবারে শেষ মাথায়। দরজার মুখোমুখি কোয়ার্টারের ভেতরের রাস্তায় সামনে একটা কামিনী গাছ। প্রতিদিন ফুল ঝরিয়ে সাদা করে রাখে। আমার একতলায় বারান্দার সামনে দেয়াল ঘেষে একটা বাগান। বাগানের পরে ঐ কোয়ার্টারের রাস্তা। সবার বাসার সামনেই এরকম বাগান আছে। ছোট করে তার দিয়ে ছোট গাছ দিযে ঘেরা এই বাগানে বিভিন্ন ফুল গাছ। আমার বাগানের সামনে নানা রংয়ের সন্ধ্যা মালতী ফুটে থাকে। রাস্তার ওপরে কামিনীর একটু দূরে একটা কাঠগোলাপ গাছ। ওটাও ফুল ঝরিয়ে আঙ্গিনাটা আলো করে রাখে।
দোতালার দম্পতি যেন নতুন সংসার শুরু করেছে। বউটা আসার আগে নতুন করে বাসাটা রং করা হয়েছে। ঝকঝকে তকতকে বাসায় বউটা এসে উঠেছে। আমার গাড়িটার পাশে এখন মাঝেমাঝেই ওদের ঝকঝকে গাড়িটা এসে দাঁড়ায়। গাড়ি ওদের আগেও ছিলো কিন্তু রঞ্জু খুব বেশি ব্যবহার করতো না। ড্রাইভার ছিলো না। মাঝে মাঝে রঞ্জু নিজে ড্রাইভ করতো। এখন ড্রাইভার রাখা হয়েছে। আর বউটা এসেই নতুন নতুন লেটেস্ট আধুনিক ফার্ণিচার কিনছে। তারপর দুজনে ঘটা করে ঘর সাজাচ্ছে। নতুন পর্দা লাগিয়েছে। নতুন ঝাড়বাতি। বেডরুমে ঘরে নতুন লাইট লাগানো হয়েছে উজ্জ্বল আলো। জানালা দিয়ে বাইরে এস সে আলো আমাদের সামনের আঙ্গিনাটাও উজ্জ্বল করে রাখে। নীচে পড়ে থাকা কাঠগোলাপ ফুলগুলোও দূর থেকে ষ্পষ্ট দেখা যায়।
দোতালায় ওরা এখন দুজন থাকে। এতোদিন লোকটা একলা থাকতো। বউটা সুন্দরী আর বিদুষী । তবে সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে বউটা খুব পেশাগত উন্নতি চায় যাকে বলে হাইলি কেরিয়ারিস্ট। এই কোয়ার্টারটা ওদের নামে বরাদ্দ হয়েছে চার বছর। কিন্তু ওরা এখানে ওঠেনি। ওদের ছেরে দুটো দেশের বাইরে পড়া শোনা করছে। দুজনেরই গ্রাজুয়েশন হয়ে গেছে। বউটাও দেশের বাইরে স্কলারশীপ নিয়ে তিনবছর পড়াশোনা করে বড় ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। দেশের বাইরে যাবার আগে মা’র বাসায় থাকতো । ওখানে থেকে বউটার পড়াশোনা করার সুবিধা ছিলো। তারপর তিনবছর আগে যখন চলে গেলো তখন লোকটা কোয়ার্টারে এসে ওঠে। আমি ঐ লোকটাকে এখানে আসার অনেক আগে থেকেই চিনি। কারণ আমরা তো শুধু প্রতিবেশী নই, আমরা কলিগ। অফিস থেকে বের হতে, ঢুকতে, লিফটে , অফিশিয়াল প্রোগ্রামে লোকটার সাথে আমার বহুবার দেখা হয়েছে। আমরা সৌজন্যের হাসি বিনিময় করেছি। লোকটা আমাকে জাহান আরা ম্যাডাম আর আমি লোকটাকে আজহার হোসেন এবং আমার উর্ধ্বতন পদের একজন স্যার হিসেবে জেনেছি। তারপর যখন লোকটা এখানে কোয়ার্টারে আমার প্রতিবেশী হয়ে এলো তখন লোকটাকে নতুনভাবে দেখা হয়, নতুনভাবে জানা হয়।
লোকটা দোতালায় এমনভাবে পরে ছিলো মনে হতো না কেউ ওখানে থাকে। ঘরে আলো জ্বলে কি জ্বলে না। আমার জানালার পাশের রাস্তা দিয়ে লোকটা যাওয়া আসা করে । মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে দেখি। গায়ে একটা যেমন তেমন শার্ট। লুজ প্যান্ট একটু যেন গোড়ালির ওপর টেনে থাকে। খুবই সাদামাটা,অনাকর্ষণীয়। এই অভিজাত কোয়াটার এলাকায় লোকটাকে মিলানো যায় না। এই পদের একজন লোক বলে তাকে মেনে নিতে কষ্ট হয়। অফিসে লোকটা সকালেই যায় কিন্তু অফিস ছুটি হবার সাথে সাথে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে না। রাতে লোকটার ফিরে আসার আওয়াজ পাই। সান্ডেল হেচরানো আওয়াজ তুলে যেন নিজেকে টেনে নিয়ে আসছে এমন ভাবে লোকটা ঘরে ফিরে আসে। তারপর লোকটা রাতে বা সকালে কি খায় জানি না। নিজেই রান্না করে নাকি কোথাও থেকে খেযে আসে বুঝি না। কোনো কাজের বুয়া আসে কি না দুপুরে কাজ করে যায় কি না তাও বুঝি না। মাঝে মাঝে আজহার হোসের নামের লোকটার সাথে আমার চোখাচোখি দেখা হয়ে যায়। আমরা সৌজন্য বিনিময় করি। তারপর দুএকটা কথা হয়। একদিন বিকেলে দেখি নীচে আমার দরজার কাছে। আমিও তখন অফিস থেকে ফিরে ঘরে ঢুকবো। সৌজন্য করে চা খেতে ডাকলে লোকটা সাথে সাথে চলে আসে। বুঝতে পারি চরম নিসঙ্গতায় ভুগছে । চা খেতে খেতে গল্প হয় বউটার কথা ওঠে। ছেলে দুটোর কথা ওঠে। একদিন সন্ধ্যায় নিজেই এস চা খাবার কথা বলে। চা খেতে খেতে ভালো করে তাকিয়ে দেখি। ঠিক যেন একটা ডুবন্ত মানুষের মতো দেখায়। বুঝতে পারি নিসঙ্গতায় লোকটা মারা যাচ্ছে। ঠিকমতো খেতে পাচ্ছে না। চেহারায় একটা অনাহারী ভাব। নিজে থেকেই বলিÑ আজ রাতে আপনার খাবার ব্যবস্থা কি?
খেয়ে নেব কোথাও ।
কোথায় খাবেন?
কোনো রেস্টুরেন্টে।
আজ রাতের খাবার আমার এখানে খাবেন।
খুশিতে লোকটার চোখ চকচক করে। বুঝি খাওয়া দাওয়ার খুব কষ্ট হচ্ছে । একদিন একটা তরকারী রেঁধে পাঠাই। লোকটা গদগদ হয়ে যায়। একদিন নিজেই গিয়ে তরকারী দিয়ে আসি। ঘরের অবস্থা দেখে মায়া লাগে। লোকটাকে দেখে আরো মায়া লাগে। বউ অনেকেরই বাইরে থাকে। কিন্তু তারা কেউ এভাবে না খেয়ে শুকিয়ে থাকে না। তারা সেটা অন্যভাবে ম্যানেজ করে নেয়। হয়তো বুয়া রাখে বা কোনো দুসম্পর্কের আত্মীয় তারা রেধে বেধে দেয়। অথবা কারো বাসায় খায় নিদেন পক্ষে ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে খায় । কিন্তু লোকটা কোনোকিছুই করে না। দেখেই বুঝতে পারি ভালো হোটেলেও সে খায় না। কারো বাসায় গেলে হয়তো খেযে আসে। আর বাকি দিন জোড়াতালি দিয়ে কাটায়।
লোকটাকে মাঝে মাঝেই খাবার পাঠাই। ভালো কিছু রান্না করলে লোকটাকে না দিয়ে খেতে পারি না। লোকটাও লোভী হয়ে ওঠে। আমার হাতের রান্না ছাড়া যেন খেতেই পারে না। আমার হাজব্যান্ড আলম ব্যবসায়ী মানুষ সারাদিন ব্যস্ত থাকে। রাত করে ঘরে ফিরে। দুটো বাচ্চাকে পড়ানো ছাড়া সন্ধ্যাটা আমার ফাঁকাই থাকে। প্রায় সন্ধ্যাতেই লোকটা আসে চা খায়। আমিও খাই। তারপর লোকটা আমার কাছে রঞ্জু হয়ে যায়, আমি মনিরা। লোকটা প্রায়ই সব চোখ আমার সিঁিড়র কাছ ঘেষে পেছনের দরজাটা দিয়ে আমার বাসায় ঢোকে। খুব নীরব সময়ে সুবিধামতো আমি লোকটার দোতালার ড্রয়িংরুমের দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ি। এভাবে আমরা দুজন দুজনের হয়ে যাই। লোকটাকে আমি ভালো শাটর্, কাপড় কিনে দেই। লোকটা আমাকে খুব মানসিক সার্পোট দেয়। খুব উষ্ণতা দেয়। লোকটা আমাকে বলে -আমিই তার বউ। আমি বলি -আমার মনের মানুষ।
এখন ওরা হেঁটে গেলো। বউটা খুব আস্তে আস্তে খুটখুট আওয়াজ তুলে হাঁটে। রঞ্জু বউয়ের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে পাশাপাশি হেঁটে যায়। রোজ এভাবে গায়ে গা মিলিয়ে ওরা বাইরে যাচ্ছ। এটা সেটা কিনে আনছে। সবসময় ওরা একসাথে বের হচ্ছে একসাথে পায়ে পা মিলিয়ে ফিরে আসছে। তারপর হাসতে হাসতে ওগুলো নিয়ে দোতালায় ওঠছে। ওরা বের হলে আশেপাশের কোয়ার্টারের সবাই ওদের তাকিয়ে দেখে। যেন রঙিন কোনো বায়স্কোপ দেখছে। বউটা এসেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যেমন সাজ পোশাক তেমন সবার সাথে হাই হ্যালো। কোয়ার্টারের ভেতর এখন ওদের গল্পই শুধু ঘরছে। দুই বছর চারমাস পর বউটা এসেছে। বড় ডিগ্রি আর বড় বেতনের চাকুরি নিয়ে এসেছে। বাচ্চা দুটো আসেনি। ওরা ওখানেই পড়াশোনা করছে। বউটা এসই হুলুস্থুল করে বাড়ি ঘর সাজাচ্ছে। কয়েকদিন ধরে মাঝে মাঝেই বন্ধুদের সাথে গেট টুগেদার করছে। বাড়ি সাজানো দেখাচ্ছে। বাসায় বাবুর্চি রেখেছে। খুব নাকি নামকরা বাবুর্চি । সুস্বাদু রান্নার গন্ধে আমার একতলাও মৌ মৌ করে। বন্ধুরা খায় গল্প করে। তখন ওদের সম¯^রের হাসি আমার একতলাকে কাঁপিয়ে যায়। তারপর বউটা বন্ধুদের খুব হৈ চৈ করে বিদায় দেয়। তখন ওরা দুজন দোতলা থেকে আমার জানালার সামনের কোয়ার্টারের রাস্তায় নেমে আসে। তখন আবার তাদের সমস্বরের হাসি রাস্তার ওপর ভেঙ্গে পড়ে। আমার বাচ্চা দুটো সেদিন বললো- আম্মু আন্টি খুব হাসতে পারে তাই না।
বাসায় যতক্ষণ থাকে ততক্ষণও ওরা কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করে। সেদিন দেখা গেলো আমাদের সামনের কমন বাগানে দাঁড়িয়ে বউটা ছবি তুলছে। বোঝা যায় দাম্পত্যের স্বাদ ওরা কড়ায় গন্ডায় পুষিয়ে নিতে চাচ্ছে। আমি একতলায় ঝিম মেরে পড়ে থাকি। সেদিন আলমকে বলেছি আজ তাড়াতাড়ি ফিরবে। আমরা বাইরে খেতে যাবো। আলম বাধ্য স্বামীর মতো চলে এসেছে। আমরা খুব ঘটা করে খেতে গেছি। যাবার আগে দু একবার দোতালার জানালায় তাকিয়েছি। বারবার প্রার্থনা করেছি ওরা দেখুক। সেদিন আলমের সাথে মাকের্টে গিয়েছি। আলম আমাকে খুব সুন্দর একটা শাড়ি কিনে দিয়েছে। সব হচ্ছে কিন্তু আমার জ্বলে যাচ্ছে। আমার কানে হাসির শব্দ বাজে। নতুন দম্পতির কলরোল বাজে। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
অফিসে রঞ্জুকে বলি – এভাবে কেউ হেঁটে যায়?
কিভাবে?
এই যে কাল সন্ধ্যায হেঁটে গেলে।
কিভাবে হেঁটে গেলাম?
এই যে বউয়ের সাথে সাথে পায়ে পা মিলিয়ে। তোমার বউ তো খুব আস্তে হাঁটে। তুমি তো এতো আস্তে হাঁটো না।
তা হাঁটি না।
কোয়াটারের আর কোনো দম্পতিকে এভাবে হাঁটতে দেখেছো। তুমি তোমার স্বাভাবিক হাঁটা হাটবে। এমন আস্তে আস্তে পায়ের সাথে পা মিলিয়ে মার্চপাস্ট করতে হবে কেন?
রঞ্জু কেমন করে হাঁটে, কতোটা জোরে, ওর কোন সময়ের ভঙ্গিমা কি এসব আমার চাইতে ভালো আর কে জানে! না বউটাও জানে না। রঞ্জু আমাকে নিজেই বলেছে ওর বউ ওকে বুঝতে পারেনি। বুঝতে যে পারে নি তা আমিই তো বুঝি। বউটা শরীর ধরে রাখার জন্য ডায়েট করে, ঘরে ভালো কিছু রাধে না। আর রঞ্জুর ভালো খাবারে চরম আগ্রহ। বউটা ক্যারিয়ার নিয়ে পরে থাকে। আর রঞ্জু খুব উত্তপ্ত পুরুষ। রঞ্জু আমাকে বলেছে ওর বউ ওকে আমার মতো সুখি করতে পারে নি। যেমন আমি বিশ্বাস করি আলম আমাকে রঞ্জুর মতো সুখি করতে পারে নি। আলম আর আমি মনে ও শরীরে দুদিক থেকেই একবারে ভিন্ন। কিন্তু রঞ্জুর সাথে আমি মিশেই বুঝতে পেরেছি আমাদের দুজনের শারীরিক ও মানসিক ক্যামেস্ট্রি এক। শুধু তাই না আমাদের রুচি আর পছন্দও এক।
রঞ্জুর সাথে মোবাইলে এখন কোনো কথা হয় না। অথচ আমরা ঘন্টার ঘন্টায় কথা বলেছি। দু এক ঘন্টা কথা না বললে রঞ্জুর নিশ্বাস নাকি আটকে যায়। সেদিন একটা ফোন করে দেখেছিলাম। রঞ্জু ফোন ধরেনি। অনেকক্ষণ পর একটা ম্যাসেজ করেছে আমি বাসায়। বাসায় থাকলে কি মানুষ পৃথিবীর কারো সাথে কথা বলে না নাকি। আর বাসা মানে কি একটাই ঘর ? এ ঘর ও ঘর নেই । কোনো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দু এক মিনিট কি কথা বলা যায় না। ধরে নিচ্ছি আমার ফোনের সময় বউটা কাছে ছিলো। কিন্তু একটু ফাঁক বুঝে রঞ্জু কি আমাকে একটা ফোন করতে পারে না। আমার জ্বলে যায় ।
কি ব্যাপার তুমি কি সারাক্ষণ বউয়ের কোলে বসে থাকো নাকি? নাকি বউ তোমার কোলে বসে থাকে?
না তা হবে কেন?
আমার ফোন ধরলে না যে।
ভীষণ সন্দেহ করে তাই কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না।
ঝামেলায় যেতে চাও না মানে?
ইা ধরো যদি বুঝে ফেলে তাহলে তো দুজনে আর এতো সহজে মেলা মেশা করতে পারবো ন্ াতাই প্রথমে একটু সাবধান থাকছি।
এতো সন্দেহ করে কেন?
ওটাই ওর স্বভাব
ওর স্বভাব না তোমার স্বভাব ভালো না সেজন্য করে।
আমি জানি রঞ্জুর বউ আমাকে সন্দেহ করে। অনেকদিন আগে হয়তো এই কোয়ার্টার এলাকার কোনো শুভাকাক্সক্ষীর সুবাদে ওর বউ জানতে পেরেছে আমার সাথে রঞ্জুর কিছু একটা আছে। এনসব কোয়াটার এলাকায় প্রকাশ্য গোপন অনেককিছুই থাকে। যদিও এ আমি আর রঞ্জু প্রকাশ্যে বাড়াবাড়ি এমন কিছুই করি না যে কোয়ার্টারের দেয়ালগুলোও বলতে থাকবে। আর আমাদের এতো সুবিধা যে রঞ্জু সিঁড়ি দিয়ে নেমে চুপ করে কখন আমার রুমে আর আমি একতলা সিঁড়ি ভেঙ্গে টুপ করে কখন ওর বাসায় ঢুকে যাই তা কেউ বুঝতেই পারে না। আর এখন মানুষ অনেক ব্যস্ত । মানুষ এখন এতো কিছুতে নজর রাখতে পারে না। তবে আমরা যা করি তা খুবই বাড়াবড়ি কিন্তু আমাদের সেটুকু করার সুযোগ আছে , সেটা করা আমাদের দুজনের জন্যই খুব প্রয়োজন ছিলো আর প্রকৃতিও আমাদের খুব সহায়তা করে। যাইহোক বউ কিছু একটা জানতে পেরেছিলো তাছাড়া সাতদিনের শর্ট নোটিশে ওর বউ একবার এসছিলো। আমি তখন রঞ্জুকে এব জায়গায় যাবার ব্যাপারে একটা টেক্সট করেছিলাম। ওর বউ আমার নাম্বারে ফোন করে বলেছিলো – কে বলছেন?
আমি খুব স্টাইল করে বলেছিলাম- জাহান আরা বলছি
তারপর বউটা বেশ রুক্ষ কন্ঠে বলেছিলোÑ আপনি জাহান আরা আমার হাজব্যান্ড এর সাথে আপনার কি সম্পর্ক ?
আমি খুব ঠান্ডা গলায় বলেছিলামÑ সেটা আপনার হাজব্যান্ডকে জিজ্ঞেস করলেই ভালো হয় না।
আমার কাছে ওর বউয়ের এই প্রশ্ন খুব অরুচিকর ঠেকেছিলো। মাহলাকে আমি যতোটা স্মার্ট মনে করেছিলাম আদতে তা নয়। ওই টেক্সটা কোনো আপত্তিকর ছিলো না। অফিসিয়াল কোনো কাজে কোথাও যাবার ব্যাপারে কোনো কলিগ এ ধরনের টেক্সট করতেই পারে। ব্যাপারটা নিয়ে আমি তাই কোনো মাথাই ঘামাইনি।
এখন যখন এই দম্পতির আবার নতুন করে দাম্পত্য শুরু হয়েছে। পাশের কোয়ার্টারের সবার কাছে এই দোতালা একটা উৎসুকে পরিণত হয়েচে। ওরা কখন বের হয়, কখন ফিরে, কেমন করে হাসে। কোন বাগানে গিয়ে ছবি তুলে ,সকালে কখন হাঁটে। ভদ্রমহিলা কোন ব্যায়ামের মেশিন কিনে আনে। তারপর কখন শরীর চর্চা করে। এগুলো সবই যখন এখন খুব আলোচনার আর কৌতূহলের বিষয় তখন আমি বুঝতে পারি বউটার কোথায় আমাকে দেখানোর একটা ব্যাপার আছে। আর আমাকে নিয়ে তার মনের গহনে জ্বালা পোড়াও আছে। কারণ সনেএদর একটা তীর তার আছেই। কারণ এই এতো গন্ধ ছুটিয়ে এতো বন্ধুদের দাওয়াত আর মহা সমারোহে এই বাড়ি ঘর এমন পালিশ করে সাজালেও সবচেয়ে নিকট প্রতিবেশী হলেও বউটা কোনোদিন আমাকে সৌজন্য করেও আসতে বলেনি। তবে দু একবার চোখাচোখি যখন দেখা হয়েছে বউটা খুব কৃত্রিম হাসি হেসে খুব শুদ্ধ ভাষায় সুন্দর করে চোখে মুখে খুব উচ্চ¦াস দেখিয়ে টেনে টেনে বলেছে কি ভালো?
আর তখন রঞ্জু তখন এমন সর্তক ভাবে হেঁটে গেছে যে সামনে কোনো মানুষ আছে তা যেন সে জানেই না।
বউটা বেশ সুন্দরী। শরীরকে খুব ভালোভাবে বেঁধে রেখেছে। তারপর বউটা খুব সাজে। টিনএজদের পোশাক পড়ে। লেটেস্ট ফ্যশানের সব কিছু। সামনের জানালায় আসলেও নিজেকে খুব গুছিয়ে আসে। সবসময় ফিটফাট থাকে। বউটাকে কখনই সাধারণ পোশাকে দেখা না। কোয়ার্টারের সামনের রাস্তায় বের হলেও আধুনিক পোশাক এবং সাথে স্যান্ডেল পর্যন্ত খুব ম্যাচিং। বুঝতে পারি বউটা ওর তরুণীর মতো শরীর, মেদহীন সমান পেট আমাকে দেখাতে চায়। সবাইকে ওসব দেখাতে সে খুব পছন্দ করে। আমার কম সৌন্দর্যও তাকে আশ্বস্ত রাখে না। আরো নিখুঁত আরো শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হিসেবে নিজেকে সবসময় মেরে ধরতে চায়। বউটা বেশ লম্বা তারপরও হাইহিল পরে। পাশাপাশি হেঁটে গেলে কখনও রঞ্জুর মাথা ছুঁয়ে বউটার মাথা উঁচু দেখা যায়। আমার খর্বতাকে ও ওর উচ্চতা দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চায়। সেদিন কোয়ার্টারের একটা অনুষ্ঠানে আমাদের দেখা হয়েছিলো। বউটা দেখলাম দুবার ইচ্ছা করে এসে আমার পাশে দাঁড়ালো। আমি বুঝতে পারছিলাম ও আমার সাথে ওর উচ্চতার তুলনা করে নিচ্ছে। আশে পাশের মানুষকেও হয়তো দেখাচ্ছে। তবে আমার থেকে ওকে ফুট খানেক উঁচু দেখা যাবার পরও ওকে চোখে আমি স্বস্তি দেখিনি। আমার অদ্ভুত মনে হয়
তোমার বউ এতো সেজে থাকে কেন?
ও সাজতে পছন্দ করে।
তাই বলে সবসময়। নাকি তুমিই সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করো।
কি যে বলো !
আমার তো তাই মনে হয়। বউ একটা সুন্দরী তাকে পুতুলের মতো সাজিয়ে রেখে সবাইকে দেখানো- দেখেন, দেখেন কেমন একটা একটা সুন্দরী বউ আমার
তোমার তো দেখি মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
না না মাথা নষ্ট না। বউকে তো ঠিকই পুজা করো, ঠাকুর মানো। তুমি ঠিকই তোমার সুন্দরী আর জ্ঞানী পদমর্যাদাবান বইয়ের সামাজিক অবস্থানের ক্রেডিট নিয়ে থাকো।
তোমার মাথাটা একটু ঠান্ডা করে তো
না মাথা আমার ঠান্ডা হবে না। এই তিনবছর কোথায় ছিলো। আমি যে বাটি বাটি তরকারী পাঠালাম। জ্বর হলে গাঁ মুছিয়ে দিলাম। ও তো তখন তোমায় দেখেনি। ডিগ্রি নিতে ব্যস্ত ছিলো।
আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি। তোমাকেই বউ বলি।
আচ্ছা তোমার বই এতো হাই হিল পড়ে কেন?
ওটা ওর অভ্যাস।
তোমার মাথা থেকে ওর মাথা উঁচু দেখা যায় বিশ্রী লাগে।
আচ্ছা বাদ দাও ওসব আমরা আমাদের গল্প করি
না, বাদ না ,ব্যাপারটা খুবই দৃষ্টিকটূ। তোমার বউ আসলে তোমাকে পাত্তা দিতে চায় না। সবকিছুতে যে ও তোমাকে ছাড়িয়ে এটা বুঝাতে চায়।
রঞ্জু আমাকে বারবার বোঝাতে চায় । আমার জায়গাটা আমারই আছে ওটা কোনোভাবেই খোয়া যায়নি। রঞ্জু বলে কিন্তু আমার মন মানতে চায় না। ভেতরে আমার আগুন জ্বলতেই থাকে। ওদের দুজনকে দেখলেই এখন আমার মাথায় রক্ত ওঠে যায়। আমাকে দেখলেই বউটার হাহাহিহি বেড়ে যায়। পাশে জামাইয়ের কাঁধ ঘেষে দাঁড়ায় গায়ের সাথে একবারে রেপ্টে যায়। চোখে এমন একটা ভাব খেলা করে দেখ আমরা কত সুখি। আর এই যে আমার লোক, তুমি পছন্দ করো, কই নিতে পারলে? পারলে? আর লোকটা বউটার সাথে থাকলে ম্যাও হয়ে যায। একটা লোক এতো ভান কিভাবে ধরে। কিভাবে এমন ধামাধরা হতে পারে। আশ্চর্য মানুষ এতো চোর হয়, এতো হিপোক্রেট! তারপর রঞ্জুর প্রতি আমার এই তীব্র রাগ স্থায়ী হয় না। আমাকে কাছে পেলে ও ওর এই ম্যাও হয়ে থাকার এমন ব্যাখ্যা দেয়, এমন যুক্তি দাঁড় করায়,আমাকে ভালোবাসার কথা এমন গভীর বিশ্বাসের সাথে বলে, আমাকে এমন আদর দেয় যে , আমি পটে যাই। শুধু পটিই না মোমের মতো গলে যাই। তারপর সবকিছুর পরও লোকটা আমার সঙ্গ আর শরীরের জন্য উন্মাদ হয়ে থাকে। আমি লোকটার শরীর আর মনের জন্য উন্মাদ হয়ে থাকি এবং সুযোগ বুজে লোকটা একতলায় আর আমি দোতলায় প্রবেশ করি। তখন আবার আমার বউটার জন্য খুব করুণা হয় আহা এতো সাজগোজ, এতো জ্ঞানী গুণি, এতো ডিগ্রি, এতো সুন্দরী, এতো শরীর ধরে রাখা কি লাভ হলো এতো কসরতের ?
বউটা বেশ রাগী। মাঝে মাঝে ওদের বাসায় ভাঙ্গচূড়র আওয়াজ পাওয়া যায়। রঞ্জু বলে ওর বউযের মেজাজী। সামলানো নাকি খুব কঠিন। কিন্তু আমি জানি রঞ্জু কি চিজ! আমি তো জানি ওর অস্বচ্ছতা। ওর অনেক আচরণের কোনো ব্যাখ্যা ও আমাকে দিতে পারে নি। বউটার অবহেলা আর অবজ্ঞার কথা ও যতোই বলুক আমিই ওর আশ্রয়, আমিই ওর অক্সিজেন কিন্তু ও যে আরও কোথাও যায় সেটা আমি বুঝি।আর যে কৃপণ। ওকে আমার চাইতে কে বেশি চিনে।
বউটার সাথে আজকাল আমার একটা খেলা চলে বউটা আমাকে দেখেও অনেক সময় না দেখার ভান করে। আবার আমিও ওদের দেখি না এমন দেখাই। কিন্তু ওদের আমি সব সময় জানালার আড়াল থেকে দেখি। মাঝে মাঝে আমি যখন গাড়িতে উঠি দেখি দোতালার পর্দা খুব মৃদূভাবে নড়ছে। আমি বুঝি কেউ আমাকে দেখছে। মাঝে মাঝে ভাবি রঞ্জু । কারণ রঞ্জু আমাকে এভাবে দেখতে খুব পছন্দ করে। কিন্তু পরে বুঝি রঞ্জু না। কারণ রঞ্জু হলে পরে আমাকে বলতো তোমাকে দেখলাম। এই রংয়ের ড্রেস পরেছো খুব ভালো লাগছিলো। কিন্তু রঞ্জু যেহেতু এগুলো বলে না তাহলে বউটাই আমাকে দেখে। আমরা এভাবে দুজন দুজনকে চোখে চোখে রাখি। কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে দেই না।
বউটার সাথে এই খেলা রঞ্জুর সাথে এই খেলা খুব নিখুঁত ছিলো। কিন্তু তারপরও দুর্ঘটনাটা ঘটলো। বউটা সব বুঝে গেলো। ভুলটা আমারই ছিলো। বউটা গিয়েছিলো তিনদিনের টুরে। এইসময় একদিন রঞ্জু আমার একতলায়, আর আমি একদিন রঞ্জুর দোতালায় গিয়েছিলাম। ভুল করে আমার ব্রা টা ফেলে এসেছিলাম রঞ্জুর বাথরুমে। বউটা আবার দুদিন পরেই একটু রাত করে ফিরে এসেছিলো । আর রাতেই বউটা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলো রঞ্জুকে। এটা কার? না, রঞ্জু বলেনি কার। আমিও কোনোদিন স্বীকার করবোনা ওটা আমার। ওটা কার বউটা নিশ্চিত করে জানে না। কিন্তু ওটা যে আমারই হবে এটা নিশ্চিত করে বুঝে। বউটার এতোদিন শুধু সন্দেহ ছিলো, বউটা এখন নিশ্চিত। এখন তার বাঁকানো সুন্দর ভ্রু নাচিয়ে আর কমলার কোয়ার মতো ঠোঁট দিয়ে সে আমার দিকে যতোই বিদ্রুপের হাসি ছুঁড়ে দিক। রঞ্জু কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে যতোই দেখাক আমরা খুব সুখি দম্পতি। বুকের ভেতর ও এখন সত্যটা জানে। রঞ্জু কোথাও যায়। রঞ্জু আমার কাছে আসে। আমার কাছে আশ্রয় খুঁজে।
দুদিন বউটাকে দেখি না। জানালায় কান পেতে রাখি বউটার হাইহিলের খুটখুট আওয়াজ আর পাশে মার্চপাস্ট করে ফিরে আসা লোকটার পায়ের শব্দ শোনার জন্য। না , শুনি না। রাতে ওদের বেডরুমে কোনো বাতি দেখি না। কোনো হাসির শব্দ শোনা পাই না। ওদের বাসায় কোনো ভাঙ্গচূড়ের শব্দও পাই না। দোতালায় ওদের কোনো শব্দ পাই না। নীচতলায় আমার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে থাকে। তিনদিন পর রঞ্জুকে অপিসে ধরি-
কি কোনো অগ্রগতি হলো ?
হ্যাঁ আশাকে ম্যানেজ করতে পেরেছি।
পাঁচদিন পর সন্ধ্যার ওরা হেঁটে যায়। আমার হঠাৎ খুব কষ্ট হয়। এভাবে কেউ হেঁটে যায়! হেঁটে যায় কোনো দম্পতি। রঞ্জু বেশ ব্যবধানে আগে আগে হাঁটছে। পিছনে বউটা। বউটার পরণে টকটকে লাল সলোয়ার কামিজ। মুখে খুব সাজ। ঠোঠে টকটকে লাল লিপস্টিক। সব কিছু ম্যাচিং করা। কিন্তু বউটার মুখটা ঠিক যেনো মরা মানুষের মুখ। প্রানহীন সাদা। আমার খুব কষ্ট হয় ।
এভাবে কেউ হাটে! হাটে কোনো দম্পতি!
রঞ্জু বউটাকে ম্যানেজ করেছে। বউটা নাকি আমার হাজব্যন্ডের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলো। বউটা নাকি আমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলো। অফিসে আমার নামে আমার বসের কাছে নালিশ করতে চেয়েছিলো। কোয়ার্টারের সবাইকে জানিয়ে দেবে বলেছিলো। প্রমাণ হিসেবে ব্রাটা নাকি সুন্দর করে ভাঁজ করে রেখে দিয়েছে। তারপর বউটা আর কিছুই করেনি। রঞ্জু বউটাকে ম্যানেজ করেছে। রঞ্জু ওর বড় ডিগ্রির, বড় বেতনের সুন্দরী বউকে ম্যানেজ করেছে। কি বলে ম্যানেজ করেছে রঞ্জু? যা বলে, যা করে ও আমাকে পটিয়ে ফেলে, মোমের মতো গলিয়ে ফেলে? আমি ওকে হাড়ে হাড়ে চিনি। আমার মতো ওকে আর কে চেনে! ও যে আমাকে ছাড়াও চোখে মুখে নরম আন্তরিকতা আর চোখে উজ্জ্বল খুশির ঝলক নিযে আরো কোথাও বলে – বাহ্ তোমার সজনে ডালটা তো ঠিক আমার মায়ের রান্নার মতো হয়েছে । ডাটার সাথে চিড়িং মাছ ? কই কেমন হলো আনো তো দেখি ” তা কি আমি বুঝি না। শুনেছি বউটা আবার একটা ডিগ্রী নিতে যাবে। তখন ও যে আবার ‘তোমার হাতের রান্না ছাড়া আমি খেতে পারি না’ একথা বলে লতি- শুটকি আর করলা-চিড়িং ভাজি দিয়ে আমার ডাইনিং টেবিলে বসে ভাত খাবে, ‘তোমার মতো অন্য কাউকে ভালোবাসবো এটা কি কেরে সম্ভব বলো’ একথা বলে আমার বেডরুমে, আমার বুকে মুখ গুজে শুয়ে থাকবে এটা কি আমি জানি না!
পাঁচদিন পর ওরা সন্ধ্যায় হেঁটে যায়। রাতে দোতালার বেডরুমের উজ্জ্বল বাতিটা আমাদের সামনের জায়গাটা আবার আলো করে রাখে। যে আলোয় নীচে পড়ে থাকা কাঠগোলাপ ফুলগুলোও দূর থেকে ষ্পষ্ট দেখা যায়।

Development by: webnewsdesign.com