ব্রেকিং

x

পিরোজপুর জেলা জজকে তাৎক্ষণিক বদলি কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২০ | ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | 150 বার

পিরোজপুর জেলা জজকে তাৎক্ষণিক বদলি কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

পিরোজপুর সদরের সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রীর জামিন খারিজের পর পিরোজপুর জেলা জজ আবদুল মান্নানকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ কেন অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুল জারির আগে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফের মতামত শোনেন আদালত। এরপর স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে আসার পর তা আমলে নিয়ে বুধবার (৪ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) এ রুল জারি করেন।
পিরোজপুরের এক সাবেক এমপির জামিন নামঞ্জুর ও বিচারককে প্রত্যাহার নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম ও ইউনুছ আলী আকন্দ। পরে সিনিয়র এক আইনজীবীর মতামত নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। সঙ্গে সঙ্গে আগামী বুধবার রুলের শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
এর আগে সকালে হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যান ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। সে সময় আদালত বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোম্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি নজরে আনেন আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মুনির ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন।
পরে আদালত বলেন, এটা প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। কী হয়েছে আমরা জানি না। প্রধান বিচারপতি জিএ (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কমিটির প্রধান।

এদিকে একই বিষয়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন হাইকের্টের আরেকটি বেঞ্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের নজরে আনেন। আদালত রিট করার পরামর্শ দিয়ে আবেদনটি গ্রহণ করেননি।

পাশাপাশি ওই বিচারকের প্রত্যাহারের কারণে আইনমন্ত্রী ও দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে জেলা জজকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা। রিলিজ করে তার অধীনস্থ একজন যুগ্ম জেলা জজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়! কিন্তু সারাদেশে যারা জেলা জজ আছেন তারা মানসিকভাবে কী চিন্তা করছেন। আমি বলেছি, প্রধানমন্ত্রী যে চেষ্টাটা করে যাচ্ছেন যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যতটুকু পারা যায়, চেষ্টাটার মধ্যে এটা কি একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? এটা সরকারকে কি বিব্রত করছে না? আমি বলেছি এটা আপনারা (হাইকোর্ট) ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করলে করতে পারেন। তখন তিনি (আদালত) রিটে যেতে বললেন।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, পিরোজপুরে সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুরের পরে বিচারক প্রত্যাহার করাকে কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। শুনানির সময় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফের মতামত শোনেন আদালত। মতামতে তিনি বলেন, বিষয়টি (পিরোজ পুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রত্যাহার) নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন আদালত।

এদিকে জেলা জজ আবদুল মান্নানকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ প্রসঙ্গে বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘পিরোজপুরের জেলা জজের কাছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার স্ত্রী জামিন চাইতে গিয়েছিলেন। জামিন চাওয়ার সময় তার যে আইনজীবী এবং বারের সব আইনজীবীর সঙ্গে, আমরা তথ্যাদি পেয়েছি গতকাল থেকে। সেজন্যই আজ আপনাদের সামনে সেগুলো উপস্থাপন করছি। জেলা ও দায়রা জজ অত্যন্ত অশালীন ও রূঢ় ব্যবহার করেছেন। সেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমন একটা অবস্থা দাঁড়ায় যেখানে বারের সবাই আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে তাকে (বিচারককে) ওখান থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার আদেশ দেয়া হয়।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও নেছারাবাদ) আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপরই এক আদেশে ওই জজকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

Development by: webnewsdesign.com