ব্রেকিং

x

প্রতারণার মাধ্যমে বিয়েটাও পাকাপাকি করে ফেলেছিলেন তিনি

সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১:৪৭ অপরাহ্ণ |

প্রতারণার মাধ্যমে বিয়েটাও পাকাপাকি করে ফেলেছিলেন তিনি
সংগৃহীত ছবি

পাবনার মো. নাছির উদ্দিন বুলবুল (২৯)। অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সহকারী পরিচালক হিসেবে। কারো কারো কাছে তিনি পরিচিত বড় কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে। বহুরূপী এ যুবক একই পোশাক দ্বিতীয়বার পরেন না। একেক সময় একেক রঙিন সানগ্লাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান। ধুরন্ধর এ যুবক এসএসএফ পরিচয়ে জমি-জমার বিবাদ মীমাংসার নামে বাগিয়ে নিয়েছেন নগদ অর্থ। কখনও চাকরি দেওয়ার নামে করেছেন অর্থ আত্মসাত।

সর্বশেষ এসএসএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক পরিচয়ে নিজের বিয়েটাও প্রায় পাকাপাকি করে ফেলেছিলেন তিনি। বিয়ের প্রলোভনে হবু শ্বশুরকে ঢাকায় ডেকে সাক্ষাত করতে গিয়েই ধরা খেলেন এই প্রতারক।

গত শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় বগুড়া থেকে আসা হবু শ্বশুরের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়ে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে সহযোগী মনির হোসেনসহ ধরা পড়েন এসএসএফের ভুয়া সহকারী পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন বুলবুল।

পাবনার আমিনপুর থানার রূপপুরের মো. আব্দুল গফুরের ছেলে তিনি। সহযোগী মনির হোসেন (৩২) বাগেরহাট জেলার চিতলমারীর কালিগাতী রফিক শেখের ছেলে।

গ্রেপ্তারের পর তাদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন মাজার রোড এলাকার ১৭৭/৫/বি ভবনে ৬ষ্ঠ তলার বাসা থেকে এসএসএফের সহকারী পরিচালক পরিচয়ের ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসময় প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৫টি বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া পাঁচটি আইডি কার্ড, চারটি ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেকবই, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৯টি হাতঘড়ি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১টি সানগ্লাস, ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্লটের দলিলের ফটোকপি ও বিভিন্ন মডেলের পাঁচটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

এব্যাপারে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, বুলবুল নিজেকে এসএসএফের সহকারী পরিচালক পরিচয় দিতেন। কখনও নামী দামী কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করতেন। নিজের এসএসএফের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি একেকদিন একেক পোশাক ও আলাদা আলাদা ঘড়ি ব্যবহার করতেন।

এসব করে উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বুলবুল। তার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান ডিসি হারুন।

বগুড়ার এক ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা হয়। পাত্র হিসেবে তিনি নিজেকে এসএসএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালকের পরিচয় দেন। এ জন্য তিনি মোবাইল ফোনে পাঠান ভুয়া পরিচয়পত্রও। পরিচয় নিশ্চিত হতে ঢাকায় আসেন তিনি। গণভবনের সামনে গত শনিবার সকালে সাক্ষাত করতে বলা হয়। চতুর বুলবুলের আগেই গণভবনে হাজির হন ওই মেয়ের বাবা।

বুলবুল নামে এসএসএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কেউ আছেন কিনা খোঁজ নেন তিনি। জানতে পারেন এ নামে কেউ নেই। মনে তৈরি হয় সন্দেহ। বিষয়টি জানান এসএসএফের কর্মকর্তাদের। এরপর বুলবুল সাক্ষাতের জন্য আসছে খবর পেয়ে এসএসএফ শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে সহযোগী মনিরসহ গণভবনের ২ নং ফটক থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বুলবুলকে।

এ ঘটনায় রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে। মামলা নং-২৭।

এ ব্যাপারে শেরে বাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে নিজেকে এসএসএফের সহকারী পরিচয় দিলেও তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণামূলক কাজে এ পরিচয় ব্যবহার করতেন বলে স্বীকার করেন।

তার মিরপুরের বাসায় অন্যান্য প্রতারণার আলামতের সঙ্গে পাওয়া যায় চেক বই। ডাচ বাংলা, এক্সিম ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের চেক বই পাওয়া যায়। যেখানে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে চেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার প্রমাণও মিলেছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসএসএফ ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নকল আইডি কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে তিনি অর্থ আত্মসাত করেছেন। বিবাদ আছে বা চলছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার এমন জমি-জমার বিপুল পরিমাণ দলিলও মিলেছে তার কাছে। এর পাশাপাশি তিনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাত করেছেন।

‘আমরা তার যাবতীয় ব্যাংকিং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করছি। পাশাপাশি তার প্রতারণামূলক কাজে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার সকালে মহানগর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।-ঢাকা পোস্ট

Development by: webnewsdesign.com