ব্রেকিং

x

প্রান্তিক অলংকার ব্যবসায়ীদের ক্ষতি

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ |

প্রান্তিক অলংকার ব্যবসায়ীদের ক্ষতি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার এক হোটেল মিলনায়তনে বিশেষ সাধারণ সভায় স্বর্ণের দাম, ভ্যাট ও মজুরির সমন্বয় করে স্বর্ণালংকারের একক মূল্য ধার্য করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম পড়বে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে অধিকাংশ ক্ষুদ্র স্বর্ণ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, একটি মহল এ ব্যবসাকে নিজেদের স্বার্থে স্বর্ণ ও অলংকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

বাজুসের হিসাব অনুসারে বর্তমান বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য ৭২ হাজার ৬৬৭ টাকা। প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের মজুরি ধার্য করেছেন ২৫০ টাকা। এতে প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের মজুরি হবে ২ হাজার ৯১৬ টাকা।

এর সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট যোগ হবে। ফলে এক ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে। প্রস্তাবিত সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যেও মতদ্বৈধতা রয়েছে। জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ সদস্য এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বলে পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশ।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জুয়েলারি দোকানমালিক এবং স্বর্ণশিল্পীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, স্বর্ণের দাম প্রসঙ্গে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। কেন্দ্র্রীয় কমিটি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বিভিন্ন জেলা কমিটিতে সেই দরপত্র পাঠায়।

জেলা কমিটি সেই মূল্যে স্বর্ণ বিক্রি করে থাকেন। তবে তাদের অভিযোগ জুয়েলার্স সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি কোনো চিন্তাভাবনা বা দৃষ্টিকোণ থেকে অলংকার তৈরির মজুরি নির্ধারণ করেছেন তা বোধগম্য নয়। তাদের হিসাব অনুসারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) অলংকার তৈরির জন্য ২ হাজার ৯১৬ টাকা মজুরি পাওয়া যাবে।

রাজধানী ঢাকা ও দেশের কয়েকটি বড় বড় শহর ছাড়া রেডিমেড অলংকার খুবই কম বিক্রি হয়। মফস্সলের অধিকাংশ জুয়েলারি দোকানগুলো স্থানীয় গ্রাহকদের উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা বিয়েশাদিতে প্রাপ্ত পুরাতন অলংকার ভেঙে নতুন ডিজাইনের অলংকার তৈরি করে থাকেন। কেউ কেউ প্রয়োজনে এর সঙ্গে কিছু নতুন সোনাও যোগ করান।

ফলে মফস্সলের জুয়েলারি দোকানগুলো অলংকারের মজুরির ওপরই নির্ভরশীল। স্বর্ণ বিক্রি করে সামান্য লাভও তাদের ঘরে আসে না। উদাহরণস্বরূপ তারা জানান, এক ভরি স্বর্ণালংকারের জন্য কর্তৃপক্ষ মজুরি ধার্য করেছেন মাত্র ৩ হাজার টাকার মতো। অথচ এক ভরি সোনার গয়না তৈরি করতে এবং রং পলিশ ও ছিলায় অন্তত ৩ রতি সোনা ঘাটতি হয়।

যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ টাকা। এক ভরি সোনার অলংকার তৈরি করে হাতে আসে মাত্র ৭০০ টাকা। গড়ে একটি গয়না তৈরি করতে দুদিন সময় লাগে। এর সঙ্গে দোকান খরচ যোগ করলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জুয়েলারি মালিকদের অস্তিত্বই থাকে না।

এ ব্যাপারে মফস্সলের ক্ষুদ্র জুয়েলারি মালিকদের অভিমত, বাজুসের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন। তারা জানান, বর্তমান সরকার প্রথমে শুধু ২৪ ক্যারেট মানের স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স দিয়েছিলেন।

পরে স্বর্ণ ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণকারীদের দাবির মুখে হয়তো বিদেশি অলংকার আমদানির সুযোগ দিয়েছেন। এর ফলে দেশের অলংকার শিল্পীদের কাজের পরিধি সীমিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা ও সরলীকরণ করা হোক। সেই সঙ্গে শুধু আমদানিকৃত স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ করা হোক। অন্যদিকে মজুরির ওপর সিলিং বেঁধে দেওয়া হোক।

মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি মজুরি আয় হলে তা ভ্যাটের আওতায় আসবে। তারা মনে করেন এর ফলে বাংলার প্রচীনতম শিল্পও বাঁচবে, শিল্পীরাও বাঁচবেন।

Development by: webnewsdesign.com