ব্রেকিং

x

বসুন্ধরার মেয়েদের সাফল্যের নেপথ্যে যিনি

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২০ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ | 41 বার

বসুন্ধরার মেয়েদের সাফল্যের নেপথ্যে যিনি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়েছিল বসুন্ধরা কিংস। সাবিনা-কৃষ্ণাদের নিয়ে সফলও হয়েছে। মেয়েদের ফুটবল লিগে প্রথমবার অংশ নিয়েই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। ১২ ম্যাচের সবকটিতে জিতে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে নবাগতরা। আর এই চ্যাম্পিয়নশিপের নেপথ্যে রয়েছেন কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি। সাবেক এই স্ট্রাইকারের দিক-নির্দেশনায় সাবিনারা হয়ে উঠেছিল অপ্রতিরোধ্য। ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরাকে চ্যাম্পিয়ন করে এখন মাহমুদা স্বপ্ন দেখছেন, জাতীয় দলের হয়ে ডাগ আউটে দাঁড়ানোর।

গাইবান্ধা থেকে উঠে আসা মাহমুদার চলার পথ সহজ ছিল না। একযুগেরও আগে মাঠ মাতিয়েছেন নিজ জেলায়। তারপর বিভিন্ন জেলার হয়ে খেলেছেন। এছাড়া মোহামেডানের হয়ে প্রথম মেয়েদের লিগে রানার্স-আপ হওয়ার রেকর্ড আছে তার। খেলেছেন আনাসার ছাড়াও ইন্দোবাংলা গেমসে।

২০১৩ সালে খেলা ছেড়ে দিয়ে কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন। তবে মেয়েদের লিগ না হওয়াতে সেভাবে কোচিং করাতে পারেননি। এবার বসুন্ধরা কিংসের দায়িত্ব অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি এমনিতেই শক্তিশালী। অন্যদের থেকে ব্যবধানও বিস্তর। সেই দলটিকে এক সুতোয় গেঁথে এগিয়ে নেওয়াই ছিল তার লক্ষ্য।

মাহমুদা এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স করেছেন। এবার বসুন্ধরার কোচিংয়ের প্রস্তাবটা পেতেই সুযোগটা লুফে নিয়েছেন তিনি।

মেয়েদের লিগে তার দল এবার ১২ ম্যাচে করেছে ১১৯ গোল! বিপরীতে খেয়েছে মাত্র ৩ গোল। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সর্বোচ্চ ৩৫ গোল করেছেন। এরপরই ২৩ গোল নিয়ে আছেন কৃষ্ণা রানী সরকার।

গোলবন্যায় প্রতিপক্ষদের ভাসিয়ে শিরোপা জেতায় স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত মাহমুদা, ‘আমার কোচিংয়ে দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এতে আমি খুশি। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি। সেভাবে কোচিং করিয়েছি। ওরা সবাই এমনিতে ভালো খেলোয়াড়। অভিজ্ঞতা কম নয় তাদের। তবে আমি শুধু ওদের নির্দেশনা দিয়ে গেছি। বাকিটা ওরা মাঠে প্রমাণ করেছে।’

বসুন্ধরার সঙ্গে লিগের অন্য দলগুলোর পার্থক্য বিস্তর। প্রায় সব ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নরা অনায়াসে জিতেছে। তাদের আটকাতে পারেনি কোনও দল। মাহমুদা অবশ্য বলছেন, ‘মাঠে তো সবাই জেতার জন্যই নামে। আমরা আমাদের খেলাটা খেলেছি। আমাদের দলের খেলোয়াড়রা সবাই অন্যদের চেয়ে ভালো, তাই শিরোপা জিততে সুবিধা হয়েছে।’

এই সাফল্য ধরে রাখতে চান মাহমুদা, ‘আগামীতেও এই দলটির হয়ে শিরোপা ধরে রাখতে চাই। তাদের নিয়ে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। তবে যত ভালো দল আসবে তত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে।’

মাহমুদার খেলোয়াড়ি জীবনে বাংলাদেশ তত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। তাই মাহমুদারও সেভাবে খেলা হয়নি। খুব বেশি সুযোগ না পাওয়া সাবেক স্ট্রাইকারের জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা আছে, ‘সবাই চায় জাতীয় দলের কোচিং করাতে। আমিও চাই। অন্তত বয়সভিত্তিক দলের হয়েও দেশকে সার্ভিস দেওয়ার লক্ষ্য আমার। ঘরোয়া লিগ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সেটা এখন ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’

Development by: webnewsdesign.com