ব্রেকিং

x

বেসরকারি চিকিৎসাখাতকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে কি?

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০ | ১০:১৭ অপরাহ্ণ | 7 বার

বেসরকারি চিকিৎসাখাতকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে কি?
অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

সাম্প্রতিককালে বেসরকারি চিকিৎসা খাত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। র‍্যাব রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালানোর পর থেকেই এই সমালোচনা শুরু হয়। মূলত র‍্যাবের কারণেই এদেশে স্বাস্থ্যখাতে কোভিড টেস্ট থেকে শুরু করে যে সমস্ত দুর্নীতি হচ্ছে, সেটা দেশবাসী জানতে পেরেছে। সুতরাং আমি মনে করি এটা সরকারের এবং র‍্যাবের জন্য একটি বিশাল কৃতিত্বের বিষয়।

এই অভিযানের পরে আমি র‍্যাবের ডিজির সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আগে তাকে সেভাবে চিনতাম না। কিন্তু কয়েকবার ফোনালাপের পরে আমি তার একজন ভক্ত হয়ে গেছি। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আমার ছোটভাই ভেবেই তাকে বলেছি যে, ‘তুমি একটা সাংঘাতিক ভালো কাজ করেছো’।

তার সাথে সাধারণ আলাপ করার জন্য আমি দু’একবার তাকে ফোন করেছি। তার আলাপ আলোচনা এবং ব্যবহারে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমি মনে করি, র‍্যাবের যতটুকু করা দরকার সেটুকু করার পরে তারা এই বিষয়ে আর বাড়াবাড়ি করার মতো কোনো কাজ করেনি। আমি এটাও মনে করি যে তারা যেটা দায়িত্ব মনে করেছে, সেটা করেছে। দেশবাসীর কাছে কিছু অপরাধীর স্বরূপ উন্মোচন করেছে। কিন্তু এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে অরেকটি পক্ষ। আমাদের বেসরকারি স্বাস্থ্য সেক্টর যারা প্রায় ৬০ ভাগ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে যেন একটি ষড়যন্ত্র চলছে।

এ সপ্তাহেই আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বক্তব্য দিয়েছেন। অনেকে হয়তো সম্পূর্ণটা অনুধাবন না করার ফলে বা সম্পূর্ণটা না পড়ার ফলে তাকে বিভিন্নভাবে সমালোচনা করছেন। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে বলতে পারি যে, তার বক্তব্য অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ এবং একজন সত্য বক্তব্যকারী হিসেবে তাকে আমি শ্রদ্ধা করি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে সে আমাকে ‘চাচা’ বলে এবং তার প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। কিন্তু আমি এই দুর্বলতার কারণে এটা বলছি না, বরং প্রকৃতপক্ষেই তার বক্তব্যের কারণেই আমি তাকে সত্য এবং স্পষ্টভাষী মনে করি।

পার্লামেন্টে গিয়ে নিজেদের এলাকায় ডাক্তার থাকেন না বলে অনেক এমপি গলা ফাটান। তাদের এটা বলার অধিকার আছে, কারণ তারা জনপ্রতিনিধি। কিন্তু এই গলা ফাটানো এমপিরাই আবার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে তদ্বির চালান যে, আমার ভাগ্নিকে, বা আমার ছেলেকে, আমার মেয়েকে ঢাকায় আনা যায় না? আমি দেখেছি যে, স্বাস্থ্য বিভাগের মতো এত বেশি তদবির বা হস্তক্ষেপ অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে করার সুযোগ নেই, আর কেউ করেনও না। এর ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যারা কাজ করেন বিশেষ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তার পক্ষে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করা খুব কঠিন।

এখন আমি আসল কথায় আসি। অনেকেই অবগত আছেন যে, ভারতের বড় বড় হাসপাতালগুলোর এজেন্সি অফিস ঢাকায় সক্রিয়। ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় সক্রিয়। এসব দেশ বাংলাদেশে রীতিমতো দামি এজেন্সি অফিস খোলে এবং সেসব দেশের হাসপাতালে রোগী পাঠায়। ইংরেজিতে একটু সম্মান দেখিয়ে তাদের এজেন্সি বা এজেন্ট বলা হয়। কিন্তু তাদের কাজটা আসলে দালালি। দেখা গেছে এভাবে বিদেশের অনেক প্রাইভেট হাসপাতালে দালালের মাধ্যমে অনেক রোগী গিয়ে ভুল চিকিৎসার স্বীকার হয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, বর্তমানে যিনি আমাদের পাটমন্ত্রী গাজী সাহেব তারও নিশ্চয়ই মনে আছে। তিনি দিল্লিতে তার হার্টের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। আমি তখন দিল্লিতে ছিলাম। তিনি যেখানে ছিলেন সেই গেস্ট হাউজটা যার ছিল তিনি ভালো বাংলা বলতে পারতেন। তিনি মাঝে মাঝেই আমাদের দেশে বেড়াতে আসেন, যেভাবে পীর আউলিয়াদের এজেন্টরা ঘুরে বেড়ায় এবং পীরের মুরিদ সংগ্রহ করে।

হাসপাতালগুলোর এজেন্টরাও এভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং তাদের হাসপাতালের সুযোগ সুবিধা বলে রোগী বাগিয়ে নেয়। তাদের কাছে একটা অ্যালবামও থাকে। সেখানে লেখা থাকে কোন ডাক্তার কতো ভালো। অর্থাৎ বাংলাদেশের রোগীদের প্রতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আমাদের প্রতিবেশী থেকে শুরু করে অনেকেরই শ্যেণদৃষ্টি আছে, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। ডব্লিউএইচও’তে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় আমি দেখেছি যখন আমাদের প্রয়োজন হয়, তখন আমাদের বন্ধু হিসেবে কাউকে পাওয়া যায় না। যার যার নিজস্ব স্বার্থটাই দেখেন। তখন আর কোনো বন্ধুত্ব থাকে না। এটাই পৃথিবীর নিয়ম, যার যার স্বার্থ সে সে দেখবে। তাহলে আমরা কেন আমাদের স্বার্থ দেখব না!

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে অনেক রকমের দুর্নীতি আছে। সেগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সেটা বন্ধ করার একটা প্রক্রিয়া আছে। সেটা র‍্যাব পাঠিয়ে হবে না। সেখানে অন্যান্য এজেন্সি পাঠিয়ে হবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তারা প্রয়োজন হলে তাদের সাথে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে যাবেন। হাসপাতালে কী কী সমস্যা তারা ভালো করে বোঝেন, এটা তো র‍্যাব বুঝবে না। আমার মাথায় আসে না, হাসপাতালের দুর্নীতি অনিয়ম ধরার জন্য যাদের পাঠানো হচ্ছে, তাদের তো এ বিষয়ে ন্যূনতম ধারণাই নেই।

আমরা বিএমআরসির পক্ষ থেকে যে চীনের টিকা ট্রায়ালের অনুমোদন দিলাম, এটা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। সচিব পর্যায় থেকেও নানা কথা হচ্ছে। অনেকের এ বিষয়ে সামান্যতম জ্ঞান না থাকার পরেও এটা নিয়ে কথা বলছেন। জ্ঞান বুদ্ধিহীন লোকেরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসলে আমার খুব দুঃখ লাগে। এই টিকা ট্রায়ালের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটা বক্তব্য দিয়েছেন, যেটা সঠিক। তিনি বলেছেন, নৈতিক অনুমতি বিএমআরসি দেবে সেটা তারা দিয়েছে। তারপরের বিষয়টি দেখার জন্য সরকারের অনেক সংস্থা আছে। সেটা তারা দেখবে।

যেটা যার কাজ না সেটাই করছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেকে। আসল কাজের কিছু হয়তো তারা করছেন না। অনেকেই মিডিয়াতে কথা বলেন। অনেকেই হয়তো মনে করেন, বারবার মিডিয়াতে কথা বললেই বোধহয় গুরুত্ব বাড়বে।

স্বাস্থ্য খাতে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এটা বোঝা উচিৎ। দেশে এত হাসপাতাল এত ডায়াগনিস্টিক সেন্টার সবকিছু একজন ডিজির পক্ষে দেখা কখনই সম্ভব নয়। এটা আমলারা ভালো করে জানেন। যেখানে ৫ জন গ্রেড ওয়ানে আইজি লেভেলের লোক থাকেন, সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মাত্র দুইজন ডিজি আনা হয়েছে। সেটাও অপূর্ণাঙ্গভাবে করা হয়েছে। মেডিকেল এডুকেশন সেক্টরে যে ডিজি বসানো হয়েছে, তাদের কাজ ঠিকমতো ভাগ করে দেয়া হয়নি। মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরি হচ্ছে তাদের অধীনে। তাহলে এই হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরি কেন স্বাস্থ্যশিক্ষার অধীনে থাকবে না? সেটাই তো থাকা উচিৎ। আমি আমার বিএমআরসি’র কথাই একটু বলি। বিএমআরসি’র দায়িত্ব প্রাপ্ত সচিব হচ্ছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের আলী নূর। কিন্তু আমার কোনো কাজ করতে হলে আমাকে যেতে হয় স্বাস্থ্য সেবা সচিবের কাছে। এটা কেমন নিয়ম। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান যাকে আমি নিজের ছোট ভাই মনে করি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে আমি চিনি। তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রফেসর আলাউদ্দিনের পিএস করে নেয়ার পেছনে আমার কিছুটা অবদান ছিল। তার উপরে আমার আস্থা আছে। আশা করি, তিনি সঠিকভাবে তার কাজ করবেন। কিন্তু স্বাস্থ্য খাত তো বিশাল খাত। এই খাতের দেখভাল সহজ কথা নয়।

অনেক আমলাদেরই দেখি, বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু কাজের বেলায় কিছু করেন না। আমার মনে হয়, যেকোনো জায়গায় একটা জটিলতা বাঁধিয়ে রাখতে আমলারা সর্বোতভাবে চেষ্টা করেন। আমার ধারণা এরা না বুঝেই হয়তো আমাদের দেশের বেসরকারি চিকিৎসা খাতটাকে একেবারে শেষ করে দেয়ার উৎসবে মেতেছেন। স্বাস্থ্য খাতে যদি ৫ জন পরিচালক থাকেন তাহলে তারা চিকিৎসাখাতের বিভিন্ন সেক্টর দেখতে পারবেন। কেউ দেখবেন ট্রেনিং, কেউ দেখবেন বেসরকারি হাসপাতাল, কেউ দেখবেন মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল, কেউ দেখবেন অন্যন্য বিষয়গুলো। এই সমস্ত কিছু তো একজনকে দিয়ে হবে না। অনেক হাসপাতালই আছে, যেগুলো লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু বছরের পর বছর তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমিও এক সময় স্বাস্থ্যের ডিজি ছিলাম। তখন হাসপাতাল কম ছিল। আমরা খুব কম সময়ে লোক পাঠিয়ে তদন্ত করয়ে লাইসেন্স রিনিউ করে দিতাম। কিন্তু এখন তো হাসপাতাল অনেক বেশি। একজন ডিরেক্টরের সমস্তগুলো দেখতে লেগে যাবে ৫ বছর।

আমাদের দেশে দেখা যায়, যদি লোক বেশি মারা যায়, তাহলে কাফনের কাপড় নিয়েও দুর্নীতি হয়। আর এটা তো চিকিৎসা খাত, কোটি কোটি টাকার খাত এটা। এই করোনার সময় এই খাতে বিভিন্ন দুর্নীতি হচ্ছে। কিন্তু এর সমাধান তো এটা নয় যে, মাথায় ব্যাথা তাই মাথা কেটে ফেললাম। বেসরকারি হাসপাতালে দুর্নীতি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেখানে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের লোক পাঠিয়ে বিষয়গুলো তদারকি করতে হবে। কিন্তু সেটা না করে র‍্যাব পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এটা তো কোনো সমাধান নয়। বেসরকারি হাসপাতালের বিষয়ে মানুষকে খেপিয়ে তোলা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা হচ্ছে। এই সেক্টরটা পুরোপুরি বিদেশিদের দখলে নেয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্রগুলো হচ্ছে কিনা সেটা আমাদের দেখতে হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে নকল ওষুধ তৈরি হয় ভারতে। কিন্তু আপনারা দেখবেন যে, ভারতের কোনো সংবাদ মাধ্যম এটা নিয়ে খুব লেখালেখি করে না। ওরা ওদের সুনাম নষ্ট করতে চায় না। আর আমাদের দেশে হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালের দুর্নীতি আমরা এমন ঢালাওভাবে প্রচার করছি যেন সব হাসপাতালেই ভুয়া টেস্ট হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। যেখানে দুর্নীতি অনিয়ম সেটা অবশ্যই বলতে হবে। কিন্তু মানুষের কাছে যেন ভুল বার্তা না যায় সেটাও দেখতে হবে।

আমি এই লেখাটা লিখছি, আমার ছোট ভাই সমতুল্য ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ’র জন্য। সেই আমাকে বলেছিল এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা উচিৎ। আমিও ভাবলাম, বয়স তো হয়েছে। বেশিদিন হয়তো বাঁচবো না। সত্য কথাগুলো বলা উচিৎ।

১০-১৫ বছর আগেও সবাই হার্টের কোনো সমস্যা হলেই যেত বিদেশে। যাদের টাকা পয়সা আছে তারা ব্যংকক, সিঙ্গাপুরে। যাদের টাকা পয়সা একটু কম তারা ভারতের দিল্লি বা মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই)। আর যারা একেবারেই গরিব তারাও জায়গা জমি বিক্রি করে কলকাতায় গিয়ে ডাক্তার দেখাতো। আমাদের দেশের প্রাইভেট সেক্টরের কিছু হাসপাতালের কারণে এই অবস্থাটা বন্ধ হয়েছে। যারা প্রাইভেট হাসপাতালগুলো নিয়ে ঢালাওভাবে নেতিবাচক কলাম লিখছেন, তারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে, আমাদের দেশের মানুষ সিঙ্গাপুর ব্যাংককসহ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করালে তাদের কত খরচ হবে? শুধু চিকিৎসার খরচ তো নয়, দু একজন পরিবার পরিজনও সঙ্গে যাবেন। তাদের থাকা খাওয়াসহ কি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হবে ভাবুন তো একটু?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে একটু সুখে স্বাচ্ছন্দে রাখতে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন। অথচ তার আশেপাশে থাকা কিছু মানুষ কিছু না করেই শুধু বড় বড় কথা বলছেন। মিডিয়ার সামনে বিশাল বিশাল বুলি আওড়াচ্ছেন। আমার সন্দেহ হয়, তারা প্রধানমন্ত্রীর কতটুকু কথা বোঝেন এবং তারা আসলেই দেশটাকে সামনের দিকে নিতে চান কিনা। সুতরাং দয়া করে এই প্রাইভেট সেক্টরকে ধ্বংস করবেন না। বিদেশের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না। দেশপ্রেমিক হন। নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করুন।

 

Development by: webnewsdesign.com