ব্রেকিং

x

বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৯ | ১:২২ অপরাহ্ণ |

বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধেও মুদ্রানীতিতে দেশে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। যদিও গত মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগ চাহিদা কমে আসায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার। দুটোকেই ভালো বলছেন না অর্থনীতিবিদরা। এটি অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করছে বলে মতামত দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধেও (জানু-জুন’১৯) ঘোষিত মুদ্রনীতিতে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। কিন্তু গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ। আলোচিত সময়ের গত অর্থবছরেও যা ছিল ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে চার দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।
অন্যদিকে এক বছরের হিসাবে ২০১৮ সালের মার্চ থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৯১ শতাংশ। শুধু বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর প্রভাবে দেশের মোট বিনিয়োগও কমে গেছে।
তথ্য বলছে, গত মার্চ পর্যন্ত দেশের সার্বিক (সরকারি-বেসরকারি) বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬০ কোটি টাকা, যা গত জুন শেষে ছিল ৯ লাখ ৬৪ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক ৩১ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) আলোচিত সময়ে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ছিল আট দশমিক ২৬ শতাংশ।
বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দায়ী করা হয়েছে বেসরকারি খাতকে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবণতা কমে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের এই সময়ে যা ছিল ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে সরকার। গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে দুই দশমিক ১৭ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের এই সময়ে কমেছিল ১৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।
অবশ্য সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে জাতীয় সঞ্চয়পত্র নির্ভর বলছেন অর্থনীতিবিদরা। এটি প্রকৃত বিনিয়োগ নয়। এ বিষয়ে দেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মানসুর বলেন, সরকারের সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা করেই বিনিয়োগ বাড়ছে। একদিক থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিয়ে অন্যদিকে কম সুদের ঋণ ফেরত দিচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি দুটি জিনিসই ভালো না। এটি অর্থনীতিতে খারাপ বার্তা দেবে। বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া মানেই হচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে দেশের কোথাও কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করার মতো রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়নি। বিনিয়োগ পরিস্থিতিও ভালো। তারপরও ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। এজন্য সুদের উচ্চহারকেও দায়ী করছেন তারা।
অন্যদিকে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ছাড় দিয়ে নীতিমালা প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ। আগে সরকার এসব বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর থাকলেও এখন তা অতি সহজ করে দিচ্ছে।
সম্প্রতি নেওয়া নতুন কয়েকটি সিদ্ধান্তের একটি হচ্ছে, এখন থেকে বাংলাদেশে থাকা বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত দেশীয় কোম্পানি তাদের সহযোগী বা মূল কোম্পানি থেকে বিনা সুদে ঋণ নিতে পারবে। আগে এটি নেওয়া যেত না। পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ এভাবে দেশে এনে ব্যবহৃত হবে এমন শঙ্কায় এতদিন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার অর্থ টানতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানা গেছে।
এর আগে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে আরও একটি নীতিমালা শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে যেখানে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন হয় এমন শাখায় (এডি) বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় মুদ্রায় (টাকা) ব্যাংক হিসাব খুলতে পারতেন। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সব শাখায় তা খুলতে পারবেন। ফলে এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের যে কোনো ব্যাংকের যে কোনো শাখায় হিসাব খুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক প্রতিবেদন বলছে, গত মার্চ শেষে এক বছরের হিসাবে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই সময়ে ব্যাংক খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৯১ শতাংশ ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

Development by: webnewsdesign.com