ব্রেকিং

x

ভাঙা হলো ফ্লোরিডার সেই ভবন, স্থগিত উদ্ধার তৎপরতা

সোমবার, ০৫ জুলাই ২০২১ | ৬:০৬ অপরাহ্ণ |

ভাঙা হলো ফ্লোরিডার সেই ভবন, স্থগিত উদ্ধার তৎপরতা
ছবি: সংগৃহীত

কিউবার উপকূল থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় এলসা আছড়ে পড়ার আগেই ফ্লোরিডার মায়ামি শহরের সার্ফসাইড এলাকার আংশিক ধসে পড়া ভবন চ্যাম্পলাইন টাওয়ারের বাকি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে উদ্ধার তৎপরতাও।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার রাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ওই ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিস্ফোরণের কারণে ধ্বংসস্তূপ অল্প জায়গায় সীমিত ছিল। এ সময় নিকটবর্তী ভবনসমূহের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ারও প্রয়োজন হয়নি। তাদের শুধু ঘরে অবস্থান করতে ও ধূলোর কারণে এসি বন্ধ করে রাখতে বলা হয়েছিল।

মিয়ামি-ডাডের মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ জুন চ্যাম্পলাইন টাওয়ারের একাংশ ধসের পর ওই ভবনটির ১২১ জন বাসিন্দা নিখোঁজ ছিলেন, তাদের মধ্যে ২৪ জনের মৃতদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝড় শেষ হওয়ার পর আবার উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা।

রোববার ফ্লোরিডার আবহাওয়া দফতর তাদের বুলেটিনে জানিয়েছে, ওইদিন বিকেলে ঘূর্ণিঝড় এলসা ঘণ্টায় ৯৫ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে কিউবা উপকূলে অবস্থান করছিল। বিকেলের পরবর্তী সময় ও সোমবার ঝড়টি কিউবার ওপর দিয়ে বয়ে যাবে আর মঙ্গলবার অথবা বুধবার ফ্লোরিডার পশ্চিমাংশে পৌঁছাবে।

বুধবার(২৪ জুন) রাত ১ টার দিকে মিয়ামির উত্তরাংশের সার্ফসাইড এলাকায় আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে চ্যাম্পলাইন টাওয়ার নামের ১২ তলা ওই আবাসিক ভবনের অর্ধেক অংশ। ভবনটির অধিকাংশ বাসিন্দা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।

১৯৮০ সালে নির্মিত সেই ভবনটিতে ১৩০ টি ইউনিট ছিল। ধসের ফলে ১৩০ টি ইউনিটের অর্ধেক, অর্থাৎ ৬৫ টি ইউনিটই তছনছ হয়ে গেছে।

সার্ফসাইডের মেয়র চার্লস বারকেট ২৬ জুন সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘ভবনের পেছনের দিকে, এক তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি অংশ সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।’

মায়ামির সমুদ্রতীরবর্তী এই ভবনটি ঠিক কী কারণে ধসে পড়ল তা এখনও স্পষ্ট না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চ্যাম্পলাইন টাওয়ারের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে বাসিন্দাদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল।

২০১৮ সালের এই টাওয়ার সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি আলোয় এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভবনটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপণায় বড় ধরনের ত্রুটি ছিল।

ভবন ধসের পরই ফ্লোরিডার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পাশাপাশি, মায়ামির দমকল বাহিনীর কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে দেশটির কেন্দ্রীয় জরুরি অবস্থা কর্তৃপক্ষ ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ)কে নির্দেশও দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে মায়ামির সাগরতীরের এ এলাকাগুলোতে সাধারণত আতশবাজি পোড়ানো হয় ও লোকজন জাতীয় পতাকা দুলিয়ে উৎসবে মাতে। কিন্তু চ্যাম্পলাইন ভবন বিপর্যয়ের জেরে মিয়ামিতে অনুষ্ঠান সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শহরটির কর্তৃপক্ষ। স্বাধীনতা দিবসের উৎসবও বাতিল করে মায়ামি বিচ।-সূত্র: রয়টার্স

Development by: webnewsdesign.com