ব্রেকিং

x

ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ভ্যাট কমানোর পক্ষে ট্যারিফ কমিশন

রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১ | ৮:২৬ অপরাহ্ণ |

ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ভ্যাট কমানোর পক্ষে ট্যারিফ কমিশন
সংগৃহীত ছবি

ক্রমাগত বাড়তে থাকা ভোজ্য তেলের দাম ভোক্তার নাগালের মধ্যে রাখতে ভ্যাট ও আগাম কর কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাহার কিংবা কমানোর প্রস্তাব করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছেও এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ভোজ্য তেলের দাম ভোক্তা পর্যায়ে লিটারে ১০ টাকা করে কমতে পারে।

এর ফলে ভোক্তারা কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন। খোদ এনবিআরের আওতাধীন বৃহত্ করদাতা ইউনিট-এলটিইউ ভ্যাট অফিস ভোজ্য তেলকে নিত্যপণ্য বিবেচনায় আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট ও আগাম কর বাতিল করে উত্পাদন ও ব্যবসা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করেছে সম্প্রতি।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ভ্যাট বিভাগ। এ বিষয়ে সহসা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ভ্যাট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভ্যাট ছাড় দেওয়া হলে, তা ভোক্তার কাছে যাবে কিনা—সেটি নিশ্চিত নই। তবুও ইস্যুটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে হুহু করে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। গত আড়াই মাস আগে বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৯৫ থেকে ১০৩ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে অন্তত ১৪০ টাকায়। খোলা তেল আড়াই মাস আগে ৯৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ভ্যাট আদায়ও বাড়ছে। কিন্তু এর পুরো চাপ যাচ্ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

বর্তমানে ভোজ্য তেলের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়াও ৪ শতাংশ আগাম কর (এটি বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স) প্রযোজ্য রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। উত্পাদনকারীরা আমদানি পর্যায়ে দেওয়া ভ্যাট সংযোজিত মূল্য বাদে বাকি অংশ ফেরত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে, যা ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই।

ট্যারিফ কমিশনের প্রস্তাবে উৎপাদন ও বিপণনে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি আমদানিতে আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানিতে কেবল ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমতে পারে।

আগামী রমজানেও ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের তরফ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন ভোক্তাদের প্রতিনিধিরাও। তবে এ সুযোগ যাতে ভোক্তার কাছে যায়, তাও নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি এস এম নাজির হোসেন বলেন, ভ্যাট কমানোর এ প্রস্তাব সমর্থন করি। তবে তা যাতে ভোক্তার কাছে যায়। এজন্য সরকারের শক্ত মনিটরিং থাকতে হবে। অন্যথায় কোনো লাভ হবে না। আমরা অতীতে দেখেছি, চালের শুল্ক কমানো হয়েছে। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমেনি।

আমদানিকারকরা আমদানি পর্যায়ে যে ভ্যাট ও আগাম কর পরিশোধ করেন, পরবর্তীতে সংযোজিত মূল্য বাদে বাকি অংশ রেয়াত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে এনবিআরের যথাযথ নীতিমালার অভাবে ভ্যাট অফিসগুলোতে আমদানিকারকদের বিপুল অঙ্কের টাকা আটকে থাকে। এনবিআরের এলটিইউ-ভ্যাট অফিস হিসাব করে দেখেছে, রিফান্ড নেওয়ার পরও প্রতি কেজি ভোজ্য তেলে ২ টাকা ৮০ পয়সা করে ফেরতযোগ্য হচ্ছে (ভ্যাট অফিসের জন্য ঋণাত্মক জের)।

সম্প্রতি এলটিইউর কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী এনবিআরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, সংযোজন হার কম হওয়ায় এবং আমদানি পর্যায়ে আগাম কর পরিশোধ করায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভোজ্য তেল যেহেতু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং এক্ষেত্রে বাণিজ্য সহায়তা ও সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার বিবেচনায় আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি দিয়ে কেবল উৎপাদন ও ব্যবসা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর নির্ধারণ করা যায়।-ইত্তেফাক

Development by: webnewsdesign.com