ব্রেকিং

x

মহাকাশে অভিনব সামরিক মহড়া ফ্রান্সের

বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১ | ৪:১৩ অপরাহ্ণ |

মহাকাশে অভিনব সামরিক মহড়া ফ্রান্সের
ফাইল ছবি

হলিউডের সাই-ফাই ফিল্ম স্টারওয়ার্স এখন আর কল্পকাহিনী নয়। ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য মহাকাশেও নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। তবে সম্প্রতি ফ্রান্স যে সামরিক মহড়া শুরু করেছে, তা ইউরোপে এই প্রথম।

গোটা সপ্তাহ জুড়ে মহাকাশে নিজেদের উপগ্রহ সুরক্ষিত রাখতে মহড়া চালাচ্ছে ফ্রান্স। সরকারের নির্দেশে এ কাজে একটি উইংও তৈরি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী; যার নাম দেওয়া হয়েছে স্পেস কমান্ড। নতুন সেই স্পেস কম্যান্ডের প্রধান মিশেল ফ্রিডলিং জানিয়েছেন, মহাকাশে নিজের পরিকাঠামোর পর্যালোচনামূলক মহড়া (স্ট্রেস টেস্ট) শুরু করেছেন তারা।

পৃথিবীর সব শক্তিশালী দেশেরই মহাকাশে নিজেদের উপগ্রহ আছে। উপগ্রহের সাহায্যে নানান পরিষেবা যেমন দেওয়া হয়, আবার এই উপগ্রহ সামরিক কাজেও ব্যবহার করা হয়। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অন্য দেশের ছবি সংগ্রহ করে গুপ্তচরবৃত্তি নতুন কিছু নয়। বর্তমান যুগে উপগ্রহের তথ্য সামরিক সমঝোতার ভাষায়ও ঢুকে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, ভবিষ্যতে বড় যুদ্ধ হলে মহাকাশে যুদ্ধ হবে। এক দেশ অন্য দেশের স্যাটেলাইট আক্রমণ করবে। ফ্রান্স যে মহড়া শুরু করেছে, তা সেকথা মাথায় রেখেই। মহাকাশে ফ্রান্সের যেসব উপগ্রহ আছে, অঘটন ঘটলে কীভাবে সেগুলো রক্ষা করা হবে, তারই মহড়া শুরু হয়েছে। এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাস্টারএক্স’। ১৯৬৫ সালে এই নামেরই প্রথম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছিল ফ্রান্স।

মহড়ার সময় ফ্রান্সের মহাকাশ সেনা শুধু সুরক্ষা নয়, প্রয়োজনে পাল্টা আক্রমণের ছকও সাজাবে। মহাকাশে অন্য কোনো দেশের উপগ্রহ ফ্রান্সের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে কিনা তারও পর্যালোচনা করা হবে বলে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউ (ডয়েচে ভ্যালে) নিউজকে জানিয়েছেন মিশেল ফ্রিডলিং।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স এবং জার্মানির স্পেস এজেন্সিও এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে। গত সোমবার মহড়া শুরু হয়েছে। চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।

২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স গঠন করা হয় ফ্রান্স সেনাবাহিনীতে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র ডিডব্লিউকে জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের মহাকাশ সেনাবাহিনীতে ৫০০ সেনা থাকবে। তার জন্য প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ইউরো খরচ করার পরিকল্পনা দেশটির সরকারের রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে অ্যান্টি স্যাটেলাইট লেজার অস্ত্রও তৈরি করা শুরু করেছে ফ্রান্স। দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ২০১৭ সালে রাশিয়ার একটি উপগ্রহ ফ্রান্স একটি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে এসেছিল এবং ফ্রান্সের উপগ্রহের ট্রান্সমিশন অনুরণ করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল। তবে রাশিয়া কখনোই সেই অভিযোগ স্বীকার করেনি।

সূত্র: ডিডব্লিউ

Development by: webnewsdesign.com