ব্রেকিং

x

মানব সম্পদ উন্নয়নে ০.২৫% ব্যয় করছে ব্যাংকগুলো

বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০:৩৫ অপরাহ্ণ | 561 বার

মানব সম্পদ উন্নয়নে ০.২৫% ব্যয় করছে ব্যাংকগুলো

অপারেটিং খরচের ১০০ টাকার মধ্যে মানব সম্পদ উন্নয়নে মাত্র ২৫ পয়সা অর্থ ব্যয় করে ব্যাংকগুলো। প্রশিক্ষণের বাজেটও কমানো হয়েছে গত বছর। ব্যাংকিং খাতকে শক্তভাবে ধরে রাখতে হলে এ খাতের বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ৬১ শতাংশ ব্যাংকার মনে করেন ব্যাংকিং খাতে নীতিবান নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। ফলে  এ খাতে অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে  নৈতিকতা সম্পন্ন নেতৃত্ব দরকার বলে জানিয়েছে ব্যাংকাররা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অব ব্যাংকস’ শীর্ষক  বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের মুজাফফর আহমেদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, বিআইবিএমের সাবেক চেয়ার প্রফেসর এস এ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের উপ -ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. আব্দুল্লাহ, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক  এবং কোম্পানি সেক্রেটারি  জন সরকার প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড.  মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের  বলেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলো কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নে ব্যয় ৫০ শতাংশ কমিয়েছে। ১০০ টাকা অপারেটিং ব্যয়ের মধ্যে মাত্র ২৫ পয়সা কর্মীদের উন্নয়নে ব্যয় করেছে ব্যাংক। যা খুবই হতাশাজনক। আর্ন্তজাতিকভাবে অপারেটিং খরচের ২ থেকে ৩ শতাংশ ব্যয় করা হয়। একই সঙ্গে এক তৃতীয়াংশ ব্যাংক তাদের মানব সম্পদ উন্নয়নের ব্যয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, একটি পরিবারে সদস্যবৃন্দ যেভাবে ভালোবাসার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে, তেমনি ব্যাংকের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে সমন্বয় থাকলে এমনিতেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, একটি পরিবারের মধ্যে নারী, পুরুষ, কাজের লোক এবং ড্রাইভারকে আলাদা ভাবলে সেই পরিবারের উন্নতি হবে না। সবাই মিলে কাজ করলেই কেবল পরিবারিক উন্নয়ন সম্ভব। পরিবারের মতই ব্যাংক খাতের উন্নয়নে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের উপ -ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. আব্দুল্লাহ বলেন, মানবসম্পদ কর্মীদের বেসিক ব্যাংকিংয়ের ধারণা থাকতে হবে। পদন্নোতির বিষয়েও সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে সমস্যা তৈরি হয়। এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নজর দিতে হবে।

ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক  এবং কোম্পানি সেক্রেটারি  জন সরকার বলেন, ব্যাংকের পরিবেশ পরিবারের মতো করে গড়ে ওঠতে হবে। ভালাবাসার কারণে পরিবার যেমন টিকে থাকে ঠিক তেমনি ব্যাংকের মধ্যেও একই পরিবেশ রাখতে হবে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফি নেওয়া ঠিক নয়। কারণ এটিকে বিজ্ঞাপন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থকাল/এসএ/খান

Development by: webnewsdesign.com