ব্রেকিং

x

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ : প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১ | ৪:৪৪ অপরাহ্ণ |

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ : প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, ৭৫ এর পর সে আদর্শ হারিয়ে গিয়েছিল। সেই আদর্শকে আবার আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যখন সরকারে এসেছি তখন চেষ্টা করেছি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরে দেওয়ার। বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকালে গণভবনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন সরকার প্রধান। এ সময় জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চল্লিশ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অন্তত এইটুকু করতে পেরেছি যে, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমাদের ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা স্বীকৃতিটা পেলাম। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা যখন উদযাপন করছি তখন এই স্বীকৃতিটা পেলাম। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি, সেটুকু ধরে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, সেদিন জাতির পিতার ডাকে যারা যুদ্ধ করেছিলেন, তারা যদি সেদিন সে সাহসটা না দেখাতেন, তাহলে কি আমরা স্বাধীনতা পেতাম? যদিও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যর্থ করে দিতে বহুবার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল এমনকি মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো থেকে, যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম আছে অথবা আমাদের স্বাধীনতার কথা বলা আছে।

তিনি আরো বলেন, আমি জানি না একটা স্বাধীন জাতি বা স্বাধীন দেশের নাগরিক, যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে তারা কিভাবে আবার পরাজিত শক্তির পদলেহন করতে পারে। এটা আমি ভাবতেও পারি না। কিন্তু সেই অবস্থায়ই বাংলাদেশকে কিন্তু নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে আজ এটুকু বলতে পারি, যেটা আমাদের সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল আমরা স্বাধীন জাতি, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা সবসময় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবো, কারো কাছে হাত পেতে না, করুণা ভিক্ষা করে না।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এবার চারজন পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন মরহুম এ কে এম বজলুর রহমান, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ও মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী। সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে নাট্যজন আতাউর রহমান ও সুরকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

‘সমাজসেবা/জনসেবা’ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।

মরহুম বজলুর রহমানের পক্ষে তার স্ত্রী শাহানারা বেগম, আহসান উল্লাহ মাস্টারের পক্ষে তার ছেলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল খুরশীদ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পক্ষে তার ছেলে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জীবিতদের মধ্যে কবি মহাদেব সাহার অনুপস্থিতিতে তার ছেলে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন। ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী, আতাউর রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং ড. আমজাদ হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার নেন। কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পুরস্কার গ্রহণ করেন।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার প্রদান করে আসলেও এবার করোনার কারনে বিলম্ব হয়। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননা পত্র দেয়া হয়।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং তিনিই পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশনও পাঠ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে আতাউর রহমান নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

Development by: webnewsdesign.com