ব্রেকিং

x

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

রিজার্ভের অর্থ ব্যবহারে সমীক্ষার উদ্যোগ

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ |

রিজার্ভের অর্থ ব্যবহারে সমীক্ষার উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ কীভাবে বহুমুখী খাতে ব্যবহার করা যায়-সে বিষয়ে একটি সমীক্ষা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। এটি ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে। রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে এই কমিটি একটি নীতিমালা তৈরি করবে।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কীভাবে ব্যবহার হয়-সেটি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিটি। এর আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

আরও জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি রিজার্ভ থেকে বেসরকারি খাতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার বিষয়টির পক্ষে-বিপক্ষে বেশ আলোচনা হচ্ছে। রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ চেয়ে কয়েকটি আবেদনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আলোচনায় আছে সরকারি খাতে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টিও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই কমিটি গঠন করে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভ থেকে সরাসরি ঋণ দেওয়াটা মোটেও ঠিক হবে না। কারণ, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঝুঁকিতে পড়বে। রিজার্ভ রাখাই হয় যে কোনো সংকট মোকাবিলা করার জন্য। এটি বিনিয়োগ করে কোনো সংকটের পথ তৈরি করা ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, কম সুদে বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার নানা সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিলেও এর বিপরীতে চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিচ্ছে। এটিই আন্তর্জাতিক রীতি। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো নীতিমালা নেই। পাশাপাশি নেই রিজার্ভের অর্থ সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়াগ করারও নীতিমালা। শুধু রিজার্ভের অর্থ কোথায়, কীভাবে অন্তর্বর্তীকালীন বিনিয়োগ করে রাখা হবে, সেই ব্যাপারে একটি সংক্ষিপ্ত নীতিমালা রয়েছে। এর আলোকে রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন হারে বিভিন্ন দেশের মুদ্রায় বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে রাখা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ রাখা হয় ডলারে।

সূত্র জানায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বেসরকারি খাতে সরাসরি কোনো ঋণ দেওয়া হবে না-এ মর্মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু সরকারি খাতের যেসব প্রকল্প বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে, ওইসব প্রকল্পেই সরাসরি ঋণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো কারণে প্রকল্পটি যদি ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তখন সরকার যাতে তা পরিশোধ করে, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি থাকতে হবে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে অর্থ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতের চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন তহবিল রয়েছে। এগুলো থেকে সরাসরি ঋণ দেওয়া হয়।

এসব ঋণের সুদের হার দেড় থেকে ৩ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনে ২০ কোটি ডলার তহবিল এবং ২০ কোটি ইউরো তহবিল। এ ছাড়া শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানিতে আরও একটি তহবিল রয়েছে।

সূত্র জানায়, বড় ধরনের কোনো এলসির দেনা পরিশোধ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দেওয়া হয়। এভাবেই বর্তমানে রিজার্ভের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাচ্ছে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই রিজার্ভের অর্থ ব্যবহারের জন্য একটি নীতিমালা করতে। সে জন্যই এই উদ্যোগ। কোনোভাবেই রিজার্ভ থেকে সরাসরি বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার পক্ষে নন তারা।

বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও রিজার্ভের অর্থ এভাবেই ব্যবহার করে। এর বাইরে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বা সরকারের গ্যারান্টিতে রিজার্ভের অর্থ থেকে বিভিন্ন বন্ড ছাড়ে বাজারে। সেগুলোর সুদের হার বেশ কম।

সূত্র আরও জানায়, কমিটি যে নীতিমালা প্রণয়ন করবে, সেখানে রিজার্ভের অর্থ বহুমুখী খাতে ব্যবহার করার বিষয়ে সুপারিশ করবে। এর আলোকে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় সূত্রটি।

এদিকে গত বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ওরিয়ন গ্রুপ তাদের ওরিয়ন পাওয়ার ইউনিট-২-এর নামে রিজার্ভ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ৯০ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ৭ হাজার ৬১২ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করে। বিষয়টি কিছুদূর এগোলেও পরে থেমে যায়।

গত জানুয়ারির শুরুর দিকে বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) রিজার্ভ থেকে ঋণ চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়। পরে মন্ত্রণালয় এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়।

সোমবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এর আগে এটি চার হাজার ৬০০ কোটি ডলারে উঠেছিল।-যুগান্তর

Development by: webnewsdesign.com