ব্রেকিং

x

রেলমন্ত্রীর ইউটার্ন! টিটিই শফিকুলের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার

রবিবার, ০৮ মে ২০২২ | ৩:৪৬ অপরাহ্ণ |

রেলমন্ত্রীর ইউটার্ন! টিটিই শফিকুলের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার
সংগৃহীত ছবি

আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা তিন যাত্রীকে জরিমানা করায় কর্তব্যরত টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজের অবস্থান বদলালেন রেলমন্ত্রী।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, টিটিইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও তিনি কিছু জানতেন না এবং বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীরা তার আত্মীয় নয়।

পরে একাত্তর টেলিভিশনের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ট্রেনে ভ্রমন করা তিন যাত্রী রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়। টিটিইর বিরুদ্ধে অভিযোগকারি যাত্রী ইমরুল কায়েসের মা ইয়াসমিন আক্তার নিপা রেলমন্ত্রীর ফুপাত বোন। এই নিপা জানিয়েছেন, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর নির্দেশেই টিটিইকে বরখান্ত করা হয়।

এমন প্রতিবেদনের পরদিন রোববার দুপুরে রেলভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, পুরো ঘটনা নিয়ে তিনি বিব্রত ও লজ্জিত। তিনি আরও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ট্রেনে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করা তিন যাত্রী তার আত্মীয়।

রেলমন্ত্রী বলেন, টিটিই শফিকুল ইসলামের সাময়িক বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, যে প্রক্রিয়ায় টিটিইকে বহিষ্কার করা হয়েছে সেটা যথাযথ ছিল না। তাই বহিষ্কার আদেশ দেয়া সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর শাম্মী আক্তার মনি ডিসিও নাসির উদ্দিনকে ফোন করে আত্মীয়দের ব্যাপারে জানান। পরে নাসির উদ্দিন শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করেন। রেলমন্ত্রী বলেন, ফোন পাওয়ার পর নাসির উদ্দিন কোন আইনে বা কোন ক্ষমতাবলে টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হবে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, টিটিই শফিকুল ইসলাম সেদিন তার দায়িত্বই সঠিকভাবে পালন করেছেন। এজন্য শফিকুল ইসলামকে পদোন্নতি বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হতে পারে। তাকে পুরস্কৃত করার কথাও ভাববে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

তিনি জানান, টিটিইর কাজ হল রেলে শৃঙ্খলা আনা। তার কাজই তো রেলে যাত্রীদের সহযোগিতা করা, তাকে সাহায্য করা, সঠিক জায়গায় সেবা দেয়া। রেলের লোকদের দায়িত্বই সেটা। এখন যেভাবে ঘটেছে ঘটনাটি, তাতে তিনি বিব্রত এবং লজ্জিত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘ভুলভ্রান্তি হলে মানুষ তো সেভাবেই দেখবে। এখানে যদি দেখা যায় আমার স্ত্রী কোনো দোষ করে থাকে… ইয়ে করে থাকে… আমার কোনো ইনভলভমেন্ট এখানে ছিল না। বলা হচ্ছে যে মন্ত্রীর কারণে এমনটা ঘটছে। আমার যদি কিছু করার থাকত তাহলে তো সরাসরিই করতে পারতাম। কারও সাহায্যের তো দরকার হবে না। মেসেজটা যেভাবে গেছে সেটা সঠিক না’।

উল্লেখ্য শুক্রবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েন রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দেয়া তিন যাত্রী। তারা হলেন, মন্ত্রীর স্ত্রীর বোনের ছেলে ইমরুল কায়েস প্রান্ত ও তার চাচাত ভাই ওমর ও হাসান।

এ সময় টিটিই শফিকুল ইসলাম তাদের কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তারা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেন। টিটিই বিষয়টি পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিও) নুরুল আলমের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে টিকিট কাটার পরামর্শ দেন।

এসিওর পরামর্শ অনুযায়ী টিটিই ওই তিন ট্রেন যাত্রীকে এসি টিকিটের পরিবর্তে সব মিলিয়ে এক হাজার ৫০ টাকা জরিমানাসহ সুলভ শ্রেণির নন এসি কোচে সাধারণ আসনের টিকিট দেন। এরপরই ট্রেন ঢাকায় পৌছার আগেই মধ্যপথে ভোররাতে টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে রোববার বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (ডিসিও) কার্যালয়ে তলব করা হয় শফিকুল ইসলামকে। রেলের পাকশী বিভাগীয় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

Development by: webnewsdesign.com