ব্রেকিং

x

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে ক্যাম্পে উচ্ছ্বাস

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরেও কাজ করবে জাতিসংঘ

রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১ | ৩:০৭ অপরাহ্ণ |

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরেও কাজ করবে জাতিসংঘ
ফাইল ছবি

ভাসানচরে থাকা মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। গতকাল শনিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন এবং ইউএনএইচসিআরের পক্ষে বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি উহানেন্স ভন ডার ক্লাও সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

এ সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে ভাসানচরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়ঃনিস্কাশন, চিকিৎসা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, মিয়ানমারের ভাষায় পাঠক্রম ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকায়নের ব্যবস্থা করবে।

ইউএনএইচসিআর যুক্ত হওয়ায় ভাসানচর ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর কক্সবাজারের অনেক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান প্রধান অতিথি এবং একই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি ছিলেন। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১-৯২ থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এবং এর পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জনসংখ্যার অতি ঘনবসতি ও পরিবেশের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাসানচর কিংবা কক্সবাজারে মিয়ানমারের নাগরিকদের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা সাময়িক। আমাদের মূল লক্ষ্য মিয়ানমারের এসব বাস্তুচ্যুত নাগরিককে মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। সুতরাং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ অন্যান্য দেশের সার্বিক সহায়তায় প্রত্যাবাসন কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি উহানেন্স ভন ডার ক্লাও বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের ফলে কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও রোহিঙ্গাদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কাজ করবে জাতিসংঘ।

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (অন্তর্বর্তীকালীন) তোমু পটিয়ানেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড রিগ্যান।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে চাপ কমাতে সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থাকে যুক্ত করে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই জাতিসংঘ বিরোধিতা করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভাসানচর কতটা ঝুঁকিমুক্ত, রোহিঙ্গাদের অবাধে ভাসানচর থেকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত, তাদের স্বেচ্ছায় ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে কিনা- এসব বিষয় নিয়ে জাতিসংঘের প্রশ্ন ছিল।

সরকার কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে কাজ শুরু করে অব্যাহত রাখার এক পর্যায়ে সেখানে একটি কারিগরি দল পাঠায় জাতিসংঘ। কাছাকাছি সময়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), ঢাকায় পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকের পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দুই সহকারী হাইকমিশনার ভাসানচর সফর করেন।

এসব সফরের পর জাতিসংঘের কারিগরি দলসহ প্রতিনিধি দল ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়। এর পর গত জুলাইয়ের শেষদিকে ভাসানচরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কীভাবে কার্যক্রম চালাবে, সেসব বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ব সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকার কর্মসূচি, যাতায়াতসহ সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের কাজের ধরন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। – সমকাল

Development by: webnewsdesign.com