ব্রেকিং

x

সংক্রমণ টানা বাড়ছে জাপানে, সমর্থন হারাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | 45 বার

সংক্রমণ টানা বাড়ছে জাপানে, সমর্থন হারাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তেমন কোনো সাফল্য দেখাতে না পারা এবং বিতর্কিত কর্মসূচি নেওয়ায় জনসমর্থন হারাতে শুরু করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মাথায় এ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তিনি। মন্ত্রিসভা গঠনের শুরুর দিনগুলোতে ৬০ শতাংশের বেশি জনগণ তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

webnewsdesign.com

চলতি মাসের শুরুতে জাপানের বার্তা সংস্থা কিওদো নিউজের চালানো জরিপে প্রধানমন্ত্রী সুগার সমর্থনের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যেতে দেখা যায়। একে সমর্থনের হারে ব্যাপক ধস নামা বলা না গেলেও তাঁর প্রতি খুব বেশি আস্থার প্রতিফলনও পাওয়া যায়নি। তবে সেই সময়ের পর থেকে চালানো আরও দুটি জরিপ এখন তাঁর জন্য বিপৎসংকেত হয়ে দেখা দিতে শুরু করেছে। ফলে আগের কিছু সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে শুরু করেছেন তিনি।

জাপানের নাগরিক সম্প্রচারকেন্দ্র এনএইচকের ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী এক মাসে ১৪ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন। সমর্থনের হার এখন নেমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। এর দুদিন আগে মায়নিচি শিম্বুনের জরিপে সুগার মন্ত্রিসভার প্রতি সমর্থন ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪০ শতাংশে নেমে যেতে দেখা গেছে। ফলে কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্বেগের ছাপ বিতর্কিত একটি ভ্রমণ কর্মসূচি বাতিল করতে নেওয়া তড়িঘড়ি পদক্ষেপের মধ্যে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে বড় এলাকা রাজধানী টোকিও। শহরটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন সংক্রমণে টানা বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজধানীতে গত বৃহস্পতিবার নতুন সংক্রমণ এক লাফে ৮২২ তে উঠে গেছে। এর আগের দিনের রেকর্ড ছিল ৬৭৮টি সংক্রমণ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া থেমে নেই অন্যান্য প্রধান শহরেও।
জাপানে বছরের শেষ থেকে নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত টানা ছুটির সময় অনেকে দেশের ভেতর ও বাইরে ভ্রমণে বের হন। করোনাভাইরাসের কারণে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে যাওয়া দেশের পর্যটন ও ভ্রমণ খাতকে সহায়তা করতে সরকার কিছুদিন আগে ‘গো টু ট্রাভেল’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণ ব্যয়ের ৫০ শতাংশ সরকার বহন করে আসছে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসা চাঙা করতে নাগরিকদের বাইরে গিয়ে খাওয়াদাওয়া উৎসাহিত করতেও একই ছাড় দেয় সরকার।

তবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মুখে বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকে এ কর্মসূচির সমালোচনা করে আসছিলেন ও এর বিপজ্জনক দিক সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। তা সত্ত্বেও সরকার সেই বিতর্কিত পথে এগিয়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, দেশে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে আছে মানুষের কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ গ্রহণ করার পাশাপাশি বাইরে অর্ধেক খরচে পানাহারের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি।

জাপানে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে বড় এলাকা রাজধানী টোকিও। শহরটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন সংক্রমণে টানা বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজধানীতে গত বৃহস্পতিবার নতুন সংক্রমণ এক লাফে ৮২২ তে উঠে গেছে। এর আগের দিনের রেকর্ড ছিল ৬৭৮টি সংক্রমণ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া থেমে নেই অন্যান্য প্রধান শহরেও। ফলে সরকার ইতিমধ্যে ‘গো টু ট্রাভেল’ কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সুগা গত মঙ্গলবার এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘গো টু ট্রাভেল’ কর্মসূচি ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। লোকজনকে বাড়িতে থেকে নিরিবিলি সময় কাটানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে অনেকেই এটি খুব দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন ও ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে মানুষ সস্তা ভ্রমণের সুযোগ নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় করোনাও এখন সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে এবং সংক্রমণের এই পাগলা ঘোড়াকে টেনে ধরতে একমাত্র বিকল্প দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করা।

জনগণকে বাইরে যতটা সম্ভব পানাহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেও প্রধানমন্ত্রী নিজে তা মেনে না চলায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ‘গো টু ট্রাভেল’ কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণার ঠিক পরপর অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তারকাদের সঙ্গে বড় আকারের একটি নৈশভোজে যোগ দেন তিনি।
জাপান টিকার জন্য আগাম মূল্য পরিশোধ করলেও পশ্চিমা দেশে ইতিমধ্যে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচির ফলাফলের ওপর নজর রাখছে। একেবারে নিশ্চিত না হয়ে টিকা আনবে না জাপান। ফলে জাপান যেন অনেকটা ভাগ্যের ওপর নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছে। একদিকে অর্থনীতির সংকটাপন্ন অবস্থা, অন্যদিকে ক্রমেই করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে উভয় দিকের ক্ষতি সীমিত রাখায় কী করা যায়, তা নিয়ে চলছে বিভ্রান্তি।

এদিকে জনগণকে বাইরে যতটা সম্ভব পানাহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেও প্রধানমন্ত্রী নিজে তা মেনে না চলায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ‘গো টু ট্রাভেল’ কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণার ঠিক পরপর অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তারকাদের সঙ্গে বড় আকারের একটি নৈশভোজে যোগ দেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্ষমতাসীন উদার গণতন্ত্রী দল এলডিপির মহাসচিব তোশিরো নিকাই। আর তারকাদের দলে ছিলেন ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র জগতের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। টোকিওর ব্যয়বহুল গিনজা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এই ভোজে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪৫ মিনিট সময় কাটিয়েছেন।

এ খবর প্রচার হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ছেন সুগা। বিরোধী শিবির প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেছে। কয়েকটি মহল বলছে, এ রকম অবিবেচনাপ্রসূত আচরণের জন্য তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। সুগা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, এখন থেকে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সর্বশেষ এ ঘটনা প্রধানমন্ত্রী সুগার জনসমর্থন হয়তো আরও নিচে ঠেলে দেবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে আগাম নির্বাচন ডাকার যে আভাস আগে তিনি দিয়েছিলেন, সেই অবস্থান থেকেও হয়তো সরে আসবেন।

Development by: webnewsdesign.com