ব্রেকিং

x

সাত অধ্যায় # মাধুরী দেবনাথ

বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | 435 বার

সাত অধ্যায় # মাধুরী দেবনাথ

পৃথিবী এক প্রকান্ড খেলাঘর। এখানে হরেক রকমের মানুষের বাস। কিছু মানুষ জীবিকার তাগিদে অভিনয় করে আর কিছু মানুষ অভিনয়টা’কে নেশা হিশেবেই নেয়।

খুব ভোরে ঘুম ভাঙে সুদীপ্তর। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। হতে পারত। কত রাত ঘুম হয়নি সেটার অবশ্যই একটা কারণ আছে। কিছু মানুষের স্বভাবজাত কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। সুদীপ্তই বা বাদ যাবে কেন? রাত জাগার কারণেই মেজাজ খিটখিটে থাকে সবসময়। সুদীপ্ত হাসান আবির। জন্ম একটা আর্দশ পরিবারেই। ভাই-বোনের মধ্যে সুদীপ্ত সবার ছোট। সুদীপ্ত লেখালেখি করতে ভালোবাসে। এটাকে ই সে জীবনের পাথেয় হিশেবেই চায়! সুদীপ্তের বাচন ভঙ্গী এত চমৎকার খুব সহজেই যে কাউকে আকৃষ্ট করে ফেলে।

সেই ২০১১সাল থেকে লেখায় হাতেখড়ি। ভালো কবিতা লিখে সুদীপ্ত! কৈশোরের তাড়নায় ভালো লাগে এক মায়াবতীকে। কিন্তু শুধু নিজে চাইলেই কী হয় অন্যের তো চাওয়া-পাওয়া থাকতে হয়?
রিমঝিমের কখনোই ভালো লাগেনি সুদীপ্তকে। সুদীপ্তের রাগ ওঠলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। রিমঝিমের এই প্রত্যাখ্যান খুব কষ্ট দেয় সুদীপ্তকে। সুদীপ্ত সেটাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারে নি।

সুদীপ্তের ১ম অধ্যায়ের এখানেই সমাপ্তি ঘটে।
সময় থেমে থাকে না চলে তার আপন গতিতে।
সুদীপ্তের লেখালেখির সুবাদে সবার কাছেই পরিচিত মুখ সে।

গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে শহরে পাড়ি জমায় সুদীপ্ত। পুরোপুরি যৌবনে পা রাখে সে। মেয়ে দেখলেই কেমন জানি একটা ভালো লাগা কাজ করে তার। তার ক্ষুরধার বাক্যবাণে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। খুব তাড়াতাড়ি ই আকৃষ্ট করে সবার মন সে। গ্রামের মানুষ সুদীপ্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আর হবেই বা না কেন এমন একটা আকর্ষণীয় ও সুদর্শন পুরুষ দশ গ্রামে খোঁজেও পাওয়া যাবে না। কোন মেয়ে একবার তাকালে তার হৃদয় হরণ হয়ে যাবে সত্যি! স্নিগ্ধতায় ভরা হাসিমাখা মুখটা দেখলে কাচের চুড়ির মত ভেঙে পড়ে হাজারো তরুনীর হৃদয়!

কলেজে অনেক মেয়েদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এর মধ্যে তনিমা একজন। তনিমার ভালো লাগে সুদীপ্ত হাসান আবিরকে। ছেলেটি প্রানভরে হাসাতে পারে। তনিমার সঙ্গে ঝগড়া হত মাঝে মধ্যে আবার মিটেও যেতো। বন্ধুত্বটা ভালোভাবেই জমে ওঠেছে তাদের। সুদীপ্ত এমন ভাবে তনিমার সঙ্গে মিশে তাতে তনিমা আরো বেশি দূর্বল হয়ে পড়ে তার প্রতি। তনিমা সত্যিই ভালোবাসে ফেলে সুদীপ্তকে আর সুদীপ্ত সেটাকে মজা ভেবেই উড়িয়ে দেয়।

এভাবে শেষ হয় সুদীপ্তর ২য় অধ্যায়!
বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখে সুদীপ্ত। তার সেই মোহময়ী হাসি আর বচনের ঝাপটায় আর্কষিত হয় সবাই। মেয়ে বন্ধুদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পূরবী নামের একটি মেয়ের মোহময়ী ভঙ্গী সুদীপ্তকে হারিয়ে নিয়ে যায় ভালোবাসার কাল্পনিক কল্পনায়। সুদীপ্ত হারিয়ে যেতে চায় পূরবীর ভালোবাসায়। পূরবী খুব ভালো গান গায় ও মাউথারগান বাজাতে পারে। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে সে। সুদীপ্তের একটি বিশেষ গুন ছিল যখন যে পর্যায়ে যেত খুব সহজেই হাল ধরতে পারতো এই গুনটা অনেকের থাকে না। কাকে কী বললে সহজেই মন গলানো যাবে তা খুব ভালোভাবেই রপ্ত করেছিল সে। সুযোগ বোঝে একদিন পূরবীকে বলে তার মনের কথা। মানুষ কে বিশ্বাস করা পাপ নয় রবিঠাকুরের সেই অমোঘ বানীকে সত্যি মনে করেই পূরবীও সুদীপ্তের ভালোবাসায় সাড়া দেয়। সুদীপ্ত তাকে খুব ভালোবাসে। পূরবীও কম কীসে? সুদীপ্তকে কয়দিনেই পুরো পৃথিবী বানিয়ে ফেলে মেয়েটি! অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করে সুদীপ্তকে। পূরবী তার ভালো থাকার পুরোটাই সুদীপ্তের হাতে তুলে দেয়।

সুদীপ্ত স্বপ্ন দেখে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে।পূরবী’কে জানায় সেটা। পূরবী তাকে বিসিএস কোচিং এ ভর্তি হতে বলে। কিন্তু ভর্তি হতে এতো টাকা পাবে কোথায়? বিসিএস কোচিং এ ভর্তি হতে ৯ হাজার টাকা লাগবে সুদীপ্ত জানায়। পূরবী তাকে আশ্বাস দেয় ওর জমানো ৬হাজার টাকা আছে সেটা দিয়ে দেবে তাকে আর বাকীটা সে যেন মিলিয়ে নেয়। সুদীপ্ত সাইফুর’স বিসিএস কোচিং এ ভর্তি হয়।

সেখানেই দেখা হয় আলিয়ার সঙ্গে। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী আর মেধাবী ছাত্রী আলিয়া। ক্লাসের সবাই বয়সে বড় হলেও একমাত্র আলিয়া ই তার সমবয়সী। সুদীপ্ত পড়ার নোটস নেওয়ার বাহানায় সখ্যতা গড়ে তুলে আলিয়ার সঙ্গে।

কিন্তু আলিয়া মেয়েটাকে সে ঠিক বোঝতে পারে না। বাবার অঢেল সম্পদ থাকা সত্বেও মেয়েটা খুব সাধারণ ভাবে চলাফেরা করে। নিজের ক্যারিয়ার গড়ার প্রত্যয়ে সে পড়ালেখায় ব্যস্ত সময় কাটায়। সুদীপ্তের মোহনীয় হাসির যাদু আলিয়ার মনে প্রভাব ফেলতে পারে নি। সেটাই সুদীপ্তের জেদকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আলিয়া খুব ভালো ছবি আঁকে। ফেইসবুকে নিজের প্রোফাইলে নিজেরই আঁকা ছবি থাকে। সুদীপ্ত মাঝে মধ্যে সেই ছবিগুলো ডাউনলোড করে পূরবী’কে দিয়ে বলে তার প্রিয় ছবি এইগুলো। সুদীপ্ত আলিয়ার জন্মদিনে সুন্দর একটা ছবি উপহার দেয় এবং কোচিং-এ র সবাইকে দামী চকলেট খাওয়ায়। কিন্তু আলিয়া সে উপহার গ্রহণ করে না। সুদীপ্ত ঠিক করে তার অপমানের বদলা নেবে। কোন মেয়ে তাকে পাত্তা দেবে না এটা হতে পারে না। আলিয়াকে তার চাই-ই-ই। সে পড়ার বাহানায় আলিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে।

এম.এস করতে আলিয়া ঢাকায় চলে যায় সুদীপ্ত মনে খুব কষ্ট পায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে থাকে আলিয়ার সঙ্গে। এদিকে পূরবী তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। পূরবীর জন্মদিনের কথা মনেই থাকে না সুদীপ্তের। অথচ তার প্রতিটি জন্মদিনে এই পূরবীই কেক কিনে সাজিয়ে অপেক্ষা করে বসে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা।

২বছরে আলিয়ার জীবনে নানা ঘটনা ঘটে। জীবনে সফলতা আসলেও একাকীত্ব বাড়তে থাকে। বন্ধু সুদীপ্তের সঙ্গে দেখা না হলেও অনিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কোন এক নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায় সুদীপ্তের কাছে আলিয়ার ফোন আসে। নানান কথার ছলে আলিয়া বোঝাতে চায় সে সুদীপ্তকে পছন্দ করে। সুদীপ্ত বোঝেও না বোঝার ভান করে। প্রতিশোধ নেবে সে কঠিন ভাবে আলিয়া’কে প্রত্যাখ্যান করে। আলিয়া’কে রাজি করায় সে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য। কিন্তু আলিয়া আসে নি। কেনও আসে নি তা সুদীপ্তের অজানাই থেকে যায়।

এভাবেই ৪র্থ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
আলিয়ার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সুদীপ্ত পূরবীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করে। অবহেলা করতে শুরু করে পূরবীকে। কথার প্যাচ দিয়ে মানসিকভাবে আঘাত করতে থাকে প্রতিনিয়ত। কিন্তু মেয়েটি তার অতীত জেনে বর্তমানকে ভালোবেসে ভবিষ্যৎ এর জন্য উৎসাহিত করতে চেয়েছিল। পাগলের মত আঁকড়ে ধরে ভালোবাসতে চেয়েছিল সুদীপ্ত কে। একটা মানুষ পাগলের মতো ভালোবেসেই যায় আরেকটা মানুষ পাগলের মতো অবহেলা করতেই থাকে। অবহেলার মাত্রা চরমে ওঠে। সুদীপ্ত সহ্য করতে পারে না পূরবীকে।

সে তার ফেইসবুক ও বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ব্লক দেয় পূরবীকে। সুদীপ্তকে হারিয়ে পূরবী দিশেহারা হয়ে পড়ে। সুদীপ্তের এহেন আচরনের কারণ কী তা পূরবীর মনে অজানাই রয়ে যায়। ধীরে ধীরে পূরবী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হতে শুরু করে। সুদীপ্ত একদিন তার কাছে ফিরে আসবে এই বিশ্বাস তার কারণ সে তো ভালোবাসায় কমতি রাখে নি। সুদীপ্ত নিজেই বলতো পূরবীর মত ভালো তাকে কেউ বাসতে পারবে না। এটা তো মিথ্যে হতে পারে না? দিন যায় মাস যায় সুদীপ্ত ফিরে আসে না।
পূরবী’কে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকার পিজিতে ভর্তি করা হয়। ডঃ বলেন প্রচন্ড মানসিক আঘাতে পূরবী ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে।

ক্ষণিকের অতিথি হয়ে পৃথিবীতে আছে পূরবী। সে যা করতে চায় তাই যেন করতে দেওয়া হয় তাকে। পূরবী’কে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। বাবা তার অন্তিম ইচ্ছের কথা জানতে চান। পূরবী প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হয়েও সাদামাটা ছিলো, ছোটবেলা থেকেই মানবসেবার স্বপ্ন দেখতো। একসময় ডাক্তার হতে চাইতো সে। কিন্তু পরে তা আর পূরণ হয় নি। একটা শিশু নিবাস দেওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো তার, যেখানে অবহেলিত শিশুদের দেখাশুনা করা হবে। বাবা পূরবীর শেষ ইচ্ছে পূরণের আশ্বাস দেন।
কিছুদিনের মধ্যেই শিশুনিবাস তৈরি হয় পূরবীর ইচ্ছেতে নাম দেওয়া হয়”সুরবী শিশুসদন”। অসুস্থ পূরবী সেই শিশুদের দেখা শুনার দায়িত্ব নেয়। পূরবীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একদিন ভোরে অরুনরাঙা আলো উদিত হবার সময় বাবা মা ও তার প্রিয় সুদীপ্তকে রেখে পরপারে পাড়ি জমায়
শেষ হয় সুদীপ্তের ৩য় অধ্যায়।
৪র্থ অধ্যায় তো আগেই শেষ হয়েছে।
পূরবীর মৃত্যু একটুও নাড়া দেয় নি সুদীপ্তকে আসলে সত্যিকার ভালোবাসা বোঝি এমনই হয় যে বাসে তার কপালে দুঃখ ছাড়া কিছুই জুটে না।
সুদীপ্ত অনেকগুলো ফেইক আইডি খুলে মেয়েদের এড দিতে থাকে। লেখালেখির সুবাদে জেরিন আলম নামে এক মধ্যবয়সী মহিলার সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। ও মহিলার সঙ্গে দেখা করতে সুদীপ্ত ঢাকা যায়। এরমধ্যে সুদীপ্তের ২টি উপন্যাসও প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কাজের চাপে সুদীপ্ত তার ফেইক আইডিগুলোতে ঢুকতে পারে নি। ওই মহিলা সুদীপ্তকে না পেয়ে তার রিয়েল আইডিতে কমেন্ট করে বসে। সুদীপ্তের রিয়েল আইডিতে তেমন কোন মেয়ে ফ্রেন্ড নেই। ও আলোতে একবারে পৃথিবীর শুদ্ধতম পুরুষ সবার কাছে তার মত ভালো মানুষ আর ২য়টি নেই। আর আড়ালে সে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা! বাধ্য হয়ে সুদীপ্ত ওই মহিলাকে ব্লক দেয়।
এভাবে ৫ম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
সুদীপ্তের ফেইক আইডি তে নুসরাত নওরিন নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। মেয়েটি বিবাহিতা। স্বামী বিদেশে থাকে। সুদীপ্তকে মেয়েটি তার ভালোবাসা এবং নিঃসঙ্গতার কথা জানায়। সুদীপ্ত মেয়েটির ডাকে সাড়া দেয়। ধীরে ধীরে তাদের প্রেম জমতে থাকে। এর মধ্যে একদিন নুসরাতের স্বামী আসে বিদেশ থেকে। নুসরাত সুদীপ্তের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। আবার একা হয়ে পড়ে সুদীপ্ত।

সুদীপ্তের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়। রিমঝিমের ওপর শোধ তুলতে গিয়ে একটার পর একটা অপরাধে জড়িয়েছে সুদীপ্ত । একেক টা মেয়েকে নিয়ে নতুন ভাবে খেলেছে সে।

দোষ করেনি পূরবী যে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছে তাকে, দোষ করে নি আলিয়া তাকে ভালোবেসে স্বপ্ন দেখে, দোষ করে নি তনিমা তাকে মনের গহীনে জায়গা দিয়ে ! প্রতিটা মেয়েকেই ধোঁকা দিয়েছে সে।

সুদীপ্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এবার সে পূরবী’র ভালোবাসাকে অনুভব করে। মনে পড়ে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোতে পূরবী’কে অবহেলার স্মৃতি গুলো। মেয়েটাকে সে দিনের পর দিন অবহেলা করে গেছে আর মেয়েটা তাকে বিশ্বাস করে ভালোবেসে গেছে প্রতিনিয়ত, শুধু তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজের অর্থসম্পদ,বিশ্বাস, ভরসা সব একে একে উগ্রে দিয়েছে কখনও তাকে কিছু দিতে কার্পণ্য করে নি এতটাই ভালোবেসেছিল তাকে। নিজেকে ক্ষমা করতে পারে না সুদীপ্ত। পূরবী’র স্মৃতি বারবার তাকে নাড়া দেয়। পূরবী’কে ভুলতে নেশার জগতে ডুব দেয় সুদীপ্ত। সুদীপ্তের মনে পড়ে সুমন্ত আসলামের সেই কথা “প্রতিটি মানুষ যতই খারাপ হোক না কেন, সত্য আর ন্যায়ের কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত ভালো হয়ে যায়”।
সুদীপ্ত নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে কিন্তু পূরবী’কে ছাড়া… খুব কষ্ট অনুভব করে সে।

এভাবেই তার দেওয়া অবহেলা আর কষ্ট নিয়ে পূরবী দুনিয়া ছেড়েছে। পুরো পৃথিবীই এলোমেলো লাগে সুদীপ্তের। অতিরিক্ত নেশা করার ফলে সুদীপ্তের গলায় ঘা ধরা পড়ে। সুদীপ্তের আছে গায়ের রঙ, টাকা, মানুষকে আকৃষ্ট করার শক্তি যা দিয়ে সে ৩টি মেয়েকে বোকা বানিয়েছে একজনকে তো পরপারেই পাঠিয়েছে, কিন্তু সুদীপ্তের মনে শান্তি নেই। একটা সময় ভীষণ ক্লান্ত আর একাকী হয়ে পড়ে সুদীপ্ত। নিঃসঙ্গতা একাকীত্ব কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়ে শেষ করে দিতে থাকে তাকে। আফসোস করতে থাকে সুদীপ্ত পূরবী তার সব জেনেও তাকে ভালোবেসেই গেছে মেয়েটি বিনিময়ে তার দেওয়া অবহেলা ছাড়া কিছুই পায় নি। একসময় মানসিকরোগীতে পরিনত হয় সুদীপ্ত কাউকে পাশে পায় না ৭ম অধ্যায়ের আর পরিসমাপ্তি ঘটে না। সুদীপ্ত একাকী চলছে পাশে কেউ নেই, কিচ্ছুটি নেই, সব সুনসান!
চলবে…

#
লেখক: বি,এস,এস(সম্মান) এম,এস,এ,(অর্থনীতি)।
এমসি কলেজ,সিলেট।

Development by: webnewsdesign.com