ব্রেকিং

x

সামাজিক মাধ্যম ও ওটিটি নীতিমালা নিবর্তনমূলক: ফখরুল

শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২ | ২:০৮ অপরাহ্ণ |

সামাজিক মাধ্যম ও ওটিটি নীতিমালা নিবর্তনমূলক: ফখরুল
ফাইল ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওটিটি নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নিবর্তনমূলক আইন দিয়েই তথ্যের প্রচার বন্ধ করা যায় না।

শনিবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। ফখরুল বলেন, মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এমনিতেই তলানিতে, এমনকি মিয়ানমারের থেকেও পিছিয়ে।

তিনি বলেন, সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও ওটিটি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে যেই দুইটি নতুন আইনের খসড়া করেছে সরকার, সেসব কার্যকর করা হলে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সোজা কথায় বলা যায় এই নিবর্তনমূলক নীতিমালাটির তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি-অপশাসন, তাদের ভোট ডাকাতি, তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলোর প্রচার ঠেকাতে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে আইসিটি অ্যাক্ট সংশোধন করে ৫৭ ধারা যোগ করে এবং ২০১৮ সালে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণ এবং মিডিয়ার বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রিত করার পর এখন অবশিষ্ট সামান্য যে বাকস্বাধীনতাটুকু রয়েছে সেটুকু পুরোপুরি কেড়ে নেয়ার জন্য সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি নতুন নীতিমালা বা রেগুলেশন জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার পরিচালনায় থাকা আমলা মন্ত্রীরা যদি দুর্নীতি করেন তাহলে সেগুলো মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে যেন প্রচার করা না হয় সেটার রক্ষাকবচ হিসেবে ও বিটিআরসির এই নীতিমালা ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত এক যুগের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা, মানহানিকর এবং নোংরা অপপ্রচার করা হয়েছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে। অথচ এই সরকারই বলছে মানহানিকর বিষয় প্রচার করা যাবে না।

তিনি দাবি করেন, বিটিআরসি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই দুটি নীতিমালা শুধুমাত্র বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিকই নয়, বরং জাতিসংঘ ঘোষিত নীতিমালার পরিপন্থী। এই দুটি নীতিমালা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ দুটি খসড়া আইনের সমালোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিবর্তনমূল এই দু’টি নীতিমালা কার্যকর হলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনলাইন ভিত্তিক মিডিয়াগুলোর মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত হবে।

Development by: webnewsdesign.com