ব্রেকিং

x

‘৪৫ বছর পর মনে হলো, স্বজনদের জন্য যা করেছি সবই বৃথা’

শনিবার, ১১ জুন ২০২২ | ৬:১৪ অপরাহ্ণ |

‘৪৫ বছর পর মনে হলো, স্বজনদের জন্য যা করেছি সবই বৃথা’
সংগৃহীত ছবি

‘দীর্ঘ ৪৫ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে পরিবারের জন্য যা করেছি তা সবই মনে হচ্ছে বৃথা।’ শনিবার সিলেটের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও নগরীর বাগবাড়ি নরশিংটিলার ১১২ নং খান ভিলার মালিক আরিজ খান।

তার দাবি, যুক্তরাজ্যে তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করার পর এখন দেশের সম্পদও হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে স্বজনবেশী একটি চক্র। তাদের অব্যাহত হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি নিজের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষা করার দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে আরিজ খান বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন। এসময় নিউপুট এলাকায় নিজস্ব বাড়ি ছাড়াও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল তারা। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে স্ত্রী আয়ফুন নেছা খানমের সাথে তার বনিবনা হচ্ছে না। ছাড়াছাড়ি না হলেও তারা আলাদা বসবাস করেন।

আরিজ খানের অভিযোগ, আলাদা থাকার সুবাদে লন্ডনের সম্পদ তার স্ত্রী কুক্ষিগত করে রেখেছেন। এ কাজে স্ত্রীকে মদদ দিচ্ছেন তার বেয়াই এর ছেলে নগরীর মিরাবাজারের নজরুল হোসেন খান ও নরসিংটিলার চান মিয়ার ছেলে মইনুলসহ কয়েকজন।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই ব্যক্তি জানান, ২০০৫ সালে বাগবাড়ির নরশিংটিলায় প্রায় ৫ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে একটি ৭ তলা ভবন নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে তার ওপেনহার্ট সার্জারি করা হয়। অসুস্থতার সময় স্ত্রী আয়ফুন নেছা খানম চলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ওই বাসার জায়গার হেবা দলিল সম্পাদন করিয়ে নেন। ২০২০ সালের ৮ মার্চ আবার অর্ধেক অংশ তাকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ফের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আরেকটি দলিল সম্পাদন করিয়ে নেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি কার্ড) পরিবর্তে পাসপোর্টের ফটোকপি ও জাল স্বাক্ষর করে ওই দলিল সম্পাদন করে তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর সহযোগীরা।

এক প্রশ্নের জবাবে আরিজ খান জানান, গত ২৫ মার্চ নজরুল ও তার সহযোগী মইনুলসহ কয়েকজন জাল দলিল দেখিয়ে তার বাসা দখলের চেষ্টা করে। স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান ও এলাকার লোকজনের সহায়তায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানা ছাড়াও যুগ্ম জজ আদালতে একটি মামলা করেছেন আরিজ খান।

তিনি আরও জানান, স্বজনদের অব্যাহত হুমকির মুখে গত ১৭ মে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন তিনি। এর আগে স্ত্রী আয়ফুন নেছা খানম ও নজরুল হোসেন খানও থানায় পৃথক জিডি করেন। কিন্তু তাদের অভিযোগের সত্যতা মিলেনি জানিয়ে থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান ২৭ এপ্রিল ও আরেক কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম ১৬ মে আদালতে জিডির প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নরশিংটিলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী, সহসভাপতি আশিক আহমদ, মইনুল হক চুনু মিয়া, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মাসুক আহমদ শফিক, সদস্য আবু সুফিয়ান, কামরুজ্জামান দিপু প্রমুখ।
আরিজ খানের স্ত্রী আয়ফুন নেছা খানম যুক্তরাজ্যে অবস্থান তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার আত্মীয় নজরুল হোসেন খানের সঙ্গে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Development by: webnewsdesign.com