ব্রেকিং

x

শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন

শনিবার, ০৫ জুন ২০২১ | ৬:৩৯ অপরাহ্ণ |

শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন
ফাইল ছবি

চার দশক আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা ছয় বছরের রাজনৈতিক আশ্রয় শেষে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাকে বহনকারী বিমান যখন এয়ারপোর্টের রানওয়ে স্পর্শ করে তখন ঝড়োবাতাস বইছিল। ঢাকায় সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। এমন ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেদিন হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে এয়ারপোর্টের সামনে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন গ্রাম-শহরের প্রচুর মানুষ সেদিন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় এসেছিল। গোটা রাজধানী সেদিন সেনা শাসনের বিরুদ্ধে লাখো মানুষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল।

এর আগে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তখন তার বয়স ৩৪। তিনি সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন হয়রানি-নিপীড়ন ও কারাবাস সহ্য করে আওয়ামী লীগকে সুসংহত করেন।

পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসন, বিএনপি-জামায়াতের অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং সর্বশেষ ফখরুদ্দিন সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। তারপর এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বাধাই তাকে দমাতে পারেনি।

শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরে আসেন তখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায়। তিনি শেখ হাসিনাকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। এমনকি বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া মাহফিলও করতে দেননি। কোনো উপায় না পেয়ে তাকে বাড়ির বাইরে রাস্তায় দোয়া মাহফিল করতে হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনা এবং তার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য জিয়াউর রহমান তার লোকজন নিয়ে একটি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছিলেন।

এসব সত্ত্বেও, দেশে ফিরে শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যোগ দিতে হয়েছিল। জিয়া-এরশাদ ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯ বার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং প্রত্যেকবার অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান।

তার অধ্যবসায়, সংগ্রাম, ধৈর্য, ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধ দেশ। ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনাকে অগণিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। তাকে মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। আশ্চর্যের বিষয়, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের বিচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবুও তিনি দমে যাননি। এরপর ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা অবরোধ করেছিলেন। শেখ হাসিনা তাদের শক্ত হাতে দমন করেন।

আওয়ামী লীগ প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করায় এবং পরে ২০০৮ থেকে টানা তিন মেয়াদে সরকারে থেকে সেসব বাস্তবায়ন করতে পারায় বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে অর্থ ও বাণিজ্যের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে।

আমেরিকান রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করেছিলেন। কিন্তু এখন বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক মুক্তি, মজুদ ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

গত মে মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির অর্থ হলো সেটির অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৮১ সালে যেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৯ ডলার ছিল, সেখানে বর্তমান মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলারে পৌঁছেছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করতেন, আর বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করা জনসংখ্যা মাত্র ২০.৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে দেশের জনগণের জীবন বিদ্যুতের ঘাটতির মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। মাত্র এক দশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। সর্বশেষ বিদ্যুতের মোট বার্ষিক উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াট। খাদ্যশস্যের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৫১ লাখ টন। স্বাধীনতার পরেও রপ্তানি আয় ৩৪৮ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৮৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখন ধানের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ এবং মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দেশটির অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ।

শিক্ষা, গড় আয়ু, আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এবং মাথাপিছু আয়ের মতো উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

স্বাধীনতার পরে ১০০ টাকায় ৩৫-৪০ ভারতীয় রুপি পাওয়া যেত, আর এখন ১০০ টাকা সমান ৮৬ ভারতীয় রুপি।

গত বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশকে ‘অপার সম্ভাবনা ও সুযোগের দেশ’ বলেও অভিহিত করেন বাইডেন।

শেখ হাসিনা তার সীমাহীন সাহস ও নেতৃত্ব দিয়ে করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধেও সফলভাবে লড়াই করছেন। কমনওয়েলথের সেক্রেটারি-জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের মতে, শেখ হাসিনা কমনওয়েলথের অন্যতম সফল নারী নেতা, যিনি করোনা মহামারিকে দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করছেন।

* ভারতের দ্য ডেইলি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত লায়েকুজ্জামানের নিবন্ধটি অনুবাদ করেছেন মিছিল খন্দকার। – সমকাল

Development by: webnewsdesign.com