সম্প্রচার চলতে চলতে শনিবার হঠাৎই কিছুক্ষণের জন্য ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল হ্যাকারদের কবলে পড়েছিল। নিউজ বুলেটিন চলাকালীন হঠাৎ করেই টেলিভিশনের পর্দায় একটি মুখোশের ছবি ভেসে ওঠে। তারপরই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ছবি দেখা যায়, যেটির নিচে আগুন জ্বলছে। তার নিচে মাশা আমিনি এবং বিক্ষোভে নিহত আরও তিন নারীর ছবি।
নিজেদের ‘আদালত আলি’ বলে পরিচয় দেওয়া একটি হ্যাকার গ্রুপ এর দায় স্বীকার করেছে। ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নতুন করে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর এ হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটল। খবর বিবিসির।
টিভি স্ক্রিনে মুখোশের পাশপাশি ‘আমাদের সঙ্গে যোগ দিন এবং আওয়াজ তুলুন’ এবং ‘আমাদের তরুণদের রক্ত তোমার থাবা থেকে ঝরছে’ লেখা ক্যাপশন ভেসে ওঠে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির নীতি পুলিশ হিজাব ঠিকঠাক মত না পরার কারণে মাশা আমিনি নামে ২২ বছরের এক তরুণীকে আটক করে। পুলিশি হেফাজতে নেয়ার পর মাশা অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে তিনদিন কোমায় থাকার পর ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান।
মাশার জানাজার দিন প্রথমে কুর্দি অধ্যুষিত শহরগুলোতে এবং পরে পুরো ইরান জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত চার সপ্তাহ ধরে ইরানে টানা বিক্ষোভ চলছে।
এবারের বিক্ষোভে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মত। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
Development by: webnewsdesign.com