গতকাল বলিউডের অনেক জনপ্রিয় গানের গায়ক কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে মারা গেছেন। কলকাতার নজরুল মঞ্চে গান গাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে প্রথমে হোটেল এবং পরে স্থানীয় এক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আচমকা জনপ্রিয় এ গায়কের মৃত্যুতে শোকাহত বলিউডসহ বিশ্বে ছড়িয়ে থাকার কেকের গানের ভক্তবৃন্দ।
কেকের অনাকাঙ্খত মৃত্যুতে শোকাতুর বাংলাদেশের তারকাঙ্গন। এভাবে চলে যাওয়াতে কেউ কেউ হয়েছেন হতবাক। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ঢালিউডের নায়ক শাকিব খান লিখেছেন,‘শান্তিতে থাকুন কেকে। ভালোবাসার কণ্ঠ আপনার। আপনার গান আপনাকে আপনাকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখবে।’
ফেসবুকে কেকের একটি ছবি শেয়ার করে নায়ক সিয়াম আহমেদ লিখেছেন, ‘ভারতের জনপ্রিয় গায়ক কেকে ৫৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। যেখানেই থাকুক শান্তিতে থাকুক তিনি। ’
গায়ক ইমরান মাহমুদুল কেকের ছবি পোস্ট করে লিখেন, কেকে (লাভ ইমো) শান্তিতে থাকুন।
এদিকে এইরমধ্যে এটাকে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনেকেই কেকের এই মৃত্যুকে দেখছেন হত্যা হিসেবে। বাংলাদেশের নন্দিত নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলও এই গায়কের মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে দেখছেন! দাবি করেছেন এই হত্যার বিচারও। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘সারারাত ধরে কলকাতার নজরুল মঞ্চে কেকে’র কনসার্টের ছোট ছোট ক্লিপ আর সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের লেখা থেকে যা বুঝলাম, তাকে জাস্ট মেরে ফেলা হয়েছে। কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ দর্শক প্রবেশ করায় আয়েজকরা। সেটাকে থামাতে না পেরে নজরুল মঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের সব এসি বন্ধ করে দেয়। কেকে বারবার জানান, তার এই গরমে গাইতে কষ্ট হচ্ছ, গানের ফাঁকে বারবার তোয়ালে দিয়ে ঘাম মুছছিলেন! একটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামে হাজার কিলো লাইটের মাঝে এসি ছাড়া কী করে টিকে থাকা সম্ভব, তারপর আবার গান করে যাওয়া।’
কেকে অল্প সময়ের মধ্যে হিন্দিতে প্রায় ৫০০ গান এবং তেলেগু, তামিল ও কন্নড় ভাষায় শতাধিক গানে কণ্ঠ দেন। তিনি বিভিন্ন কর্পোরেট গিগস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ভারত ও বিদেশে ১২০টির বেশি পাবলিক কনসার্টে পারফর্ম করেন। এটি অবশ্যই একজন গায়কের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।
বিখ্যাত গায়ক এই গায়ক ১৯৬৮ সালের ২৩ আগস্ট দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। দিল্লির মাউন্ট সেন্ট মেরি স্কুল থেকে স্কুলজীবন শেষ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেন। ছোটবেলা থেকেই গানের শখ ছিল। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই মঞ্চে গান গাইতেন।
Development by: webnewsdesign.com