কুমার বিশ্বজিৎ। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। সংগীত জীবনের চার দশক পার করেছেন তিনি। এই দীর্ঘ সফর ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে-
সংগীত জীবনের চার দশক পার করেছেন। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখতে পান?
১৯৮২ সালে ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’ গান দিয়েই পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরু। যদিও আরও আগেই আমি গান শুরু করেছি। আমি ক্যারিয়ার গ্রাফকে অন্যভাবে তুলে ধরতে চাই বলেই আশির দশকের শুরু থেকে ক্যারিয়ারের সময়টা ধরেছি। এ সময়ে এসে মনে হয়েছে, আরও কিছু ভালো কাজ করতে পারতাম। আমার কর্মের চেয়ে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি বেশি। কখনোই সংগীতের কোনো বিষয়ে আপস করিনি। ফলে কখনও সফল হয়েছি, আবার হইনি। সংগীতের জন্য অনেক কিছু বিসর্জন দিয়েছি। যখন সংগীত জগতে এসেছি, তখন গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে কাজ করেছি।
৪০ বছর পূর্তি নিয়ে কোনো আয়োজন আছে নিশ্চয়ই…
অবশ্যই। সংগীত জীবনের চার দশক পূর্তি নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। এখন থেকেই বিশেষ মুহূর্তটি উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। আমার সংগীত জীবনে যাঁদের অবদান ছিল, তাঁরা অনেকেই বেঁচে নেই। আয়োজনে তাঁদের স্মরণ করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর কিংবা নভেম্বরে হবে এ অনুষ্ঠান।
এই আয়োজনে আপনার নতুন কিছু থাকছে?
হ্যাঁ। এই আয়োজনের জন্য নিজের গাওয়া কিছু ভালো লাগা গান নতুন সংগীতায়োজনে তৈরি করছি। এরই মধ্যে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। আমি মনে করি, ওই গানগুলোর মধ্যে অনেক সুন্দর কথা আছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। সত্যিকার অর্থে এখন ভালো কথা ও সুরের অভাব রয়েছে।
এই দীর্ঘ যাত্রায় কার অবদানকে বড় করে দেখছেন?
প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। এতদূর আসার পেছনে মায়ের অবদান অনেক বেশি, যিনি আমাকে খুব উৎসাহ জুগিয়েছেন। দীর্ঘ চলার পথে বিভিন্ন সুরকার, সংগীত পরিচালকেরও অবদান রয়েছে। তাঁরা তাঁদের ভালো সৃষ্টি আমাকে দিয়ে গাইয়েছেন।
আপনার শ্রোতাপ্রিয় অনেক গান রয়েছে। নিজের পছন্দের গানগুলোর কথা যদি বলতেন…
৪০ বছরে ৩০টির বেশি জনপ্রিয় গান রয়েছে। স্টেজ শোতে এগুলো গাওয়ার জন্য বেশি অনুরোধ আসে। একাধারে তিন ঘণ্টা গাইলেও অনুরোধের গান শেষ হবে না। এটি আমার জন্য বড় পাওয়া। প্রতিটি গানই আমার কাছে সন্তানের মতো। তাই আলাদা করে বলা মুশকিল। তবে ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’, ‘তুমি রোজ বিকেলে’, ‘যেখানেই সীমান্ত তোমার’, ‘একতারা বজাইও না’- গানগুলো আমাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
‘সংগীত ঐক্য’ সংগঠনের কার্যক্রম কেমন চলছে?
সরকারের কাছে আমরা ১৭টি দাবি দিয়েছি। কিছু দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে। একটু দেরিতে হলেও আমাদের অনেক দাবি পূরণ হবে। সে লক্ষ্যেই সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দাবি পূরণ হলে সংগীত ভুবনের অনেকের মেধা, শ্রম ও সৃষ্টির সঠিক মূল্যায়ন হবে। কোনো শিল্পীকে যেন দুস্থ তকমা নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।
এত দিন আমরা শুধু পিকনিকনির্ভর সংগঠন করেছি। এখন আমরা দাবি আদায়ের জন্য সংগঠন করছি। ৫০ বছরে যে অসংগতি ছিল, তা অনেকটাই গুছিয়ে এনেছি।
Development by: webnewsdesign.com