ব্রেকিং

x

বহিষ্কৃতদের আমরণ অনশন ঘণ্টায় শেষ

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৭:১০ অপরাহ্ণ |

বহিষ্কৃতদের আমরণ অনশন ঘণ্টায় শেষ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাতের পর গত রোববার মধ্যরাতে সংগঠনটির কমিটি স্থগিত এবং ১২ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়। এই স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে আমরণ অনশনের ডাক দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন গুটিয়ে নেন বহিষ্কৃত ১২ নেত্রী।
সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ইডেন শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, দল থেকে আশ্বস্ত করায় তাঁরা আমরণ অনশন এবং অন্য সব কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বহিষ্কৃত এক নেত্রী জানান, আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়ে তাঁরা দুপুর ১টার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢোকেন। ওই সময় সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল আওয়াল শামীমের সঙ্গে কথা হয় তাঁদের। তাঁরা নিজেদের দাবির কথা জানালে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে আশ্বস্ত করেন শামীম। এরপরই অনশন থেকে সরে আসেন বহিষ্কৃত নেত্রীরা।

ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি সোনালী আক্তার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমাদের স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথাও আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। তাই আমরা আমরণ অনশন থেকে সরে এসেছি।’
এর আগে গতকাল সকালে কলেজগেটে ‘বিনা তদন্তে বহিস্কার, নেপথ্যে কারা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী বহিস্কারের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে
আমরণ অনশনের হুমকি দেন তাঁরা। এ ছাড়া এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হলে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে কলেজে ঢুকতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বহিস্কারে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের অপরাধ নির্যাতিত সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ানো। অনতিবিলম্বে এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই।
তাঁরা প্রশ্ন করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি রোকেয়া হলের সাবেক এজিএস ফাল্কগ্দুনী দাস তন্বীকে মারধর করার পরও তাঁকে বহিস্কার করা হয়নি। তাহলে সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় আমাদের বহিস্কার করা হলো কেন? কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ, হাজার হাজার প্রমাণ এবং চাঁদাবাজির ভিডিও, অধ্যক্ষকে নিয়ে কটূক্তির পরও তাঁদের কেন বহিস্কার করা হলো না?
তাঁরা বলেন, ‘গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আমরা ২৫ জন উপস্থিত ছিলাম, তবে শুধু ১২ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে কেন? দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির একজন নাম প্রত্যাহারের পরও কোন তদন্তের ভিত্তিতে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে? দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শুধু এক গ্রুপ কেন বহিস্কারের শিকার হলো? এই স্থায়ী বহিস্কারের পেছনে কারা আছে, সে বিষয়ে জবাব দিতে হবে। দুই রকম সংবাদ বিজ্ঞপ্তির রহস্য উন্মোচন করতে হবে।’
রোববার রাত দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালী আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এসএম মিলি, সাদিয়া জাহান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তারকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়।
এতে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
বহিস্কৃত নেত্রীর সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা :ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ও বহিস্কার-সংক্রান্ত দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসেছে গণমাধ্যমের হাতে। প্রথমে পাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী বহিস্কৃতদের মধ্যে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি তানজিলা আক্তারের নাম থাকলেও পরে পাওয়া বিজ্ঞতিতে তাঁর নাম নেই। বিজ্ঞপ্তি দুটিই ছাত্রলীগের মিডিয়া গ্রুপ থেকে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘টাইপের ক্ষেত্রে হয়তো ভুল ছিল। পরে আমাদের অফিশিয়াল পেজে যেটা সর্বশেষ পোস্ট করা হয়েছে, সেটি ফলো করতে পারেন।’
স্থায়ী বহিস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছিলাম। তবে তারা তদন্ত কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মানে না বলছে। তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ (কেন্দ্রীয়) একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমাদের কাছে যথেষ্ট ভিডিও ফুটেজ আছে, সংগ্রহ করেছি। যথাযথ ডকুমেন্টস আমাদের হাতে আসার পর আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারাই (বহিস্কৃতরা) বিশৃঙ্খলা করেছে।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইডেন কলেজ নেত্রীদের ফোন ধরেন না- বিদ্রোহীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘তারা আমাদের কোনো ফোনই দেয়নি। সবকিছু নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা যে সিট-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির কথা বলছে, এটার কোনো প্রমাণ তো দিতে পারছে না তারা। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার পর থেকেই একটি অংশ বারবার কমিটিকে বিতর্কিত করা চেষ্টা করে যাচ্ছিল।’
ছাত্রলীগের বিচার চাইল ছাত্রফ্রন্ট :ইডেন কলেজে সিট-বাণিজ্য, হল দখল ও শিক্ষার্থী নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, সিট-বাণিজ্য নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর এই বিরোধের জের ধরে উভয় গ্রুপের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের নির্জলা সত্যবচন।
তাঁরা বলেন, হলের সিট বণ্টনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তো নেই, বরং নানা সময়ে ছাত্রলীগের অন্যায় দখলদারিত্বকে পাকাপোক্ত করতে কলেজ প্রশাসনের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com