আজ সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন চলছে। এদিন মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা। সেই সঙ্গে হচ্ছে কুমারী পূজাও। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ রাজ্যের একাধিক অংশে সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাতসকালে স্নান করে খালি পেটে পুষ্পাঞ্জলি দিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করেন ভক্তরা।
বারোয়ারি থেকে বনেদি বাড়ির পূজা, সব জায়গাতেই চলছে অষ্টমীর আয়োজন। বেলুড় মঠ, তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মঠ ও বনেদি বাড়িতে চলছে কুমারী পূজা। বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বিশেষ ভোগের ব্যবস্থা। এসবের পরই আবার সন্ধিপূজার প্রস্তুতি।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে সন্ধিপূজা শুরু হবে বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে। চলবে ৪টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে সন্ধিপূজা শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে, চলবে ৫টা ৪ মিনিট পর্যন্ত।
পুরাণ অনুযায়ী, মহাষ্টমীতেই দেবী দুর্গাকে নানা ধরনের অস্ত্র, পদ্মের মালা, রত্নহার দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলেন দেবতারা। কারণ, পুরাণের মতে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণানবমী তিথিতে দেবতাদের তেজ পুঞ্জীভূত হতে শুরু করে। আর সেই পুঞ্জীভূত তেজ আশ্বিনের সপ্তমী তিথিতে বিশেষ রূপ ধারণ করে। সেই তেজের সাহায্যেই অষ্টমী তিথিতে দেবী মহিষাসুরমর্দিনীকে সাজিয়ে তুলেছিলেন দেবতারা। তাই অষ্টমী পূজায় অঞ্জলি দেওয়ার জন্যই ভক্তদের থাকে বাড়তি উৎসাহ। বলা হয়ে থাকে মহাষ্টমীতে দেবীর পূজা করার সময় সঠিক নিয়ম মেনে চললে কর্মক্ষেত্রে বাধা দূর হয়। জীবনে কখনো আর্থিক দিক থেকে অবনতি ঘটে না। সবসময় সাফল্য আসে।
অষ্টমী পূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। দীর্ঘ দুই বছর মহামারির কারণে সতীপীঠ তারাপীঠে বন্ধ ছিল কুমারী পূজা। এবার মন্দিরের সেবাইত গোলক মহারাজের উদ্যোগে ফের কুমারী পূজা শুরু করা হলো। করা হয় যজ্ঞের আয়োজন। তারাপীঠের মা তারাকেই আজ দুর্গা রূপে পূজা করা হয়। তারাপীঠের সেবাইতরা মনে করেন, সব দেবীর ঊর্ধ্বে মা তারা। তাই তারাপীঠ মন্দিরে কোনো দেবী মূর্তি পূজার চল নেই। মা তারাকেই সমস্ত দেবী রূপে পূজা করা হয়। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে এই রীতি।
তবে অষ্টমীতে বেলুড় মঠের কুমারী পূজা কলকাতার অন্যতম ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মাহাত্ম। শ্রী শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবনা থেকেই বেলুড়ে কুমারী পূজার শুরু। ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে কুমারী পূজার সূচনা করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। মা সারদার উপস্থিতিতে শঙ্খ, বাদ্য, অর্ঘ্য, বলয় ও বস্ত্রাদি সহযোগে ৯ জন কুমারীকে পূজা করেছিলেন তিনি। চিরাচরিত সেই রীতি অনুযায়ী মৃন্ময়ী উমার পাশাপাশি পূজিত হন কুমারী দেবীও। গায়ে লাল বেনারসি শাড়ি, কপালে চন্দন, হাতে পদ্ম ফুল, আর ছোট্ট মুখে পরিতৃপ্তি হাসি। এই ভাবেই দেবী রূপে সেজে ওঠেন কুমারী। এবার বেলুড় মঠে কুমারী হিসাবে পূজিত হয়েছেন কোন্নগরের বাসিন্দা পাঁচ বছর দুই মাস বয়সী আরাত্রিকা রায়।
Development by: webnewsdesign.com