ব্রেকিং

x

বিরোধী নেতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের নির্দেশ সংবিধান পরিপন্থী: মির্জা ফখরুল

শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৮:৪৪ অপরাহ্ণ |

বিরোধী নেতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের নির্দেশ সংবিধান পরিপন্থী: মির্জা ফখরুল
ফাইল ছবি

সারাদেশে পুলিশের বিশেষ শাখার নির্দেশনায় বিরোধী নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের তথ্য সংগ্রহের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটা সংবিধান পরিপন্থী। দেশের প্রচলিত কোনো আইন বা বিধি বিধানের আওতায় পুলিশ এটা করতে পারে না। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। যা নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমানোর জন্য এটা করা হয়েছে। যে সকল অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এ ধরনের অবৈধ হীন কাজের সাথে জড়িত দেশের মানুষ তাদের চিহ্নিত করে রাখবে।

আজ শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকাস্থ স্পেশাল ব্রাঞ্চ হেডকোয়ার্টার বরাত দিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার গত ২৫ সেপ্টেম্বর জেলার সকল থানার ওসিদেরকে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের রাঙ্গামাটি জেলার কমপক্ষে ৮ জন শীর্ষ ব্যক্তি, প্রতি উপজেলার শীর্ষ ৫ ব্যক্তি এবং রাঙ্গামাটি জেলার সকল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের অধীন কমপক্ষে ৫ ব্যক্তি, যারা বর্তমান সরকারবিরোধী চলমান গণআন্দোলনে ‘জনবল সংগঠক’ বা অর্থায়ন করে কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করে, এমন ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য যেমন- ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নং ইত্যাদি সংগ্রহ করে তার কাছে প্রথমে ইমেইলে এবং পরে হার্ডকপি পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার নির্দেশনা অনুযায়ীই এই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে যে, সারাদেশের সকল জেলার পুলিশ সুপার নিজ নিজ এলাকার সকল থানার ওসিকে উপরোক্ত বেতার বার্তা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহের জন্য অনুরূপ নির্দেশনা জারি করেছেন যা অত্যন্ত ভয়ংকর, অপ্রত্যাশিত, অসাংবিধানিক, এখতিয়ার বহির্ভূত, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণবিধি পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক দল তথা গণমানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আন্দোলন সমাবেশ করার মৌলিক অধিকার বিরোধী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করার জন্য রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অত্যাচার-নির্যাতনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক মেরুদণ্ডও ভেঙে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। বেতার বার্তাটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করেছে যা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র, আইনের শাসন, আইনানুগ সংস্থা ও সমাবেশের নিশ্চয়তা, জনগণের বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইন অনুযায়ী সমানভাবে আচরণ করার অধিকারের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে আদালতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। এখন দেশের মানুষকে আপনাদের মাধ্যমে জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভীত হয়ে আছে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে। সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিলে তাদের ভরাডুবি হবে জেনেই তারা চায় যাতে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে। কিন্তু সেই অপচেষ্টা জনগণ মানবে না। সময় হলেই এই সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে নামবে বিএনপি তার মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, এই ধরনের সার্কুলার পুলিশের আইনেও নেই, সংবিধানেও নেই- কোথাও নেই। অতীতে কোনো সরকারই স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই ধরনের সার্কুলার পুলিশের মাধ্যমে ইস্যু করে নাই।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এটা করার অধিকার কারো নেই। এসব করে জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা হচ্ছে। সংবিধান এটা এলাউ করে না।

বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই সার্কুলার সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেই

মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের যেসব রাজনৈতিক দল বিশ্বাস করেন- এই সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে শুধু তাদের সঙ্গেই বিএনপি সংলাপ করছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের কোনো সুযোগ নেই, প্রশ্নই উঠে না।

নির্বাচন নিয়ে সরকার আলোচনায় ডাকলে যাবেন কিনা- প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রশ্নই উঠতে পারে না। দাবি না মানা পর্যন্ত কোনো আলোচনার সুযোগ নেই, কোনো আলোচনা হবে না।

যুগপৎ আন্দোলন কবে নাগাদ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করছি। সময়টা এখনই বলা যাবে না। সেই সংলাপ যখনই শেষ হবে তখন বলতে পারব।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com