ব্রেকিং

x

অর্থনীতি ডেস্ক

প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই পুনর্ব্যবহার করতে হবে

রবিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২২ | ১০:১৮ অপরাহ্ণ |

প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই পুনর্ব্যবহার করতে হবে
সংগৃহীত ছবি

পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। তবে সঠিক কাঠামোর অভাবে যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না। এ সমস্যার বড় সমাধান হতে পারে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও দেশের অন্যতম নিত্যব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে এমন অভিমত দেন বক্তারা। শনিবার রাজধানীর শেরাটন বনানী হোটেলে ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য নীতি সহায়তা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনানুষ্ঠানিক হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি উপযোগী কাঠামো দরকার। এটি লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা টেকসই হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভ্যালু চেইনের অংশীদারদের ক্ষমতায়ন ও অনানুষ্ঠানিক খাতকে সামগ্রিক সহযোগিতা করতে হবে। ভ্যালু চেইনে অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ভাঙারি ও বর্জ্য সংগ্রাহকরা রয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংশ্নিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে নীতি প্রণয়ন জরুরি। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে টেকসইভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভিশন ২০৪১-এ টেকসই নগরায়ণ লক্ষ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জিডিপি বৃদ্ধির সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে প্লাস্টিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব এ খাতে মূল চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশের মতো বর্জ্য সংগ্রহের উৎসেই বিভিন্ন বর্জ্য আলাদা করা হলে সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত সহজ হবে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও এমডি জাভেদ আখতার বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে কিছু পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইউনিলিভার। এসব উদ্যোগ যথাযথ সহযোগিতা না পেলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহিত হবে না।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক খাত দেশের সব শিল্পের সহযোগী চালিকাশক্তি। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি সংস্থার আরও বিনিয়োগ ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানো দরকার।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও এফবিসিসিআইর প্যানেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসাইন।

মূল প্রবন্ধে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসাইন বলেন, সরকার নীতি পর্যায়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতার অভাব রয়েছে। যে কারণে সঠিক প্রক্রিয়ায় বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ ও উৎসে বর্জ্য পৃথক করা যাচ্ছে না।

প্যানেল আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ইউ জু এলিসন এল বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক। আলোচনায় আরও অংশ নেন এফবিসিসিআইর প্যানেল উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সচিব ইকবাল হাবিব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মইনুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও খাদেম মাহমুদ ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আলমগীর, মো. আমিন হেলালী, হাবীব উল্ল্যাহ ডন প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিচালক ও করপোরেট কমিউনিকেশন ও পার্টনারশিপ প্রধান শামীমা আক্তার।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com